ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৭ মে ২০২৬ ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
গণভোটে ‘না’ জিতলে কী হবে? যা বললেন আলী রীয়াজ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 28 October, 2025, 9:36 PM

গণভোটে ‘না’ জিতলে কী হবে? যা বললেন আলী রীয়াজ

গণভোটে ‘না’ জিতলে কী হবে? যা বললেন আলী রীয়াজ

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে ইতিবাচক ফল না এলে কী হবে, এমন প্রশ্নে জনগণের উপর আস্থা রাখার কথা বলেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

মঙ্গলবার এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “গণভোটে পাস না হলে গণভোট পাস হবে না। তার মানে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।”

লাতিন আমেরিকার দেশ চিলিতে সংবিধান নিয়ে দুইবার গণভোট ব্যর্থ হওয়ার উদাহরণ টেনে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেন, “প্রথমবার চিলিতে একটা সংবিধান তৈরি করে দেওয়া হল গণভোটে, সেটা হারল। কেউ কেউ বললেন, এটা অনেক বেশি দক্ষিণপন্থি হয়ে উঠেছিল অথবা বামপন্থি হয়ে উঠেছিল। একেকজনকে একটা বলল।

“তারপর আবার এটা সংশোধন-সংযোজন করা হয়, করে আবার গণভোটে দেওয়া হয়েছিল। আবারও ফেল করেছে। পাস না করলে তার মানে হচ্ছে যে, জনগণ তাহলে গ্রহণ করছেন না। এইজন্য আমি বলছি আবার, জনগণের উপর আস্থা রাখুন।”

সবারই পক্ষপাত থাকতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আপনার অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। আপনি দেবেন না ভোট। আমি দেব বা আপনি দেবেন না। ফলে কি এটা হলে কি হবে- এই বিবেচনা না করা ভালো।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন মঙ্গলবার সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বা আগে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করে।

এদিন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সনদ বাস্তবায়নের এসব সুপারিশ হস্তান্তরের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে এসে সুপারিশের কিছু বিষয় সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ। এসময় সংবিধান সংশোধন বিষয়ক ৪৮টি প্রস্তাব ‘প্যাকেজ আকারে’ গণভোটের জন্য থাকবে বলে এক প্রশ্নের উত্তরে জানান তিনি।

তিনি বলেন, যেকোনো গণভোটের ক্ষেত্রে এক অথবা দুইটা প্রশ্ন থাকে। কোথাও একটু বেশিও হয়েছে। আইসল্যান্ডের ক্ষেত্রে সম্ভবত উদাহরণ আছে যে ছয়টা প্রশ্ন ছিল।

“কিন্তু আমাদের সুপারিশ হচ্ছে একটা প্যাকেজ হিসেবে একটি প্রশ্ন যে, ‘আপনি এই আদেশ এবং এই আদেশের তফসিলে যে বিষয়গুলো সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আছে তার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করছেন কিনা‘।”

প্যাকেজের কোনো অংশের উপর একমত এবং অন্য অংশের উপর ভিন্নমতের হিসাব কীভাবে হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আপনি যে আশঙ্কার কথা বলছেন যে, এটার জন্য এটা হবে, ওটার জন্য ওটা হবে। যেকোনো রেফারেন্ডামের ক্ষেত্রে এই বিষয়টা থাকে। আমি তুরস্কের ২০১৬ সালের রেফারেন্ডমের উদাহরণ দিয়েছি, ওখানে ২১টি বিষয় ছিল এবং সেটি অত্যন্ত মার্জিনালি জিতেছিল, ৫১% মাত্র।

“সেক্ষেত্রে হতে পারে যে, ওই ২১টি বিষয়ের মধ্যে কেউ কেউ একটি বিষয়ে একমত, ১৯টি বিষয়ে ২০টি বিষয়ে একমত। তারপর ভোট দিয়েছেন কীভাবে দিয়েছেন, আমি জানি না।”

আলী রীয়াজ বলেন, “বাংলাদেশে অতীতে এরকম নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর উদাহরণ আমি দিচ্ছি না, বিভিন্ন কারণে। কিন্তু পৃথিবীতে বাংলাদেশই প্রথম গণভোট করবে না যেখানে একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে অনেক বিষয়কে ক্যাপচার করার চেষ্টা হচ্ছে।”

৪৮টি বিষয় একই প্যাকেজে আনাটা গণভোটের প্রশ্ন হিসাবে জটিল হয়ে যাবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “যেকোনো গণভোট সাধারণত এক বা দুটো প্রশ্ন হয়, ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়ে বেশি হয়েছে। দুয়েকটি, পাঁচটা বা ছয়টা প্রশ্ন ছিল।

“কিন্তু এযাবৎকালে ১৭৮৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে তথ্য বা গবেষণার বিষয়গুলো আমার কাছে জানা আছে, তার উপর ভিত্তি করে আমি বলতে পারি, অধিকাংশ প্রশ্ন আসলে একটা।”

এক বা দুই প্রশ্ন হলেও এর পেছনে অনেক প্রশ্ন থাকে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি একটু উদাহরণ দিলে আপনি বুঝতে পারবেন। ২০১৬ সালে তুরস্কে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটা প্রশ্ন একটাই ছিল। কিন্তু সেই এক প্রশ্নে ২১টি বিষয়ে সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।

“তাহলে এই যে, আপনি বা আমি-আমরা যদি মনে করি যে জনগণ এগুলো বুঝতে পারবেন না। জনগণের উপর আস্থা রাখুন, বাংলাদেশের জনগণের উপর আস্থা রাখুন। বাংলাদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসনকে প্রতিরোধ করেছে এবং যখনই সুযোগ তৈরি হয়েছে তখন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় তারা তাদের রায় দিতে পেরেছে।”

জনগণ বুঝতে পারবে না, এমন কথা বললে নিজের অস্বস্তির কথা তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, “যখন কেউ আমাকে বলেন যে, জনগণ এটা বুঝবেন না। আমি এটাতে খুব অস্বস্তিবোধ করি, ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব অস্বস্তিবোধ করি।

“বোঝাবার ক্ষেত্রে সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। আমি বোঝাবার অর্থে বলছি না, আমি বলছি সরকারের দায়িত্ব হবে এগুলো (গণভোট বিষয়ক প্রশ্ন) যতটা দ্রুত সম্ভব, যতটা সহজলভ্য করে যেভাবে হোক প্রত্যেকের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। আজকে আমরা যখন সুপারিশটা সরকারকে দিয়েছি, সেখানে এটা আমরা সুস্পষ্টভাবে, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বলেছি, এটা আপনারা করবেন, এটা আপনাদের কাজ।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status