ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
একান্ত সাক্ষাৎকার
আমার দেশপ্রেমই আমাকে সর্বোচ্চ ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছে: ড. এহসানুল হক মিলন
শেখ ফরিদ উদ্দিন
প্রকাশ: Monday, 10 November, 2025, 9:17 PM
সর্বশেষ আপডেট: Tuesday, 11 November, 2025, 5:03 PM

আমার দেশপ্রেমই আমাকে সর্বোচ্চ ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছে: ড. এহসানুল হক মিলন

আমার দেশপ্রেমই আমাকে সর্বোচ্চ ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছে: ড. এহসানুল হক মিলন

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন— আমার দেশপ্রেমই আমাকে সর্বোচ্চ ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং আমার জীবনের সফলতার দরজা খুলে দিয়েছে।

সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ, শিক্ষা খাতে অবদান এবং আওয়ামী সরকারের সময়ে তাঁর ওপর চালানো নিপীড়নের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

ড. মিলন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রিতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ১৯৮২ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে প্রায় এক যুগ অবস্থানকালে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্বও লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে মাতৃভূমি ও কচুয়ার মানুষের টানে দেশে ফিরে আসেন। তিনি তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এক তরুণ নেতা।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তিনি চাঁদপুর-২ (কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রথমবারেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তখন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সংসদ অধিবেশন শুরুর কিছুদিন পরই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর কাছে অভিযোগ তোলা হয় যে, ড. মিলন আমেরিকার নাগরিকত্ব বহাল রেখেছেন— যা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য করে তোলে।

স্পিকার কোনো শুনানি ছাড়াই তার এমপি পদ বাতিলের আদেশ জারি করেন। বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন মিলন। এরই মাঝে তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের এক প্রতিমন্ত্রীর (আবুল হাসান চৌধুরী) ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রমাণ। এতে সরকার বিব্রত অবস্থায় পড়ে। পরে আদালত নির্দেশ দেয়, নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে।

ড. মিলন বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি অকপটে আমেরিকার নাগরিকত্ব ত্যাগ করি। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কোর্ট বসিয়ে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব স্যারেন্ডার করি। আমার কাছে এটাই ছিল প্রকৃত দেশপ্রেমের প্রকাশ।

২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মিলন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনেন তিনি। নকলবাজি দমন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জবাবদিহিতা ও সুশৃঙ্খল পরীক্ষা ব্যবস্থার জন্য তিনি দেশে নতুন ধারা সূচনা করেন।

তিনি বলেন, আমি চাইতাম, দেশের শিক্ষার্থীরা বুঝুক— পড়াশোনা ছাড়া সফলতার কোনো বিকল্প নেই। তাই আমি প্রটোকল ছাড়াই পরীক্ষা কেন্দ্রে হঠাৎ হাজির হতাম। নকলের দায়ে শিক্ষক-কর্মচারীদেরও ছাড় দিইনি।

তার এই কঠোর অবস্থানেই ২০০১-০৬ মেয়াদে দেশের পাবলিক পরীক্ষার পরিবেশ আমূল বদলে যায়।

ড. মিলনের নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ন্যাশনাল এডুকেশন কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রাম’ চালু করে, যা পরবর্তীতে দেশের পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করে তোলে। তিনি বলেন, আমার উদ্দেশ্য ছিল কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া।

বর্তমানে ড. মিলন আবারও বিএনপি থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। দলের মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি বহু বছর। মিথ্যা মামলা, কারাদণ্ড, হামলা— সবই সহ্য করেছি। তবুও দেশের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার থেকে সরে আসিনি।

তিনি জানান, তিনটি পরপর অবৈধ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার প্রার্থী মখা আলমগীরের লোকজন তার ওপর একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এক পর্যায়ে প্রাণনাশের চেষ্টাও হয়। দীর্ঘ ১০ বছর প্রবাসজীবনে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে তিনি মালয়েশিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কারিগরি শিক্ষার অবদান, যা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শে সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, আমি কচুয়াবাসীর কল্যাণে একটি মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন— এ চারটি ক্ষেত্র হবে আমার মূল ফোকাস।

মিলন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে এবং দেশনায়ক তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন, তবে আমি আবারও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে দেশের শিক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. এহসানুল হক মিলন কচুয়া ও চাঁদপুর অঞ্চলে বিএনপির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সততা এবং শিক্ষা খাতে ইতিবাচক ভূমিকার কারণে জনগণের মধ্যে তাঁর অবস্থান আজও দৃঢ়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status