ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬ ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের আয়োজনে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত
আলমগীর কবির, আলফাডাঙ্গা
প্রকাশ: Tuesday, 19 August, 2025, 2:22 PM

আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের আয়োজনে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের আয়োজনে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল আজমীর হোসেন বলেছেন, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। পুলিশ ও জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ না করলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব হবে না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

সোমবার ( ১৮ আগস্ট)  দিনব্যাপী ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত 'ওপেন হাউস ডে' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলমের সভাপতিত্বে ও এসআই সুজন বিশ্বাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, "পুলিশ যখন জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, তখনই মাদকের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।"

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মাদক নির্মূলের মূল ভিত্তি হলো তথ্য। এই তথ্য সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে আসে। একজন মাদক বিক্রেতা কোথায় তার কার্যক্রম চালাচ্ছে, বা কোন এলাকায় মাদকের আড্ডা বসে—এইসব তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে দিতে পারে সাধারণ জনগণ। কিন্তু অনেক সময় মানুষ ভয় বা অবিশ্বাস থেকে পুলিশকে তথ্য দিতে দ্বিধা করে। এই দূরত্ব ঘোচানোর জন্য পুলিশের উচিত জনগণের আস্থা অর্জন করা। নিয়মিত কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম, স্থানীয় সভা এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা যেতে পারে।

আজমীর হোসেন আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে কেবল অভিযান বা গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা আবশ্যক। এলাকার যুবসমাজকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তাদের যুক্ত করা এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা—এইসব কাজে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। যখন একজন মাদকাসক্তকে সমাজে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবার ও প্রতিবেশীরা সহযোগিতা করবে, তখন সে সহজেই মাদকের পথ থেকে সরে আসতে পারবে।

জিরো টলারেন্স নীতি ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলের জন্য তারা 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে। তবে এই নীতি তখনই শতভাগ সফল হবে, যখন জনগণ নির্ভয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে। মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে বা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই সংগ্রামে অংশ নিতে পারে।

অনুষ্ঠানে একজন নাগরিক অধিকার কর্মী বলেন, "পুলিশকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবা উচিত নয়। বরং তাদের একজন বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে দেখা প্রয়োজন। যদি প্রতিটি পাড়ায়, প্রতিটি মহল্লায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় কমিটিগুলো নিয়মিত যোগাযোগ রাখে, তাহলে মাদকের মতো অপরাধীরা সমাজের কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারবে না।"


'পুলিশকে সহায়তা করি'—এই স্লোগান এবং মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে  অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ ওপেন হাউজডে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নূর জামান খশরু, বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম খোশবুর রহমান খোকন, উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা জামাত সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর কবির, আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি তাজমিনুর রহমান তুহিন, প্রেসক্লাব আলফাডাঙ্গা'র সভাপতি শাহিনুর রহমান  এবং সদর ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফারুক মোল্লা সহ আরও অনেকে। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রাম পুলিশ, মিডিয়া কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সুধীজনেরা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status