|
বিমানের সেই ফিরোজকে দেওয়া হলো অবসর
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বিমানের সেই ফিরোজকে দেওয়া হলো অবসর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিমানের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) উম্মে কুলছুমের সই করা এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। আদেশের একটি কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। বিমানের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিমান সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ-উজ-জামান (পি-৩৬৫০৭) ১৯৯৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে গ্রাহক সেবা পরিদপ্তরে যোগ দেন। দীর্ঘ চাকরিকালে তিনি দায়িত্ব ও পদমর্যাদার সীমা অতিক্রম করে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম ও আর্থিক অনাচারে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ডিউটি রোস্টার ও হজ পোস্টিং প্রক্রিয়াকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নিয়ে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি। তদন্তে একাধিক সাক্ষ্য, লিখিত জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি নিয়মিতভাবে অফিস চলাকালে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান না করা এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার মতো শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনাতেও জড়িত ছিলেন। নারী সহকর্মীদের সঙ্গে দাফতরিক পরিধির বাইরে অশোভন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো, কু-প্রস্তাব দেওয়া, জুনিয়র কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধার করা টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। এসব আচরণকে কর্মক্ষেত্রে অনৈতিক ও পেশাগত বিধি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। ২০ নভেম্বর তিনি লিখিত জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং অভিযোগের প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়। সবশেষে অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হলে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ তার আবেদন গ্রহণ করে অবসর মঞ্জুর করে। বিমানের একটি সূত্র জানায়, তার একগুঁয়ে ও বেপরোয়া আচরণে দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীরা অতিষ্ঠ ছিলেন। কেউ তার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতেন। ফলে অভিযোগের বিষয়গুলো সামনে এলেও অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। কর্তৃপক্ষ বলছে, তার কর্মকাণ্ড শুধু প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকেই বিপন্ন করেনি, বরং বিমানের ভাবমূর্তি ও সুশাসনের প্রতি আস্থাও ক্ষুণ্ণ করেছে। এসব অনিয়ম বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯-এর একাধিক ধারায় অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে। বিমান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট খাতে অপার সম্ভবনাময় অতিথি গ্রুপ
কুড়িগ্রামে অতি উচ্চমাত্রার ক্রিস্টাল মেথ আইস মাদকসহ ১ ব্যক্তি আটক
পাইকগাছায় বিএনপির বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পে সেবা নিলেন ৩ হাজার, ৫ শতাধিক রুগীর ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা
কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, এ অঞ্চলে সর্বাধিক বরাদ্দ দেয়ার অঙ্গিকার
