ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা আদিবাসীদেরকে অস্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে ভারত!
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 7 August, 2025, 4:32 PM

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা আদিবাসীদেরকে অস্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে ভারত!

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা আদিবাসীদেরকে অস্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে ভারত!

ভারতের আসামে বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষে বসবাসকারী আদিবাসীদেরকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সেখানকার সরকার। আসামের কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই ঘোষণায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের মুসলিমদের মাঝে। 

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

এর আগে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, অসমীয়া ভাষাভাষী জনগণ ‘বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে, এমনকি নিজেদের গ্রামেও হামলার হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন।’

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম। প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার এই রাজ্যটি জাতিগত, ভাষাগত ও ধর্মীয় দিক থেকে বিভাজিত এবং বিগত কয়েক দশকে বহু রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সাক্ষী হয়েছে। ২০১১ সালের সর্বশেষ জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, আসামের প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম; যাদের বেশিরভাগই বাংলা ভাষী। এছাড়া বাকিরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাজ্যের যেসব আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজেদের জীবনের জন্য হুমকি অনুভব করছেন এবং সংবেদনশীল এলাকায় বসবাস করছেন, তারা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভারতে সাধারণত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন অত্যন্ত কঠোর। কিন্তু রাজ্যজুড়ে হঠাৎ করে সবার জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করছেন বিরোধীদলীয় নেতারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা গৌরব গগৈ বলেছেন, রাজ্য সরকারের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার এই উদ্যোগে গ্যাং সহিংসতা ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধমূলক অপরাধ বৃদ্ধি পাবে। এটি সুশাসন নয়, বরং আইনহীনতার দিকে এক বিপজ্জনক পশ্চাৎগামী পদক্ষেপ।

ভারতের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বলা হচ্ছে, অসমীয়া ভাষাভাষী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে সমর্থন দিতে বিশ্ব শর্মার বিজেপি সরকার যে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে, অস্ত্রের লাইসেন্স উন্মুক্ত করে দেওয়ার এই উদ্যোগ তারই অংশ। 

একইসঙ্গে বাংলাভাষী জনগণের বিরুদ্ধেও ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে আসাম সরকার। এদেরকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী কিংবা সন্দেহভাজন নাগরিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশ্ব শর্মা। অথচ, অনেক জাতিগত বাঙালিই আসামের বহু পুরোনো বাসিন্দা ও তারা ভারতীয় নাগরিক। এমনকি ১৯৪৭ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের সময় বাংলাদেশ আলাদা হয়ে যাওয়ার অনেক আগে থেকেই তাদের শিকড় আসামে রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আইন চালু করা প্রথম রাজ্য আসাম। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া রাজ্যে চালু করার পর প্রায় ২০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারান রাজ্যটিতে; যাদের অধিকাংশই মুসলমান।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status