ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
নেপালে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে আলোচনা, কে এই সুশীলা?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Wednesday, 10 September, 2025, 9:43 PM

নেপালে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে আলোচনা, কে এই সুশীলা?

নেপালে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে আলোচনা, কে এই সুশীলা?

কিছুটা শান্ত হয়েছে নেপাল। রাস্তায় টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। আর তাতে সবার আগে আসছে একটি নাম, সুশীলা কার্কি। নেপালের সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকেই অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে দেখতে চায় জেনারেশন জেড বা জেন জি। এই সুশীলা আসলে কে, তাকেই কেন বেছে নিল বিক্ষোভকারীরা?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ২০১৭ সালে কিছু রায়ের কারণে তৎকালীন সরকারের বিরাগভাজণে পরিণত হন সুশীলা। সেই সময় ক্ষমতাসীন জোট দেশটির পার্লামেন্টে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করে।

এই অভিশংসন প্রস্তাবে তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও নির্বাহী ক্ষমতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিশেষ করে পুলিশপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত এক বিরোধের কারণে তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন।

ওই সময় নেপালের ক্ষমতায় ছিল রাজনৈতিক দল মাওবাদী সেন্টার ও নেপালি কংগ্রেস (জোট আকারে)। এই প্রস্তাবের পর জনতার চাপ আসতে থাকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা। এরপর সুপ্রিম কোর্ট পার্লামেন্টকে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেয়।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বিক্ষোভকারীদের পছন্দের প্রার্থী কার্কি ভারতের উত্তর প্রদেশের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইচইউ) থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনি নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম এবং একমাত্র নারী প্রধান বিচারপতি ছিলেন। দুর্নীতির মামলায় এক মন্ত্রীর কারাদণ্ডসহ একাধিক ঐতিহাসিক রায়ের জন্য দেশটিতে ব্যাপক পরিচিত তিনি। নেপালের প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ কার্কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের জন্য জনপ্রিয়। 

২০১৬ সালে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন কার্কি। সততা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য নির্ভীক বিচারক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। 

১৯৭৯ সালে বীরাটনগরে আইনজীবী হিসেবে তাঁর পেশাজীবনের শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে ২০০৯ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন এবং পরবর্তীতে ইতিহাস গড়েন। তাঁর নিয়োগের সময়টি নেপালের জন্য প্রতীকী মুহূর্ত ছিল। কারণ সেই সময় নেপালের তিনটি সর্বোচ্চ পদ—প্রেসিডেন্ট, সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি—সবগুলোই নারীদের হাতে ছিল।

নেপালের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির দায়িত্ব পালনের সময় কার্কি বেশ কিছু ঐতিহাসিক রায় দেন, যা তাকে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত করে তোলে। দুর্নীতির দায়ে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী জয়া প্রকাশ গুপ্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন তিনি। নেপালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীন কোনও মন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ছিল এটি।

তিনি শান্তিরক্ষী মিশনে দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিতর্কিত নিজগড় ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি নারীদের সন্তানের নাগরিকত্ব দেওয়ার অধিকার সম্পর্কিত প্রগতিশীল রায়ও দিয়েছেন তিনি।

সবকিছু ঠিক থাকলে নেপালের পরবর্তী সরকারপ্রধান হতে চলেছেন সুশীলা। তবে তাঁকে পরবর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে সেনা নেতৃত্ব মনে নেবে কিনা, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। 

মঙ্গলবার রাত থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে নেপালি সেনাবাহিনী। বুধবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করতে অনলাইনে একটি ভার্চুয়াল সভা করে জেন জি বিক্ষোভকারীরা। নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণী এই সভায় অংশ নিয়েছিল। বিদেশে থাকা নেপালিরাও জুম কলে যোগ দেয় এবং তাঁদের মত জানায়।

বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়, জেন জি আন্দোলনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং অরাজনৈতিক রাখতে হবে। তাই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হবে না। সুশীলা কার্কি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। সাবেক বিচারক এবং একজন নাগরিক কর্মী হিসেবে তাঁকেই এই ভূমিকার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি বলে মনে করেছে জেন জি।

আলোচনায় ছিল কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ এবং যুব নেতা সাগর ধকলের নামও। কিন্তু আন্দোলনকারীরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্কির মতো ব্যক্তিত্বই জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে পারবেন। কারণ তাঁর ভাবমূর্তি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status