|
কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত হিন্দু ২বোন নিখোঁজকে কেন্দ্র করে ধুম্রজাল
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত হিন্দু ২বোন নিখোঁজকে কেন্দ্র করে ধুম্রজাল আজ ২৮ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানা পুলিশের তথ্যমতে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজারহাটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর স্নিগ্ধা রানী(২৪) ও পূর্ণিমা রানী(১৮) নামের ২ বোন নিখোঁজ হয়েছে। স্নিগ্ধা কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর পূর্ণিমা একই কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এব্যাপারে তাদের পিতা উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বর্মন থানায় সাধারন ডায়েরী(জিডি) করেছে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২বোন একসঙ্গে কলেজের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আজ ২৮ সেপ্টম্বর পর্যন্ত আর বাসায় ফেরেনি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। ২মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পিতা-মাতা ও তাদের পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ২ মেয়ে একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে পিতা শৈলেন্দ্র নাথ বর্মন জানিয়েছেন, নিখোঁজের দিন অনেক খোঁজাখুঁজি করে মেয়েদের না পেয়ে ওই রাতেই থানায় জিডি করি। ১২ দিন পার হয়ে গেল জানি না মেয়েদের ভাগ্যে কী ঘটেছে। তবে তিনি আশংকা করে বলেন, আমার মেয়েদের বিভিন্ন প্ররোচনায় যারা ধর্মান্তরিত করেছে তারাই হয়ত আমার মেয়েদের অজ্ঞাত কোন স্থানে রেখেছে। জানা যায় ওই ২ বোন কুড়িগ্রামের পাশ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাটের জজ কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম রনির মাধ্যমে ১৬ সেপ্টেম্বর এফিডেভিট করে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। ওই আইনজীবী জানায়, ওইদিন ১হুজুর ও কয়েকজন নারীসহ ওই ২বোন এফিডেভিট করেছে। তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন বলে জানালে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের এভিডেভিডট সম্পন্ন করা হয়। এদিকে থানার পুলিশ নিখোঁজ ওই ২ বোনকে উদ্ধারে মাঠে নেমেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, এফিডেভিটকারী আইনজীবীর তথ্যমতে ওই ২ বোনের সাথে থাকা হুজুর ও নারীদের খোঁজ করছে পুলিশের একাধিক দল। উদ্ধারকাজ অগ্রগামী করতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ১টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সেখানে নিখোঁজ ২ বোনকে পাওয়া যায়নি। অভিযানকালীন (বর্তমানে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত) রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, নিখোঁজ দুই বোনের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয়ে নারী পুলিশসহ আমরা নাগেশ্বরীতে অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে হাসান ফেরদৌস নামে এক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। লালমনিরহাটে এফিডেভিট করার সময় এই হাসান ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। বাড়ি তল্লাশিতে সহায়তা না করায় পুলিশ ফিরে আসে। অভিযানকে বিতর্কিত করতে পরদিন হাসান ফেরদৌস ও তাদের অনুসারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। তবে দুই বোনের অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।’ জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেন, দুই বোনের সন্ধানে প্রযুক্তিগত দিকসহ সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে পুলিশ। আশা করছি, শিগগিরই তাদের সন্ধান পাওয়া যাবে। এদিকে এভিডেভিটের সময় হাসান ফেরদৌস ও তার অনুসারীদের খোঁজ খবর নিয়ে নিখোঁজ ওই ২ বোনের পিতা- মাতা ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবী করে জানান, এভিডেভিটের সময় সত্যিই যদি হাসান ফেরদৌস ও তার অনুসারীদের উপস্থিত পুলিশ নিশ্চিত হয়ে থাকে তবে এই মুহুর্তে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার জোর দাবী জানান তারা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
