ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বাউফলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে
মোঃ আল আমিন আকন, বাউফল
প্রকাশ: Thursday, 25 September, 2025, 2:51 PM

বাউফলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে

বাউফলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুষ ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অতিরিক্ত টাকা (ঘুষ) দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা না দিলে বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী মহাসিন পঞ্চায়েত নামের এক ভূমি সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, তিনি টানা তিন থেকে চার বছর ধরে তার জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধ করতে পারেননি শুধুমাত্র উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের ঘুষ দাবির কারণে।

মহাসিন জানান, তার জেএল নং ১২৩ ও ১৩৫৩ নং খতিয়ানের খাজনা পরিশোধ করতে তিনি একাধিকবার কালাইয়া ভূমি অফিসে গেছেন। বাইরে থেকে অনলাইনে খাজনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে অফিস থেকে জানানো হয় বাইরে থেকে হবে না, আমাদের এখান থেকে অনলাইনে করতে হবে।এরপর তাকে দলিলের দাগ, পর্চা জমা দিতে বলা হয় এবং প্রতি খতিয়ানের জন্য ১,৫০০ টাকা দাবি করা হয়। চারটি খতিয়ান থাকায় তাকে মোট ৬,০০০ টাকা দিতে বলা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, আমি বারবার অনুরোধ করার পরও বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত ১,৫০০ টাকা দিই। টাকা দেওয়ার পরই তরিকুল ইসলাম আমার ফাইল অনুমোদন করেন। অথচ সরকারি খাজনা আমি নিজেই নগদ একাউন্ট থেকে পরিশোধ করেছি। ঘুষ না দিলে কাজ এগোয়নি। এ ঘটনার ভিডিও প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।

মহাসিন আরও জানান, ২০২৪ সালে করা একটি দলিল নিয়েও তাকে হয়রানি করা হয়। তখন তরিকুল ইসলাম তাকে জানান, দাখিলাটি ভুয়া এবং তাকে ৩০-৩৫ বছরের খাজনা দিতে হবে। এতে তার ওপর ৮ হাজার টাকার বেশি খাজনা ধার্য হয়, যা তিনি এখনও দিতে পারেননি।

অভিযুক্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমি তার কাছ থেকে ১,৫০০ টাকা নিয়েছি, ওই টাকা দিয়েই আমি তার খাজনা পরিশোধ করেছি। বাইরে থেকে লোকজন এনে কাজ করাতে হয় বলে কিছু বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে আমি কারও কাছে ঘুষ দাবি করিনি।

তবে মহাসিনের দাবি, সরকারি খাজনার টাকা আমি আমার একাউন্ট থেকেই পরিশোধ করেছি। তারা শুধু ঘুষ নিয়েছে।

কালাইয়া ইউনিয়নের আরও বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, ওই অফিসে টাকা ছাড়া কোনো কাজই করা যায় না। তাদের অভিযোগ, ১০০ টাকার কাজ করতে গেলে ২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়, নইলে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়।

বাউফল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাংবাদিকদের বলেন, “এরকম তো হওয়ার কথা না। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, কালাইয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status