|
শপথ ভঙ্গের অভিযোগে রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি, আইনি নোটিশ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() শপথ ভঙ্গের অভিযোগে রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি, আইনি নোটিশ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির এ নোটিশ পাঠান। নোটিশটি সংসদ সচিবালয় ও আইন সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) নিশ্চিত করেছেন। আইনি নোটিশে বলা হয়, জুলাইকে অসম্মান করে সাম্প্রতিক বক্তব্য দেওয়ায় শপথ ভেঙেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাই তাকে অপসারণ করে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উদ্বোধন করাতে সংসদ সচিবালয় ও আইন সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নোটিশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠকে একটি সাক্ষাৎকার দেন, যা ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে অবমাননা করেছেন এবং প্রকৃত সত্য বিকৃত ও মনগড়া বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন—এমন অভিযোগ আনা হয়। এতে বলা হয়, তিনি শপথভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বে বহাল থাকার আইনগত অধিকার হারিয়েছেন। নোটিশে দাবি করা হয়, সাক্ষাৎকারে তিনি গৌরবময় জুলাই অভ্যুত্থান ও জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেননি; বরং অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। এছাড়া নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি তার বিদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি গোপন রেখেছেন এবং তা পরিত্যাগ করেছেন—এ মর্মে কোনো প্রমাণ দাখিল করেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও দাবি করা হয়, যা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ নেই। নোটিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়েরের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বলা হয়, তার কর্মকাণ্ডের ফলে আরাফাত রহমান কোকো দেশে থাকতে পারেননি এবং যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বেগম খালেদা জিয়াও তথাকথিত মামলার কারণে স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন বলে দাবি করা হয়। উপর্যুক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে নোটিশে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন, বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছেন। ফলে তার রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকার এখতিয়ার নেই এবং তিনি সংসদের প্রথম অধিবেশনে উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ারও যোগ্য নন। চিঠি প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতির নাম মনোনয়ন ও ঘোষণা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে তিনি সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। অন্যথায়, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এ আবেদন জনস্বার্থ, জনগণের উদ্দেশ্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে করা হয়েছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
