|
অবৈধ ট্রলিংয়ে ধ্বংস হচ্ছে মাছের ভবিষ্যৎ, কাঁদছে উপকূল,অসহায় জেলে
তামান্না জেনিফার, বরগুনা
|
![]() অবৈধ ট্রলিংয়ে ধ্বংস হচ্ছে মাছের ভবিষ্যৎ, কাঁদছে উপকূল,অসহায় জেলে বরগুনার পাথরঘাটাসহ আশপাশের উপকূলজুড়ে সমুদ্রের বুকে এখন চলছে এক নতুন ‘দস্যুতা’ এবার হাতে অস্ত্র নয়, হাতে প্রযুক্তি। এখনো বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের নাম শোনা যায় বটে, তবে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় মৎস্যদস্যুরা। তারা ‘বটম ট্রলিং’ নামে পরিচিত এক নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে সমুদ্রের তলদেশ চষে বেড়াচ্ছে, আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে মাছের ঝাঁক চিহ্নিত করে জাল ফেলে সব খালি করে দিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে মাছ, হারিয়ে যাচ্ছে জেলেদের ভবিষ্যৎ পাথরঘাটার একজন প্রবীণ জেলে জাকির মুন্সী ক্ষোভ নিয়ে বলেন “আমরা যেখানে এক বোয়া মাছের জন্য ১০ ঘণ্টা সাগরে থাকি, সেখানে ওরা আধা ঘণ্টায় ১০ বোয়া তুলে নেয়। আমাদের জাল ছিঁড়ে দেয়, আর আমাগো পেটে লাথি মারে।” এই অবৈধ ট্রলারগুলোর অধিকাংশই স্থানীয় কাঠবডির ট্রলার, যেগুলোকে গোপনে রূপান্তর করা হয়েছে ট্রলিং নৌযানে। অগভীর সমুদ্রের মাছও এখন তাদের লক্ষ্য। মাছ ধরা নয় এ যেন সাগরের চূড়া চেপে লুট। শুধু পাথরঘাটায় নয়, বরগুনার তালতলী, ভোলার চরফ্যাশন, পটুয়াখালীর কলাপাড়া সবখানেই দেখা মিলছে এসব যান্ত্রিক ‘মৎস্য দস্যুদের’। মৎস্য বিভাগের হিসাব বলছে, পাথরঘাটায় গভীর সমুদ্রের জন্য অনুমোদিত ট্রলার ১৯০টি, অথচ বাস্তবে চলছে ৭০০–৮০০ এরও বেশি। অর্ধশতাধিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার চলছে সরকারি চোখ ফাঁকি দিয়ে। প্রযুক্তির জালে আটকে গেছে মাছের ভবিষ্যৎ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, বটম ট্রলিংয়ের ফলে মাছের ডিম, খাদ্য, শেওলা সব ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে মাছ শূন্য হয়ে যেতে পারে সাগরের বিশাল অংশ। জেলে শুধু জাল ফেলে না, সে জীবন ফেলে সমুদ্রে পাথরঘাটার মাছঘাটে দাঁড়িয়ে লাইলী বেওয়া বলেন, স্বামী সাগরে। তিন দিনেও ফোন দেয় না। এখন তো জালও ছিঁড়ে ফেলে দেয় ওই যান্ত্রিক ট্রলার। আমরা কি বাঁচব না আর?” সরকারি তথ্য মতে, পাথরঘাটার ৫২০টি কাঠের ট্রলারের মধ্যে অন্তত ৩৫০টি গভীর সমুদ্রযাত্রার উপযোগী হলেও অনুমোদনপ্রাপ্ত অনেক কম। আর যেসব ট্রলার রূপান্তর করে টাকার জোরে চলছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা খুবই সীমিত। সরকার কী বলছে? উপকূলরক্ষী বাহিনী কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ বলেন : অবৈধ ট্রলিং ট্রলার পুরোপুরি বেআইনি। আমরা ইতোমধ্যে পাথরঘাটা ও কলাপাড়া থেকে অন্তত ৩০টি ট্রলার জব্দ করেছি। অভিযান চলবে।” পাথরঘাটা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, নৌযান নিবন্ধন থাকলেই চলবে না, সমুদ্রে যাওয়ার জন্য অনুমতিও লাগবে। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সংক্ষেপে মূল সংকট: যন্ত্রনির্ভর ট্রলারে অবৈধ বটম ট্রলিং, মাছের খাদ্য ও ডিম নষ্ট হয়ে প্রজনন হুমকিতে, ক্ষুদ্র জেলেরা কর্মহীনতার মুখেসরকারি অনুমোদন ছাড়াই রূপান্তরিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার চালু, আইন থাকলেও প্রয়োগ দুর্বল এই বাস্তবতা শুধু একটি উপকূলের সংকট নয় এটি আমাদের সাগরের ভবিষ্যৎ, জেলেপাড়ার শিশুর পাতে মাছ না থাকার ভয়। সমুদ্র এখন আর কেবল উত্তাল ঢেউয়ের গল্প নয় এটি এখন লড়াইয়ের মাঠ, যেখানে জীবন আর যন্ত্র মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
