ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৯ মাঘ ১৪৩২
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এআই–এসওসি পরিকল্পনায় অগ্রগতি, তবে বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 10 February, 2026, 8:49 AM

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এআই–এসওসি পরিকল্পনায় অগ্রগতি, তবে বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এআই–এসওসি পরিকল্পনায় অগ্রগতি, তবে বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা

এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় (এপিএসি) অঞ্চলে সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (এসওসি)-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও বাস্তবায়নের পথে নানা চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ অঞ্চলের ৯৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এসওসিতে এআই গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ বলেছে তারা সম্ভাব্যভাবে এআই ব্যবহার করবে, আর ৩২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো আশা করছে, এআই ব্যবহার করলে হুমকি শনাক্তকরণ আরও উন্নত হবে (৬০%), স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো যাবে (৫৫%) এবং অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা বা ফলস পজিটিভ কমবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে শনাক্তকরণ দক্ষতা বাড়ানো, নিয়মিত ও পুনরাবৃত্ত কাজ স্বয়ংক্রিয় করা এবং এসওসির সামগ্রিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা—যা বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

ক্যাসপারস্কির এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যাড্রিয়ান হিয়া বলেন, এপিএসি অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলো এসওসিতে এআই ব্যবহারে বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিচ্ছে। তারা এমন ব্যবহারক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা দ্রুত কার্যকর ফল দেয়। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় অস্বাভাবিকতা বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুমকি শনাক্তকরণ জোরদার করা এবং পূর্বনির্ধারিত অটোমেশনের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো, এই দুই ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যাশা বেশি। এর মাধ্যমে অ্যালার্ট ক্লান্তি কমানো এবং নিরাপত্তা টিমকে নিয়মিত কাজের চাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে। যেখানে বড় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বিস্তৃত এআই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, সেখানে এপিএসি কোম্পানিগুলো দৈনন্দিন নিরাপত্তা কার্যক্রম শক্তিশালী করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

তবে আগ্রহ ও পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফাঁক রয়ে গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসম্মত প্রশিক্ষণ ডেটার ঘাটতি (৪৪%), দক্ষ জনবলের অভাব (৩৭%), এআই-সম্পর্কিত নিরাপত্তা ঝুঁকি, সিস্টেম সমন্বয়ের জটিলতা (৩৪%) এবং উচ্চ ব্যয় (৩৩%) এসব কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সফলভাবে এসওসি-তে এআই বাস্তবায়ন করতে পারছে না।

ক্যাসপারস্কির চিফ টেকনোলজি অফিসার অ্যান্টন ইভানভ বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝতে পারছে এআই যে এসওসিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু পরীক্ষামূলক ব্যবহার থেকে বাস্তব প্রভাব তৈরি করা এখনো চ্যালেঞ্জ। এখানে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ঘাটতি যেমন রয়েছে, তেমনি এআই বিশেষজ্ঞও খুব সীমিত। তাই নিজস্বভাবে এসওসিতে এআই সক্ষমতা গড়ে তোলা অনেকের জন্য এখন কঠিন লক্ষ্য। এ কারণেই সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যে এআই-চালিত ফিচার যুক্ত করছে। গত এক বছরে আমরা আমাদের বিজনেস পোর্টফোলিও জুড়ে এআই-সমর্থিত টুল যুক্ত করেছি, যাতে জটিল হুমকি দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং সমাধানগুলো আরও কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব হয়।

বিশ্বস্ত ও কার্যকর এসওসি গড়ে তুলতে ক্যাসপারস্কি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের এসওসি কনসালটিং সেবা গ্রহণ, ক্যাসপারস্কি এসআইইএম-এর মাধ্যমে পারফরম্যান্স উন্নত করা, ক্যাসপারস্কি নেক্সট দিয়ে সুরক্ষা জোরদার করা এবং ক্যাসপারস্কি থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে হুমকি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এসব সমাধান এআই-নির্ভর বিশ্লেষণ ও সক্ষমতার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status