ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
পদ্মার চরের নিয়ন্ত্রণ: অস্ত্রধারী ছাড়া বাকি সবাই ‘বোবা’
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 4 December, 2025, 10:32 AM

পদ্মার চরের নিয়ন্ত্রণ: অস্ত্রধারী ছাড়া বাকি সবাই ‘বোবা’

পদ্মার চরের নিয়ন্ত্রণ: অস্ত্রধারী ছাড়া বাকি সবাই ‘বোবা’

নাটোরের লালপুরের গৌরীপুর ও লক্ষ্মীপুর ঘাট থেকে নৌকায় করে পদ্মা নদীর ভেতরের বালুমহাল দেখতে যেতে চাইলে অনেকেই নিরুৎসাহিত করলেন।

আগ্রহ দেখে কেউ কেউ ঘাবড়ে গেলেন। একজন বললেন, “ওখানে কেন? জায়গাটা তো ভালো না!”

তা ঠিক; মাত্রই তিনটি খুন হয়েছে। বেশ কয়েকজন মাঝিকে অনুরোধ করেও রাজি করানো গেল না। বালুমহালে যেতে চাওয়ায় কথা না বাড়িয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন। শেষমেষ পরিচিত একজনকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করানো গেল।

গৌরীপুর, লক্ষ্মীপুরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। পশ্চিমে রাজশাহীর বাঘা, পূর্বে পাবনার ঈশ্বরদী আর দক্ষিণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা।

পদ্মার প্রবাহের নানা পরিবর্তন এবং গতিপথ বদলের কারণে নদী এলাকায় তৈরি হয়েছে বিস্তীর্ণ বালুচর। মূল নদীতে পড়তে হলে আগে সরু খাল বা ছোট নদী বেয়ে যেতে হয়।

তেমনি এক ছোট নদী পার হয়ে পদ্মায় নামার আগে থেমে যায় নৌকা। মাঝির মোবাইলে বারবার ফোন আসতে থাকে। মাঝিকে একটু উদ্বিগ্ন মনে হয়।

তিনি কাছে এসে বললেন, “ভাই, পদ্মায় নামা যাবে না। কাঁকন বাহিনীর অনুমতি না নিয়ে ওখানে যাওয়া যাবে না। নৌকা ঘুরাতে হবে।”

মাঝিকে অভয় দিয়ে বা বুঝিয়েও কোনো কাজ হল না। নৌকা ঘুরে আবার খাল-নদী বেয়ে গৌরীপুর ঘাটে ফিরে এল।

ঘাটে আরেক মাঝি বললেন, “কাঁকন বাহিনীর অনুমতি ছাড়া পদ্মায় গেলে রাতেই মরতে হত।”

মাঝির কথার সুর পাওয়া গেল পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইনের কথাতেও। তিনি চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাটোরের পুলিশ সুপার ছিলেন। বর্তমানে আছেন গাজীপুরের শিল্প পুলিশে।

তিনি বলছিলেন, “পদ্মার চরাঞ্চল তো সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল। দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওখানে যায়নি, যেতে পারেনি। কাঁকন গ্রুপের অত্যাচারে সাধারণ জনগণ নিষ্পেষিত।

“কৃষকদের মারধর করে ফসল কেড়ে নেওয়া, জেলেদের অস্ত্র ঠেকিয়ে মাছ ছিনিয়ে নেওয়া, প্রতিটি বালুবাহী নৌকা থেকে চাঁদাবাজি এবং পদ্মার চরে ত্রাস, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা কাঁকন বাহিনীর প্রতিদিনের কাজ।”

‘কথার আগে গুলি চলে’

লালপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর বিশাল জলরাশি অথবা বালুচর দেখতে অপরূপ, নৈসর্গিক। কিন্তু গোটা চরাঞ্চলজুড়ে পরতে পরতে ভয় আর আতঙ্ক। এখানে অনেকগুলো বাহিনী নিজের জন্য এক ‘রাজ্য’ তৈরি করে নিয়েছে। তারাই সর্বেসর্বা।

সাধারণ মানুষ এসব বাহিনীকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দিয়ে মাছ ধরে, ফসল ফলায়, পশুপালন ও জীবনধারণ করে। চাঁদাবাজি ছাড়াও বাহিনীর সদস্যরা অবৈধভাবে বালু তোলে। নৌকা থেকেও চাঁদাবাজি করে।

লালপুরের লক্ষ্মীপুর ঘাটের এক মাঝি বলছিলেন, “এখানে কথার আগে গুলি চলে; আর মানুষ বোবার মত থাকে।”

২৭ অক্টোবর দুপুরে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সীমান্তে পদ্মার মোহনায় নিজেদের দখলে থাকা জমিতে খড় কাটছিলেন কয়েকজন। এর মধ্যে বাঘা উপজেলার খানপুর এলাকার বেলাল হোসেন, মুন্তাজ ও লাভলুর লোকজন ছিলেন।

