|
প্রতারণার মাধ্যমে
ফুডপান্ডার ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ৬কোটি টাকা আত্মসাৎ'র মামলা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ফুডপান্ডার ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ৬কোটি টাকা আত্মসাৎ'র মামলা বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা নাম্বার ৩৫১৭/২৫, ৩৫১৮/২৫, ৩৫১৯/২৫ এবং ৩৫২০/২৫। ফার্স্ট টেলি সেলস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বাদী হয়ে আদালতে মামলাগুলো করেন। মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আম্বারিন রেজা ও জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক ভারতীয় নাগরিক মো. তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, সিনিয়র ম্যানেজার মো. সাজেদুল হক এবং এক্সিকিউটিভ ক্যাটাগরি মো. তৌফিক। এজাহারে বলা হয়, সৈয়দা আম্বারিন রেজার বাবা মৃত সৈয়দ মাসুম রেজা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (বরিশাল-৬, বাকেরগঞ্জ)। আর মাতা আইরিন রেজা বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের নেত্রী। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি আইপিএলই ইলেকট্রনিক্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাউজহোল্ড ও কিচেন অ্যাকসেসরিজ, মোবাইল এক্সেসরিজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টে সরবরাহ করতেন। ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রয় আদেশের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করে, বাকি ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করে। বাদীর শিহাব মাহমুদ বশিরের অভিযোগ, ফুডপান্ডার কর্মকর্তারা প্রভাব খাটিয়ে পণ্য নষ্ট দেখিয়ে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি করেন, অথচ সরবরাহকৃত পণ্য গ্রহণের সময় গুণগত মান যাচাই করেই গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া, নামমাত্র এক-দুই বা একশ টাকার কম পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে বাকী পাওনা গড়িমসি করেন। তিনি অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকিরও অভিযোগে আগেও আলোচনায় এসেছে, যা এনবিআর-এর বিভিন্ন তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিহাব মাহমুদ বশির জানান, একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও পাওনা পরিশোধ না করে সম্প্রতি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এছাড়া হঠাৎ করে ক্রয় আদেশ বন্ধ করে দেওয়ায় তার গুদামে সংরক্ষিত পণ্য মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়, এতে তার আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়, ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ চুক্তিভঙ্গ করে অবৈধভাবে বাদীর পাওনা টাকা থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা কেটে নেয়। সব মিলিয়ে বাদীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির কাছে তার মোট পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামিরা দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭ (মূল্যবান দলিল জালিয়াতি), ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি), ৪৭১ (জাল দলিলকে আসল দলিল হিসেবে ব্যবহার) এবং ৫০৬ (ফৌজদারি ভীতি প্রদর্শন) ধারায় অপরাধ করেছেন। থানায় মামলা করতে গেলে তাকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গুলশান থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬ ধারায় ফুডপান্ডার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ব্যবসায়ী শিহাব মাহমুদ বশির বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডা ও পান্ডামার্ট প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। আমি একা নই এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও বহু ভুক্তভোগী। আমি আইন ও আদালতের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশায় আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। উল্লেখ্য, অতীতেও ফুডপান্ডা ও পান্ডামার্টের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকি এবং একচেটিয়া ব্যবসার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২০ সালে ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৪০ লাখ ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ ওঠে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি) ফুডপান্ডাকে একচেটিয়া ব্যবসা পরিচালনার জন্য ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। এই নতুন মামলা অনলাইন ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারি খাতের স্বচ্ছতা ও ব্যবসায়িক নীতির ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
পাইকগাছায় কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন
খাগড়াছড়িতে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের ফাইনালে পুলিশ লাইন্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন, সাইফাতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
সাজেকও বাঘাইছড়ির দূর্গম পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট
তেঁতুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির দ্বি- বার্ষিক নির্বাচন
