|
হার্ট, ওজন আর হজম—সব ঠিক রাখতে অলিভ অয়েলই সেরা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() হার্ট, ওজন আর হজম—সব ঠিক রাখতে অলিভ অয়েলই সেরা সম্প্রতি জার্নাল অব আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট অনুসরণ করেন এবং অতিরিক্ত ভার্জিন অলিভ অয়েল গ্রহণ করেন, তাদের ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট মূলত ফলমূল, সবজি, মাছ, বাদাম এবং অলিভ অয়েল নির্ভর খাবারের একটি পরিকল্পিত খাদ্যতালিকা। গবেষণা অনুযায়ী, এই ডায়েট শুধু ক্যানসার প্রতিরোধে নয়, বরং বয়সজনিত সমস্যা কমাতে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতেও সহায়ক। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় অনেকেরই ধারণা যে তেলজাতীয় খাবার হার্টের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গবেষণা বলছে, অলিভ অয়েল হার্টের জন্য উপকারী এবং এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অলিভ অয়েলে মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। ফলে রক্তনালী সুস্থ থাকে এবং হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ কম পড়ে। এছাড়া, আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা প্রতিদিন অলিভ অয়েল গ্রহণ করেন, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ না করে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা উচিত। ওজন কমাতে সাহায্য করে ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নানা রকম ডায়েট করেন, কিন্তু গবেষণা বলছে, অলিভ অয়েল নিয়মিত গ্রহণ করলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া সহজ হয়। অ্যাডভান্সেস ইন এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজি জার্নালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অলিভ অয়েলের মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট কমায়। এছাড়া, এটি লিপোটক্সিসিটি কমিয়ে শরীরের বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে, যা ওজন কমাতে কার্যকর। ওজন কমানো নিয়ে মনোবিজ্ঞানী জুডিথ টুটিন বলেন, যেকোনো দ্রুত ওজন কমানোর কৌশল সন্দেহজনক। প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে ওজন কমানোর চেষ্টা করা উচিত। অলিভ অয়েল ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হলেও পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করাই ভালো। হজমের সমস্যা দূর করে অলিভ অয়েল দীর্ঘদিন ধরে হজম সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে। যদিও এই বিষয়ে এখনো বড় আকারের গবেষণা হয়নি, তবে জার্নাল অব রেনাল নিউট্রিশন-এর কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েল প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্টের মতো কাজ করে, যা অন্ত্রের চলাচল স্বাভাবিক রাখে। এটি হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অলিভ অয়েল ব্যবহারের সহজ উপায় রান্নার জন্য সয়াবিন বা অন্যান্য স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা সালাদের ড্রেসিংয়ে অলিভ অয়েল মেশানো সকালের নাশতায় এক চা চামচ অলিভ অয়েল গ্রহণ করা পাস্তা বা গ্রিল করা খাবারে অলিভ অয়েল যোগ করা অলিভ অয়েল উপকারী হলেও এটি অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত, বিশেষ করে যারা ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করছেন। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে এটি ওজন বৃদ্ধির কারণও হতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