এ সময় দৌলতপুরের দিক থেকে আসা ‘কাঁকন বাহিনীর’ লোকজন তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। যারা খড় কাটছিলেন, তারাও পাল্টা গুলি চালান। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেঁধে যায়। গুলিবিদ্ধ হন চারজন।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আমান মণ্ডল ও নাজমুল মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ‘কাঁকন বাহিনী’র সদস্য লিটনও (৩০) নিহত হন।

এর আগে চলতি বছরের ৫ জুন ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়াঘাটে বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ নিতে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি, ৫ মে দিন-দুপুরে নদীপথে স্পিডবোট ও ট্রলারে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করা, ৯ জুন সাড়া ইসলামপাড়া বালুঘাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার যুবলীগ কর্মীকে নৌকাসহ তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করা, ১২ জুলাই দুপুরে ঈশ্বরদী ঘাটে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সবগুলো ঘটনার পেছনে ‘কাঁকন বাহিনী’র হাত রয়েছে।

এসব ঘটনায় পদ্মার চরে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাতে কয়েকজন গ্রেপ্তার আর কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হলেও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা থামেনি।

সবশেষ তিন খুনের ঘটনায় ৯ নভেম্বর বিস্তীর্ণ চরাচঞ্চলে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর ৬৭ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’।

তবে স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেন, এই বিশাল সাম্রাজ্য ‘বাহিনীগুলো’ একা সামলাতে পারে না। অসৎ পুলিশ সদস্য ও রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজস আছে এদের সঙ্গে। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনও এমন অভিযোগ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য ‘কাঁকন বাহিনী’র কাছে ঘুষ নেয়–এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “নামগুলো আমরা উড়াই দিচ্ছি না। নামগুলো কারা লিখছে, এগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি। কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কিছু সাংবাদিক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর- সবগুলো লিস্ট আমাদের কাছে আসছে। বিভাগীয় তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে দোষী প্রমাণিত হলে।”

প্রকৌশলী থেকে ‘বাহিনী-প্রধান’

চরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়া গ্রামের জমির মাস্টারের ছেলে রোকনুজ্জামান কাঁকনের বয়স ৫০-৫৫ বছরের মত। ১৯৯৪ সালে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি পান। তখন অনেকেই তাকে ‘কাঁকন ইঞ্জিনিয়ার’ বলতেন।

২০০১ সালের দিকে এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তিনি পরিবার নিয়ে দৌলতপুর থেকে পাশের ঈশ্বরদী উপজেলায় চলে যান এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেন। এরপর কিছুদিন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ২০০৭ সালে তিনি সৌদি আরবে চলে যান।

কয়েক বছর পর তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। তখন আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে পদ্মা নদীর বালুমহালগুলোর নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করেন। এই বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই তিনি গড়ে তোলেন ‘কাঁকন বাহিনী’, এখন শতাধিক অস্ত্রধারী যার সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে লালপুর, বাঘা ও ঈশ্বরদী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

তারা দৌলতপুর, ভেড়ামারা, ঈশ্বরদী ও লালপুর এলাকায় থেকে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করেন এবং চাঁদা তোলেন। পদ্মা নদী দাপিয়ে বেড়ানোর জন্য তাদের রয়েছে নিজস্ব স্পিডবোট।

পুলিশের একজন সদস্য বলছিলেন, পদ্মার চরে ‘কাঁকন বাহিনী’ ছাড়াও ‘মণ্ডল বাহিনী’, ‘টুকু বাহিনী’, ‘সাঈদ বাহিনী’, ‘লালচাঁদ বাহিনী’, ‘রাখি বাহিনী’, ‘শরীফ কাইগি বাহিনী’, ‘রাজ্জাক বাহিনী’, ‘চল্লিশ বাহিনী’, ‘বাহান্ন বাহিনী’, ‘সুখচাঁদ বাহিনী’ ও ‘নাহারুল বাহিনী’ সক্রিয়।

পদ্মা নদীর এক মাঝি বলেন, ‘কাঁকন বাহিনী’র মতই সক্রিয় রয়েছে ‘মন্তাজ-রবি বাহিনী’। তারা ঈশ্বরদীর এক বিএনপি নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

“তারা চরের জমি ও বালু দখল নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলি করে। তাদের চাঁদা না দিয়ে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারেন না, গরু-ছাগল পালতে পারে না, জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারে না।”

তবে এসব বাহিনীর বিরুদ্ধে চরের কোনো মানুষ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। কথা বলার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেও ‘কাঁকন বাহিনী’র কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

ঝুঁকিতে মানুষের বাড়ি-জমি

লালপুরের দিয়াড় বাহাদুরপুরে বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন ‘কাঁকন বাহিনী’-সমর্থিত মোল্লা ট্রেডার্স। অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্ধারিত এলাকা বাইরে গিয়েও অবৈধভাবে বালু তুলছে। এর ফলে ভেঙে যাচ্ছে পদ্মার পাড়, বসতবাড়ি। বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি; আর ঝুঁকিতে পড়ছে পদ্মার চরের মানুষের জীবন-জীবিকা।

