|
ভিতরবন্দ স্নাতক মহাবিদ্যালয় ও চিলমারীর সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
|
ভিতরবন্দ স্নাতক মহাবিদ্যালয় ও চিলমারীর সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতন হলে গত ৬ আগস্ট ২০২৪ইং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা মহাবিদ্যালয়ের অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে তার রুমে তালা লাগিয়ে দেওয়ার পর থেকে অধ্যক্ষ মহাবিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে। অপরদিকে কুড়িগ্রামের চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসায় অধ্যক্ষ নাজমুল হকের নিয়োগে অনিয়ম হওয়ায় তাকেও অপসারণের দাবি করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। অভিযোগে জানা যায়, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার "চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসার" অধ্যক্ষের শুন্য পদ পূরণে গত ২৩ জুলাই, ২০২৩ সালে, দৈনিক মানব জমিন ও দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় বেসরকারী বিধি মোতাবেক চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি বরাবর দরখাস্ত আহব্বান করা হয়েছে। উক্ত পদে মোট ১১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক ১১জন প্রার্থীকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করে তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (২৩ নভেম্বর, ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) মোতাবেক প্রার্থীর অভিজ্ঞতা ও চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা হলো, উপাধ্যক্ষ/সহকারী অধ্যাপক পদে ০৩ বছরের অভিজ্ঞতা এবং প্রভাষক হিসেবে (আরবি বিষয়সমুহে) ০৯ বছরের শিক্ষাকতার অভিজ্ঞতা অথবা দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে, ০৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আরবি (বিষয়সমুহে) ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নাজিমাবাদ দাখিল মাদরাসা (আলিম স্তরে উন্নীত) থেকে আবেদনকারী মোঃ নাজমুল হকের উক্ত প্রতিষ্ঠানে সুপার পদে ০১ বছর ০৮ মাস ও আলিম স্তরে প্রতিষ্ঠানটি উন্নীত হওয়ায়, সুপার পদ থেকে সমন্বিত হওয়া অধ্যক্ষ পদে ১১ মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে, কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও তার আবেদন পত্রটি যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক বৈধতা পাওয়ায় বাকী ১০ জন বৈধ প্রার্থীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়োগ কমিটির কর্ণগোচর হওয়ায় তারা নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সন্ধিহান হয়ে পড়েন। কিন্তু অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান গভর্ণিংবডিকে ম্যানেজ করে একেবারেই শেষ সময়ে চলতি বছরে গত ২০ জানুয়ারী নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে এতে নাজমুল হককে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ কমিটি নাজমুল হককে নিয়োগ দিবেন তা জানতে পেয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেননি আবেদনকারী অনেকেই। "পাত্রখাতা রিয়াজুল জান্নাহ্ দাখিল মাদ্রাসার" সুপার মাঃ মোঃ আব্দুল আজিজ আকন্দ বলেন, শুনেছি অন্য কাউকে নেয়া হবে তাই পরিক্ষায় অংশগ্রহন করিনি। পরিক্ষায় অংশ গ্রহনকারি ঐ মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাঃ মোঃ ইয়ার আলী বলেন, আমি পরিক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছি। আমার জানামতে নাজমুল হকের কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা পূরণ না হওয়ার সত্ত্বেও কি ভাবে কমিটি নিয়োগ দিলো তা নিয়ে হতবাক হয়েছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নাজমুল হক জানান, আমি বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি ও কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা পূরণ না হওয়ায় আমি ভাইস প্রিন্সিপালের পদের বেতন নিচ্ছি। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে কথা বলায় অধ্যক্ষ আমাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছেন, আমি এর তীব্র প্রতিবাদ এবং একই সাথে তার অপসারণ দাবি করছি। উক্ত মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব মাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রার্থীদের কাগজ পত্র গুলো ডিজিতে পাঠানো হয়েছে তারপর যাচাই বাছাই করে নিয়োগ বোর্ড করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টাকার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ নাজমুল হকের নিয়োগ বাতিল ও তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় অনেকে জোড় দাবি জানিয়েছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
