পাইলটের ধূমপান নয়, বরং নেপালের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভুলেই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি।
সোমবার বিকালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান এএআইজি-বিডি’র প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতউল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান।
সালাহউদ্দিন এম রহমতুল্লাহ বলেন, ‘নেপালের তদন্তে বলা হচ্ছে পাইলট ককপিটে বসে ধূমপান করছিলেন। এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। কারণ, এয়ারক্রাফটে ধূমপান না করার আন্তর্জাতিকভাবে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে টয়লেটে ধূমপান না করার জন্য নির্দেশনা থাকে। সুতরাং এটি দুর্ঘটনার কোনো কারণ নয়।’
পাইলট আবিদ সুলতানকে দায়ী করে ভারত ও নেপালের তদন্ত প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘পাইলট মানসিকভাবে হতাশ ছিল এটা সত্য। তিনি কয়েকটি ভুল করেছেন। কিন্তু পাইলটের ভুলভ্রান্তি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল শোধরাতে পারতো।’
এএআইজি-বিডি’র প্রধান ক্যাপ্টেন বলেন, ‘নেপাল তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে ত্রিভুবন এয়ারপোর্টের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্যাপ্টেনের ল্যান্ডিংয়ের প্রস্তুতিকালে কন্ট্রোল টাওয়ারের আরও সতর্ক থাকা দরকার ছিল।’
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১২ই মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০মিনিটে নেপালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৫১। এর মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি এবং ১ জন চীনা নাগরিক।
উড়োজাহাজটিতে থাকা ৬৭ যাত্রীর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশী, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপের এবং একজন চীনের নাগরিক। উড়োজাহাজটিতে ৬৭ যাত্রীর পাশাপাশি ৪ জন ক্রু ছিলেন বলে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
দুর্ঘটনায় প্রথমেই মৃত্যু হয় ওই ফ্লাইটের সহকারি পাইলট এবং ইউএস বাংলার প্রথম নারী পাইলট পৃথুলা রশিদের। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদকে। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদও মারা যান।