লালপুরের তিলকপুর এলাকার কৃষক সিদ্দিক আলী বলেন, “আমাদের জমি-টমি, বাড়িঘর সব ভ্যাঙ্গি যাবি। ৬০-৭০ হাত নিচ থেকি চুষুক লাগাচ্চে। কয়েক দিনের ভিতরে এক হাজার বিগি ভ্যাঙ্গি গিছে। বালু তুলছে, এইজন্য ভাঙ্গি য্যাচ্ছে।

“আমরা চাই, নাটোরের মদদে কোনো বালু কাটা নাই হয়। গরিব মানুষ, এডিই আমরা চাই। এট থেকি উটি গেলে এক কাটা জমি কিনার টেকা আমারে নাই।”

আশরাফুল নামে পদ্মা পাড়ের আরেক বাসিন্দা বলেন, “এইভাবে বালু কাটলে, আমাদের আবাদের মাঠ থাকপি না। আমরা চাই, যেখানে আবাদের ক্ষতি না হয়, সেইখানে যায়ে কাটুক। আর এভাবে কাটলে আস্তে আস্তে আমাদের বাড়িঘর সব ডুবি যাবি। আবাদ না হলে আমরা কিভাবে খাব?”

উত্তর লালপুর এলাকার শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভাঙছে, ফসলের জমি নষ্ট হচ্ছে, বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে।

“এতে আসলে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, তারা যেন এর একটি সুষ্ঠু সমাধান করেন।”

চর দক্ষিণাপুর এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলছিলেন, “পদ্মা পাড়ে সাধারণত গরিব মানুষই বেশি। হয়ত, দুটো হাঁস, দুটো মুরগি, দুটো ছাগল-গরু এই পুষে আমাদের জীবনটা কাটে। হয়ত কিছু জোতজমিও আছে চাষাবাদের। বালু এমনভাবে কাটছে, যে কারণে আমাদের ফসলি বা আবাদি জমি ভেঙে যাচ্ছে। ভরাটগুলো একটু দূর থেকে কাটলে আমাদের এই সমস্যা আর হত না।”

ভাঙনের ফলে গত পাঁচ বছরে চরাঞ্চলের প্রায় ৭০ হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে লালপুর শহরও হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড়।

তিনি বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কৃষকেরা এই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে করে আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফসল কম পাচ্ছি আমরা। আমাদের তরফ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি। এরপরে কোনো ব্যবস্থা নিতে বলা হলে প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা তা গ্রহণ করব।”

‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হার্ডিঞ্জ ব্রিজও হুমকিতে’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শতবর্ষী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ হুমকিতে পড়ছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী এম সারোয়ার জাহান বলেন, “যেভাবে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে, সেটাকে দস্যুতাই বলা যায়। এটা নিশ্চিতভাবেই পদ্মা নদীর পাশের স্থাপনাগুলোকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। নদী গতিপথের সঙ্গে তাদের স্থায়িত্ব নির্ভর করে, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন হলে স্থাপনাগুলো হুমকিতেই থাকছে। এটা জাতির জন্যেও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”

তিনি বলেন, “পদ্মা নদী যেহেতু শিফটিং চ্যানেলের মধ্যে কাজ করে (অর্থাৎ শিফট করে সবসময়), তাই যে কার্যক্রমই আমরা গ্রহণ করি না কেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে সরকারেরও সতর্ক থাকা উচিত। অপরিণামদর্শী যে ঘটনা ঘটবে, সেটা নদীর গতিপথ, পরিবেশ, আমাদের রাষ্ট্রীয় স্থাপনা সবগুলোর জন্যই হুমকি হবে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বাঁচিয়ে রাখা।”

প্রশাসন যা বলছে

নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, “সেনাবাহিনী, নৌপুলিশ ঘন ঘনই সেখানে যাচ্ছে। কোনো তথ্য পেলেই আমরা সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান চালাচ্ছি। ভীতিকর কিছু ঘটলে অবশ্যই আমরা সেখানে ব্যবস্থা নেব।”

তিনি বলেন, “আর বালুমহাল যেটা আছে, সেটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তো আমাদের ইজারা দিতেই হচ্ছে। এর বাইরে যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হয়, নদীর গতিপথ পরিবর্তন তো হবেই। সেটা প্রকৃতির জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর। নিদিষ্ট এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন তারা কোনোভাবেই করতে পারে না, এটা নিয়মনীতি বহির্ভূত। বাইরে গিয়ে বালু তুললে অবশ্যই আমরা তাদের ধরব, আইনের আওতায় আনা হবে।”

আর নাটোর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বললেন, পদ্মার চরের সন্ত্রাস দমনে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

“দিয়াড় বাহাদুরপুর, চর জাজিরা ও চর লালপুর এলাকায় ১৪টি নৌকায় ১০টি দলে বিভক্ত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লালপুরের চরাঞ্চল ও পদ্মা নদীপথে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অস্ত্র, মাদক, প্রতারণা ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status