ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শ্যামনগরে সিংহড়তলী বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন ঝুঁকিতে স্থানীয়রা
মোঃ আলফাত হোসেন, শ্যামনগরের
প্রকাশ: Sunday, 27 April, 2025, 7:56 PM

শ্যামনগরে সিংহড়তলী বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন ঝুঁকিতে স্থানীয়রা

শ্যামনগরে সিংহড়তলী বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন ঝুঁকিতে স্থানীয়রা

সাতক্ষীরা শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন তীরবর্তী মালঞ্চ নদীর চর ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডেরনপাঁচ নম্বর পোল্ডারের আওতাভুক্ত সিংহড়তলী অংশের উপকুল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দেয়। শনিবার দুপুরের দিকে শুরু হওয়া ভাঙ্গন রোববার বিকাল পর্যন্ত প্রচন্ড ভয়াবহ রুপধারণ করে। এর আগে শুক্রবার রাতে আকস্মিকভাবে চুনকুড়ি ও সিংহড়তলী এলাকায় চর বসে যাওয়ায় শনিবার থেকে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়।

এমন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়াও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়লে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। ভাঙনের ভয়াবহতা হতে স্থানীয়দের রক্ষায় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তা করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে দেখা মেলে।

জনবসতির কোল ঘেঁষে ভাঙ্গন সৃষ্টি হওয়ায় গোটা এলাকাজুড়ে রীতিমত ভাঙন আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। নদীতে জোয়ারের চাপ প্রবল হওয়ার পাশাপাশি অবশিষ্ট থাকা দুই/আড়াই ফুট উপকুল রক্ষা বাঁধ যে কোন মুহুর্তে নদীতে বিলীন হয়ে সুন্দরবন তীরবর্তী জনপদ নদীর লবন পানিতে জলোচ্ছ্বাস হওয়ার শংকা।

গ্রামবাসীদের দাবি মালঞ্চ নদীর পাশাপাশি অন্তত ছয়টি পয়েন্টে ভাঙনের সৃষ্টি হলেও সিংহড়তলী এলাকার অবস্থা রীতিমত ভয়াবহ। তাদের অভিমত দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন কবলিত অংশে বিকল্প বাঁধ নির্মাণে ব্যর্থ হলে পরবর্তী জোয়ারে আশপাশের সাত/আটটি গ্রাম নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ভাঙন কবলিত অংশে কাজ করতে আসা স্থানীয়রা বলেন, মাত্র সাত/আট মাস আগে সেখানে মাটির কাজ হয়েছে। বাঁধ উঁচু হলেও একেবারে কোলঘেঁষে মাটি নেয়ায় বাঁধ অনেকটা খাঁড়া হয়ে ছিল। গত কয়েকদিন ধরে ফাটল দেখা দেয়ার পর শনিবার থেকে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পাউবো কতৃপক্ষ বাঁধের গায়ে জিও শিট চাপিয়ে ঢেউয়ের প্রচন্ডতা থেকে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করলেও শনিবার রাতে সবকিছু ধসে মাঝ নদীতে চলে গেছে।

স্থানীয় বনজীবীদের নেতা বাবলুর রহমান জানান শনিবার দুপুরে আকস্মিকভাবে বাঁধের প্রায় ৩০ ফুট জায়গা নদীতে ধসে যায়। রোববার সকালের জোয়ারের আরও এক দফা ধসের পর বাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র দেড়/দুই ফুট। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতনরা ঘটনাস্থলে পৌছালেও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদী নিয়ে আসতে সময় লাগছে।

রোববার রাতের মধ্যে আটকানো না গেলে পরবর্তী জোয়ারে সুন্দরবনের বিপরীত পাড়ের সিংহড়তলী, চুনকুড়ি, হরিনগর, যতীন্দ্রনগর, ছোট ভেটখালীসহ অন্তত সাতটি গ্রাম তাৎক্ষণিকভাবে নদীর পানিতে প্লাবিত হতে পারে।

ঘটনাস্থলে অবস্থানরত পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সালাউদ্দীন জানান শনিবার বিকালে ভাঙন কবলিত অংশে শতাধিক জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। কোনভাবে ভাঙন রোধ সম্ভব না হওয়ায় ভিতর দিয়ে ৫০ মিটার রিং বাঁধ নির্মানের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বালু ভর্তি জিও টিউব ফেলা হয়েছে-উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রোববার রাতের মধ্যে ভিতর দিয়ে বিকল্প রিং বাঁধ নির্মানের কাজ শেষ করা গেলে সমস্যা হবে না।

স্থানীয় ইউপি সদষ্য নীপা রানী জানান শুধু ছয় নং ওয়ার্ডের আওতাবুক্ত এলাকার ছয়টি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সিংহড়তলীর ভাঙন শেষ পর্যায়ে রয়েছে-জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পাশে বসবাসরত পরিবারগুলো উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে। ইতিমধ্যে দু’তিন বার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর পর শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার শংকায় তারা অনুভুতিশুন্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রনী খাতুন জানান, স্থানীয়দের সহযোগীতা নিয়ে কতৃপক্ষ ভাঙন ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।গ্রামবাসীদের সহায়তায় কতৃপক্ষ ভাঙনের কবল থেকে লোকালয়কে রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে পাশাপাশি আমাদের সর্বোচ্চ সহায়তা চলমান।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status