|
কাপাসিয়ায় উন্মুক্ত কবর, মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্তে প্রশংসিত ফারুক
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() কাপাসিয়ায় উন্মুক্ত কবর, মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্তে প্রশংসিত ফারুক এই ব্যতিক্রমধর্মী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছেন, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামের প্রবাসী ফারুক ফকির। তিনি নিজ উদ্যোগেই কাপাসিয়া গ্রামে গড়ে তুলেছেন ‘উন্মুক্ত কবর’—একটি অনন্য চিন্তা ও মূল্যবোধের প্রতীক মনে করছেন স্থানীয়রা। ফারুক মনে করেন, আমরা প্রতিদিন জীবনের ব্যস্ততায় এমনভাবে নিমজ্জিত থাকি যে, মৃত্যুর বাস্তবতা প্রায় ভুলেই যাই। অথচ মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, প্রত্যেককেই একদিন পৃথিবী ছাড়তে হবে। কখনোবা কারো লাশ কবরস্থ করারও স্থান হয়না অর্থাভাবে, তাই এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ইচ্ছে ছিলো অনেকদিনের। তিনি বলেন, “আমি চাই মানুষ এই কবরগুলো দেখে যেন জীবনের স্বার্থকতা, সময়ের মূল্য ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখে। এজন্যই এই উদ্যোগ।” ফারুক জানান, তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামেরই সন্তান। বাবা সিরাজুল ইসলাম (ফকির) একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন এবং মা আয়েশা আখতার পারভীন একজন গৃহিণী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। বিদেশে পাড়ি দিয়ে জীবন জিবিকার প্রয়োজনের তাগিদে অর্থ উপার্জন করেন এবং গড়ে তোলেন নিজস্ব ব্যবসা। কিন্তু সেই শৈশবের স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়াত। অবশেষে বিদেশের উপার্জিত অর্থে তিনি এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেন এবং সেই রাস্তার পাশেই গড়ে তোলেন উন্মুক্ত এক (গোরস্থান) কবরস্থান। যেখানে বিনামূল্যে সকলেই পাবেন লাশ দাফনের অনন্য সুযোগ। কাপাসিয়া গ্রামের নওয়াব এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠানের (স্বত্বাধিকারী) মালিক রুবেল মিয়া (৪৫) বলেন, দশ কাঠা জমির উপর নির্মিত এই উন্মুক্ত কবরস্থানে রাখা হয়েছে প্রকৃত মাপের ছোট ছোট কবর। আগ্রহী কেউ চাইলে কবরের পাশে বসে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারবেন। প্রতিদিনই বহু মানুষ এই স্থাপনাটি দেখতে আসছেন। কাপাসিয়া মডেল মসজিদের ইমাম মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন—“এটা অত্যন্ত ভালো ও সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। আমি শুনে খুশি হয়েছি। এখন যে কেউ, বিশেষ করে হতদরিদ্ররা, বিনা খরচে এখানে মরদেহ দাফনের সুযোগ পাবেন।" গাজীপুর কোর্টের (আদালতের) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বাবুল বলেন—“প্রবাসী ফারুকের এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি কেবল মানবিক উদাহরণই নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপকারে আসবে। স্থানীয়রাও এমন উদ্যোগকে মহান মানবিকতার দৃষ্টান্তে মহৎ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
