|
বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়কের চার লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন
অপূর্ব বাড়ৈই, বরিশাল
|
![]() বরিশাল কুয়াকাটা মহাসড়কের চার লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন মানববন্ধনে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, ‘ভাঙ্গা থেকে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যন্ত ২ লেনের সংকীর্ণ রাস্তা থাকায় এই সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। এতে বিভিন্ন সময় যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পৌঁছাতে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। যার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ পদ্মা সেতুর সুফল ভোগ করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। সে জন্য ভাঙ্গা-বরিশাল- কুয়াকাটা ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত, উদ্যোগ নেওয়া আহ্বান জানান।’ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলার সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ৩টি অত্যাধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত এসেছে। পদ্মার এপাড়ে বরিশাল অঞ্চলের ১১ জেলায় গত ৫৪ বছরেও কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম এখানকার কয়েক কোটি মানুষের চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিতে বরিশাল অঞ্চলে এই স্থাপন করবে সরকার। কিন্তু এখন শুনছি আমরা তাদের পরিকল্পনা থেকে বাদ পড়েছি। যেসব জায়গার কথা বলা হচ্ছে তার মধ্যে দুটি শহরে অনেক অত্যাধুনিক হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া সবগুলো হাসপাতাল কেনো পদ্মার উত্তর পাড়ে যাবে? দক্ষিণ পাড়েও যে ২৩টি জেলা আর দুটি বিভাগ রয়েছে উপদেষ্টারা সেটা কেন ভুলে যাচ্ছেন? ৩টি হাসপাতালের একটি বরিশালে স্থাপন করতে হবে। এটা আমাদের প্রাণের দাবি। সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেন করার প্রাথমিক কাজ শুরু করে সড়ক ও সেতু বিভাগ। ২০১৮ সালে প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করার পর অনুমোদনের জন্য সভায় প্রস্তাব তোলা হয়। ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণের অনুমোদন দেয় সরকার। ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ‘ভূমি অধিগ্রহণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণের জন্য খরচ ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় নির্ধারিত মেয়াদে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ প্রথম দফায় ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু এর পরও কাজ শেষ হয়নি। দ্বিতীয় দফায় দুই বছর সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। তাতেও কাজের খুব বেশি অগ্রগতি না হওয়ায় আবারও দুই বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে ৫ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করে। যা গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের একনেকের প্রথম সভায় ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সভার আগের দিন সড়ক ও জনপদ বিভাগ পুনরায় পর্যালোচনার জন্য চিঠি দিয়ে তা ফেরত নেয়। এরপর থেকে ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
