|
বাংলাদেশি ইখলাস রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব লন্ডনের স্কুল পেল জাতীয় মর্যাদা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বাংলাদেশি ইখলাস রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব লন্ডনের স্কুল পেল জাতীয় মর্যাদা এই স্বীকৃতি এমন এক সময় এসেছে, যখন ইখলাস রহমানের শিক্ষাক্ষেত্রে মানবিক ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলো দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। সম্প্রতি, স্কুলটি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিফর্ম ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরঞ্জাম প্রদানের লক্ষ্যে ১ লাখ পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছে। দরিদ্র সম্প্রদায়ের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ কাম্বারল্যান্ড স্কুলটি এমন এক এলাকায় অবস্থিত, যেখানে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী (৫৫%) ফ্রি স্কুল মিল পাওয়ার যোগ্য- যা স্থানীয় দারিদ্র্য পরিস্থিতির প্রতিফলন। এই প্রেক্ষাপটে, স্কুলটি ২৭০ জন নতুন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ইউনিফর্ম ও ল্যাপটপ কেনার জন্য ৪০০ পাউন্ড মূল্যের একটি করে ভাউচার দিয়েছে, যার মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার পাউন্ড। এই ভাউচারের আওতায় একজন শিক্ষার্থী একটি নতুন ব্লেজার, টাই এবং একটি ল্যাপটপ পাবে। উদ্দেশ্য একটাই- অভিভাবকদের অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা। প্রধান শিক্ষক ইখলাস রহমান বলেন, অনেক অভিভাবক আমার অফিসে এসে জানিয়েছেন, তারা সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে পারছেন না। আমরা কখনোই চাই না, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কারও জন্য ভালো শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াক। তাই আমরা সবচেয়ে ব্যয়বহুল জিনিসগুলোর খরচ নিজেরা বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিক্ষা আইন অনুসরণে পথিকৃৎ স্কুলের এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্যের ‘এডুকেশন অ্যাক্ট’-এর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা স্কুলগুলোকে ইউনিফর্মের খরচ কমাতে উৎসাহিত করে। তবে কাম্বারল্যান্ড কেবল নির্দেশনা মানতেই থেমে থাকেনি- তারা একধাপ এগিয়ে গিয়ে ইউনিফর্ম তালিকা থেকে সব ব্র্যান্ডেড পণ্য বাদ দিয়েছে, যেন তা আরও সাশ্রয়ী হয় সবার জন্য। এ বিষয়ে ইখলাস রহমান বলেন, আমরা ইউনিফর্ম পুরোপুরি তুলে দিতে চাই না। ইউনিফর্ম শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের শৃঙ্খলা তৈরি করে, ফ্যাশনের সামাজিক চাপ থেকে মুক্ত রাখে এবং তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়। একাডেমিক সাফল্যেও অনন্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা শুধু নীতিগত সহায়তা পেয়েই থেমে নেই, বরং শিক্ষার মানেও দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো উন্নতি। গত গ্রীষ্মে ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী জিসিইসি পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে ভালো ফলাফল করেছে, এবং ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সব বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করেছে। এই সমস্ত কৃতিত্বের পেছনে ইখলাস রহমানের নেতৃত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজকল্যাণমুখী চিন্তাধারা অনস্বীকার্য। তার মতো একজন বাংলাদেশি শিক্ষকের এই অবদান শুধু ব্রিটেনে নয়, বিশ্বব্যাপী বাঙালি সমাজের জন্যও গর্বের বিষয়। কাম্বারল্যান্ড স্কুলের এই সাফল্য প্রমাণ করে- সঠিক দিকনির্দেশনা, মানবিকতা ও সাহসী সিদ্ধান্ত কীভাবে একটি পুরো সমাজের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
