|
আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে আনঅফিসিয়াল মোবাইল ব্যবসায়ীদের তাণ্ডব
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে আনঅফিসিয়াল মোবাইল ব্যবসায়ীদের তাণ্ডব বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে কয়েকশ’ উত্তেজিত আনঅফিসিয়াল মোবাইল ব্যবসায়ী সংঘবদ্ধভাবে বিটিআরসি ভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল গড়াতেই আনঅফিসিয়াল ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। প্রথমে স্লোগান, পরে হুমকি—এরপরই পরিস্থিতি রূপ নেয় চরম সহিংসতায়। ‘ভাঙ, ভাঙ, গুঁড়িয়ে দে’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশ হঠাৎ করেই বিটিআরসি ভবন লক্ষ করে ঢিল ছোড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কাচ ভাঙার শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ভবনের প্রধান প্রবেশপথ, সামনের কাচের দেয়াল, ট্রেনিং রুম ও নামাজঘরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নির্বিচারে ভাঙচুর চালায়। বিটিআরসি ভবনের মসজিদের চলমান নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়। ভয়াবহ বিষয় হলো হামলার সময় মসজিদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ আদায়ে ব্যস্ত ছিলেন। বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকলেও অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তারা। সূত্র জানায়, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুই দিকের রাস্তা থেকে একযোগে ঢিল নিক্ষেপ করে। বিনিয়োগ বোর্ডের গলিতে অন্তত অর্ধশতাধিক হামলাকারীকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে বিটিআরসি ভবনের সামনের কাচের দেয়াল চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অফিসের ভেতরের আসবাব ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও। এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) কার্যক্রম স্থগিত ও নীতিমালায় সংশোধনের দাবিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও গত ৭ ডিসেম্বর একই দাবিতে বিটিআরসি ভবনের সামনে অবরোধ করে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি। তখন আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও এবার সরাসরি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার পথ বেছে নেয় অসাধু চক্রটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এটি শুধু ভাঙচুর নয় এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ওপর ভয়ংকর বার্তা। লাগেজ ফোন ব্যবসা রক্ষার নামে এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতে থাকলে ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। ঘটনার পর বিটিআরসি ভবনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে এত বড় হামলার পরও হামলাকারীরা কীভাবে নির্বিঘ্নে তাণ্ডব চালাল? দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
