ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১১ মে ২০২৬ ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
এনইআইআর চালুর পর দেশে ‘ক্লোন ফোন’-এর ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 3 January, 2026, 1:42 PM

এনইআইআর চালুর পর দেশে ‘ক্লোন ফোন’-এর ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ

এনইআইআর চালুর পর দেশে ‘ক্লোন ফোন’-এর ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ

জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ‘ক্লোন’ ও নকল ফোনের যে ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে এসেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে লক্ষ লক্ষ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই (IMEI) নম্বর সচল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে “1111111111111”, “0000000000000”, “9999999999999”-এর মতো অবাস্তব ও একই প্যাটার্নের আইএমইআই, যেগুলো প্রযুক্তিগতভাবে কখনোই বৈধ হতে পারে না।

তথ্য অনুযায়ী, এসব ভুয়া আইএমইআই এখনই ব্লক করা হচ্ছে না। জনজীবনে হঠাৎ বড় ধরনের যোগাযোগ বিপর্যয় এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার এসব ডিভাইসকে আপাতত ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করেই যোগাযোগ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ গ্রাহক।

উদ্বেগের বিষয় হলো—এই ফোনগুলোর কোনো রেডিয়েশন টেস্ট, স্পেসিফিক অ্যাবসর্পশন রেট (SAR) টেস্ট কিংবা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরীক্ষার কোনো প্রমাণ নেই। অর্থাৎ এসব ডিভাইস ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও তথ্যনিরাপত্তা—দুটোই মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।

এনইআইআর ডাটাবেজ বিশ্লেষণে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিগত ১০ বছরে শুধুমাত্র একটি আইএমইআই নম্বর “99999999999999”-এর বিপরীতে নেটওয়ার্কে শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ (ডকুমেন্ট আইডি+এমএসআইএসডিএন+আইএমইআই কম্বিনেশন)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আইএমইআই স্মার্টফোনের পাশাপাশি বিভিন্ন আইওটি (IoT) ডিভাইসেরও হতে পারে। তবে অপারেটররা মোবাইল সেট, সিম-সংযুক্ত ডিভাইস ও আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদাভাবে শনাক্ত করতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে বৈধভাবে আমদানি করা আইওটি ডিভাইস আলাদাভাবে ট্যাগ করার কাজ শুরু করেছে।

শীর্ষ ডুপ্লিকেট আইএমইআইয়ের তালিকাও ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইএমইআই ৪৪০০১৫২০২০০০-এর বিপরীতে সচল রয়েছে ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮টি ডিভাইস, ৩৫২২৭৩০১৭৩৮৬৩৪ নম্বরে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৪৮টি এবং ৩৫২৭৫১০১৯৫২৩২৬ নম্বরে ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৫৭১টি ডিভাইস। এমনকি ‘০’ আইএমইআই নম্বরেই পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস। এভাবে এক লাখের বেশি সচল থাকা ফেক ও ডুপ্লিকেট আইএমইআইয়ের একটি বিশাল তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা দেখলে যে কেউ চমকে উঠবেন।

অপরাধ ও আর্থিক জালিয়াতির সঙ্গেও এসব অবৈধ ফোনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সংঘটিত ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসে। বিটিআরসি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সংঘটিত ই-কেওয়াইসি জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই হয়েছে অবৈধ বা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে। একই বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার ফোন চুরির রিপোর্ট হলেও এর অধিকাংশই উদ্ধার হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নতুন ফোন’ নাম দিয়ে এভাবে নাগরিকদের কাছে নকল ও ক্লোন ফোন বিক্রি করা এক নজিরবিহীন প্রতারণা। জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status