ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
টেকনিশিয়ান নয়, ঝাড়ুদার করলেন ইসিজি! এ কেমন চিকিৎসা ব্যবস্থা বরগুনায়?
তামান্না জেনিফার, বরগুনা
প্রকাশ: Thursday, 3 July, 2025, 6:22 PM

টেকনিশিয়ান নয়, ঝাড়ুদার করলেন ইসিজি! এ কেমন চিকিৎসা ব্যবস্থা বরগুনায়?

টেকনিশিয়ান নয়, ঝাড়ুদার করলেন ইসিজি! এ কেমন চিকিৎসা ব্যবস্থা বরগুনায়?

৪ জন ইসিজি টেকনিশিয়ান থাকা সত্ত্বেও একজন ঝাড়ুদার দিয়ে ইসিজি করানো হয়েছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা প্রশ্ন তুলেছে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর।

যেখানে মানুষের হৃদস্পন্দনের সঠিক হিসাব নেওয়ার কথা সুশিক্ষিত, প্রশিক্ষিত ইসিজি টেকনিশিয়ানের, সেখানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে সেই স্পন্দন গোনা হলো একজন ঝাড়ুদার দিয়ে! এটি কেবল একটি হাসপাতালের গাফিলতি নয়, এটি একটি গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনুতপ্ত প্রতিচ্ছবি। আর এই ঘটনাটি যেন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে এই দেশে গরিব মানুষের জীবনের মূল্য আসলেই কতটুকু?

বরগুনা আড়াইশো শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, সরকারি কাগজে যেটি একটি ‘উন্নতমানের’ স্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্র। অথচ এখানেই সরকারি চাকরিজীবী চারজন ইসিজি টেকনিশিয়ান থাকা সত্ত্বেও ইসিজি করা হয়েছে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে। রোগীর হৃদয় নিয়ে এমন নির্লজ্জ পরীক্ষার অভিযোগ উঠেছে।

রিয়াদ হাওলাদার, বরগুনার একজন সাধারণ নাগরিক। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। চিকিৎসক তাকে ইসিজি করাতে বলেন। কিন্তু ইসিজি রুমে গিয়ে তিনি যা দেখেন, তা তার চোখ ও বিশ্বাসকে একসঙ্গে আহত করে।

রিয়াদ জানান,ইসিজি রুমের সামনে যাই, দেখি দুইজন নারী ঝাড়ু দিচ্ছে। ভাবলাম হয়তো পরিস্কার করছে। কিন্তু পরে জানতে পারি, তারাই ইসিজি করবে। একজন ইসিজি করল। পরে যখন রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তার দেখেন, বলেন ইসিজি হয়নি, আবার করতে হবে!”

হাসপাতালে সু-চিকৎসা না পেয়ে তিনি ফেউজবুকে স্টাটাস দেন তিনি লিখেন : হাসিনা নামের এই মহিলা তিনি নাকি আড়াইশো শয্যা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ইসিজি টেকনিসিয়ান! হতাশা ভরা মনে জিজ্ঞেস করতে চাই সম্মানিত নবাগত তত্ত্বাবধায়ক মহোদয় এর নখদর্পনে বিষয়টি আছে কি? নাকি সময়গুলো আপনার নিজ বাসস্থান বরিশালেই কাটে?

অবশ্য এটি বেসরকারি কোন ক্লিনিক কিংবা হাসপাতালে হলে এতক্ষণে জেলা প্রশাসন কর্তৃক বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে মোবাইল কোর্ট করতে বেশি দেরি হতো না। আমি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বরগুনা আড়াইশ' সজ্জা জেনারেল হাসপাতালেই শেষ চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়।

এদেশের সরকারের আর চিন্তা কিসের? তাদের তো সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া সহ বড় বড় রাষ্ট্র আছেই। এ দেশে যে হারে মানুষ আছে, তাতে দুই একজন আমজনতা মরলে তাদের কি??? গন্ডারের চামড়ায় ধনুকের তীর লাগলে গন্ডারের কিছু হয় না, হলে ধনুকের তীরেরি হয়। বিগত দিনে যারা এই এলাকার এমপি মন্ত্রী ছিলেন তারাতো কেবল তাদের পকেট পুরেছেন। জনগণের পাছায় বাঁশ দিয়ে আপনারা তার উপরে দাঁড়িয়ে খুব আমদ ফুর্তিতেই আছেন।

টেকনিশিয়ান নয়, ঝাড়ুদার করলেন ইসিজি! এ কেমন চিকিৎসা ব্যবস্থা বরগুনায়?

টেকনিশিয়ান নয়, ঝাড়ুদার করলেন ইসিজি! এ কেমন চিকিৎসা ব্যবস্থা বরগুনায়?

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন: ঘটনাটি রাতে ঘটেছে। যে নাইট ডিউটিতে ছিলো তার বাচ্চা অসুস্থ হওয়ায় চলে গেছে। হাসিনা খালা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে এখানে, তাই যে ডিউটিতে ছিলো তাকে বলেছে, আমি আগেও আপাদের সাথে ইসিজি করছি ফাকে ফাকে ,আপনি যান। আমি দায়িত্ব পালন করবো। সে কাউকে কিছু জানায়নি নিজে নিজে দায়িত্ব নিয়ে ফেলছে। তবে কাউকে কিছু না বলে এভাবে দায়িত্ব নেওয়া ঠিক হয়নি। আমাদের বর্তমানে ৪ জন ইসিজি টেকনিশিয়ান রয়েছে, ২ জন স্থায়ী ও ২ জন আউটসোর্সিংয়ে। আগে ৬ জন ছিল, সবাই বদলি হয়ে গেছে। এখন এভাবে চলাচ্ছি।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, আমি এমন কিছু শুনিনি, আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

প্রশ্ন রয়ে যায়… এই ঘটনাটি এক দিনের হলেও এর প্রতিচ্ছবি বহু দিনের অব্যবস্থাপনার ফল। চিকিৎসা যদি ঝাড়ুদারের হাতে গিয়ে পড়ে, তবে প্রশ্ন উঠে এই ইসিজির রিপোর্ট ভিত্তি করে রোগীকে যে ওষুধ বা সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, তা কি নিরাপদ?
এই ঘটনার দায় কি শুধু হাসিনার? নাকি এটি বড় পরিসরের এক ব্যর্থ ব্যবস্থার চিত্র?

গরিবের জন্য যদি সরকারি হাসপাতালও নিরাপদ না হয়, তাহলে এই দেশ গরিবের কী?

এই ঘটনায় আসলে দায়ী কে?
চারজন ইসিজি টেকনিশিয়ান থাকার পরেও কেন একজনও উপস্থিত ছিলেন না?

কেন একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ অদক্ষ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো?

এই ঘটনায় যদি রোগীর ক্ষতি হতো, তবে দায় নিত কে?

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status