|
যে সকল কারণে ভৈরব নদে প্রতিনিয়ত ডুবছে পণ্যবাহী জাহাজ
প্রিয়ব্রত ধর,অভয়নগর যশোরঃ
|
![]() যে সকল কারণে ভৈরব নদে প্রতিনিয়ত ডুবছে পণ্যবাহী জাহাজ সর্বশেষ গত রোববার(৯/২/২৫) ভৈরব নদে ইউরিয়া সারবোঝাই একটি কার্গোজাহাজ তলা ফেটে ডুবে যায়। কার্গো জাহাজের মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত চার কারণে ভৈরব নদে বারবার জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটছে। নিয়মিত খনন না করায় গুরুত্বপূর্ণ নওয়াপাড়া নৌবন্দরের ভৈরব নদের নাব্যতা-সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। খনন কাজ সুসম বা ধারাবাহিকভাবে করা হয় না। কোথাও গভীর আবার কোথাও মোটেও খনন করা হয় না। দ্বিতীয়ত নদ দখলের কারণে ভৈরব দিন দিন সরু হয়ে পড়ছে। এছাড়া অদক্ষ মাস্টার ড্রাইভার মুল চ্যানেলের বাইরে এসে নদের কিনারায় জাহাজগুলো নোঙর করে। চতুর্থত সময়মত মেরামত না করায় পণ্যের অতিরিক্ত ওজনের চাপ সহ্য করতে না পেরে পূরোনো জাহাজের তলা ফেটে তা পানিতে তলিয়ে যায়। জানা গেছে মুজতখালী থেকে আফরাঘাট পর্যন্ত নওয়াপাড়া নৌবন্দরের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। গত রোববার(৯/২/২৫) উপজেলার শুভরাড়া এলাকায় ভৈরব নদে আমদানি করা বিসিআইসির ৮৫০ মেট্রিকটন ইউরিয়া সারবোঝাই এম.ভি. সেভেন সীজ-৪ কার্গো জাহাজটির তলা ফেটে ডুবে যায়। সামিট অ্যাসোসিয়েটস ওই ইউরিয়া সারের পরিবহন ঠিকাদার। এম.ভি. সেভেন সীজ-৪ এর মাস্টার জুয়েল হোসেন জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি অভয়নগর উপজেলা শুভরাড়া খেয়াঘাটে ভৈরব নদে কার্গো জাহাজটি নোঙর করা হয়। এরপর ৯ ফেব্রয়ারি জাহাজ থেকে ইউরিয়া নামানোর সময় ভাটায় জাহাজের তলদেশের সাথে মাটিতে থাকা পাথর কিংবা শক্ত কোনো বস্তুর সাথে সজোরে আঘাতে জাহাজটির তলদেশ ফেটে জোয়ারের সময় জাহাজটি ধীরে ধীরে নদের পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা এলাকায় ভৈরব নদে আকিজ এসেনশিয়ালের গম বোঝাই এমভি ওয়েস্টার্ণ-২ কার্গো জাহাজটি কাত হয়ে পানি ঢুকে নদের পানিতে ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার সময় জাহাজে প্রায় ৭০০ মেট্রিক টন গম ছিল। গত বছরের ১৩ এপ্রিল শনিবার উপজেলার নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে কয়লা বোঝাই এমভি সাকিব বিভা-২ কার্গো জাহাজটি নওয়াপাড়া নোনাঘাট এলাকায় নোঙ্গর করার সময় তলা ফেটে নদে ডুবে যায়। জাহাজে ৬৮৫ মেট্রিক টন কয়লা ছিল। ওই কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জে এইচ এম গ্রুপের। একই বছর ১৫ জানুয়ারি উপজেলার ভাটপাড়া এলাকায় ভৈরব নদে কয়লাবোঝাই এমভি পূর্বাঞ্চল-৭ কার্গো জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যায়। জাহাজটিতে প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন কয়লা ছিল। এর দুদিন আগে ১৩ জানুয়ারি বিকেলে অভয়নগর উপজেলার ধুলগ্রাম এলাকায় নদে এমভি মৌমনি-১ নামের একটি কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজ তলা ফেটে ডুবে যায়। জাহাজে ৭০০ মেট্রিক টন কয়লা ছিল। আগের মাসে ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে অভয়নগর উপজেলার দেয়াপাড়া এলাকায় ভৈরব নদে এমভি আর রাজ্জাক নামের কয়লাবোঝাই জাহাজ ডুবে যায়। জাহাজে ইন্দোনেশিয়ার ৮২০ মেট্রিক টন কয়লা ছিল। বাংলাদেশ নৌ যান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার সদস্য সচিব নিয়ামুল ইসলাম রিকো বলেন, ‘নওয়াপাড়া ভৈরব নদে নব্যতা সংকট প্রকট। দখলে নদ সরু হয়ে আসছে। খনন কাজ সুসম বা ধারাবাহিকভাবে করা হয় না। কোথাও গভীর আবার কোথাও মোটেও খনন করা হয়না। যে কারণে ঘনঘন জাহাজ ডুবছে।’ নদীবন্দরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব নদনদীতে নাব্যসংকট রয়েছে। ভৈরব নদে ড্রেজিং চলছে। মূলত অদক্ষ মাস্টার ড্রাইভার নিয়ম না মেনে জাহাজগুলো মুলচ্যানেলের বাইরে এসে নদের কিনারায় নোঙর করে। তাছাড়া পূরোনো জাহাজের তলদেশ নিয়মিত ডকিং বা মেরামত না করায় অতিরিক্ত পণ্যের চাপে ভাটার এসব জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ছে।’ প্রিয়ব্রত ধর,অভয়নগর যশোর।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
