ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ৮ মে ২০২৬ ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
ভিতরবন্দ স্নাতক মহাবিদ্যালয় ও চিলমারীর সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Monday, 19 August, 2024, 8:57 PM

ভিতরবন্দ স্নাতক মহাবিদ্যালয় ও চিলমারীর সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি

ভিতরবন্দ স্নাতক মহাবিদ্যালয় ও চিলমারীর সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি

কুড়িগ্রামে অবৈধ ভাবে নিয়োগ হওয়া ভিতরবন্দ স্নাতক মহাবিদ্যালয় ও চিলমারীর সিনিয়র আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করা হয়েছে।

গতকাল ১৮ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভিতরবন্দ স্নাতক মহাবিদ্যালয়ে অবৈধ ভাবে নিয়োগ হওয়া অধ্যক্ষ  মিজানুর রহমান বুলবুলের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে মহাবিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারী।

মহাবিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে ১১টা ৩০ মিনিট হতে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ইউনুছ আলী, মোঃ আবুল হোসেন মিয়া, সফুরা খাতুন, আবু সাঈদ, মোঃ নুরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী, মোঃ সাহাব উদ্দিন, সাইদুর রহমান, গভর্নিং বর্ডির শিক্ষক প্রতিনিধি আশরাফুজ্জামান রাজু, হারুন অর রশিদ, প্রভাষক মোঃ তৈয়বুর রহমান প্রমূখ।

এসময় বক্তাগণ বলেন- এই সুনামধন্য মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক মিজানুর রহমান বুলবুল অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও অবৈধ ক্ষমতা বলে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ গ্রহণ করে। বিগত ৮ বছরেও তার এমপিও সিটে নাম অন্তর্ভূক্ত করে বেতন চালু করাতে পারেনি। অবৈধ ভাবে অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে থেকে পেশি শক্তির জোরে দুর্নীতি ও নৈরাজ্যে মেতে উঠেন। এই মানববন্ধন থেকে বক্তাগণ অভিলম্বে অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত অধ্যক্ষ বুলবুলের পদত্যাগ দাবি করেন। সেই সাথে অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচীর ঘোষণা করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতন হলে গত ৬ আগস্ট ২০২৪ইং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা মহাবিদ্যালয়ের অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে তার রুমে তালা লাগিয়ে দেওয়ার পর থেকে অধ্যক্ষ মহাবিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে।

অপরদিকে কুড়িগ্রামের চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসায় অধ্যক্ষ নাজমুল হকের নিয়োগে অনিয়ম হওয়ায় তাকেও অপসারণের দাবি করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

তারা জানায়, অধ্যক্ষ নাজমুল হকের অভিজ্ঞতা ও চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা পূরণ না হলেও চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসায় গভর্ণিং বডি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ তোলা হয়।

অভিযোগে জানা যায়, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার "চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসার" অধ্যক্ষের শুন্য পদ পূরণে গত ২৩ জুলাই, ২০২৩ সালে, দৈনিক মানব জমিন ও দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় বেসরকারী বিধি মোতাবেক চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি বরাবর দরখাস্ত আহব্বান করা হয়েছে। উক্ত পদে মোট ১১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক ১১জন প্রার্থীকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করে তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (২৩ নভেম্বর, ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) মোতাবেক প্রার্থীর অভিজ্ঞতা ও চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা হলো, উপাধ্যক্ষ/সহকারী অধ্যাপক পদে ০৩ বছরের অভিজ্ঞতা এবং প্রভাষক হিসেবে (আরবি বিষয়সমুহে) ০৯ বছরের শিক্ষাকতার অভিজ্ঞতা অথবা দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে, ০৫ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আরবি (বিষয়সমুহে) ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নাজিমাবাদ দাখিল মাদরাসা (আলিম স্তরে উন্নীত) থেকে আবেদনকারী মোঃ নাজমুল হকের উক্ত প্রতিষ্ঠানে সুপার পদে ০১ বছর ০৮ মাস ও  আলিম স্তরে প্রতিষ্ঠানটি উন্নীত হওয়ায়, সুপার পদ থেকে সমন্বিত হওয়া অধ্যক্ষ পদে ১১ মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে, কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও তার আবেদন পত্রটি যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক বৈধতা পাওয়ায় বাকী ১০ জন বৈধ প্রার্থীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়োগ কমিটির কর্ণগোচর হওয়ায় তারা নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সন্ধিহান হয়ে পড়েন। কিন্তু অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান গভর্ণিংবডিকে ম্যানেজ করে একেবারেই শেষ  সময়ে চলতি বছরে গত ২০ জানুয়ারী নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে এতে নাজমুল হককে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ কমিটি নাজমুল হককে নিয়োগ দিবেন তা জানতে পেয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেননি আবেদনকারী অনেকেই। "পাত্রখাতা রিয়াজুল জান্নাহ্ দাখিল মাদ্রাসার" সুপার মাঃ মোঃ আব্দুল আজিজ আকন্দ বলেন, শুনেছি অন্য কাউকে নেয়া হবে তাই পরিক্ষায় অংশগ্রহন করিনি। পরিক্ষায় অংশ গ্রহনকারি ঐ মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাঃ মোঃ ইয়ার আলী  বলেন, আমি পরিক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছি। আমার জানামতে নাজমুল হকের কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা পূরণ না হওয়ার সত্ত্বেও কি ভাবে কমিটি নিয়োগ দিলো তা  নিয়ে হতবাক হয়েছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ নাজমুল হক জানান, আমি বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি ও কাঙ্খিত অভিজ্ঞতা পূরণ না হওয়ায় আমি ভাইস প্রিন্সিপালের পদের বেতন নিচ্ছি। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে কথা বলায় অধ্যক্ষ আমাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছেন, আমি এর তীব্র প্রতিবাদ এবং একই সাথে তার অপসারণ দাবি করছি। 
উক্ত মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব মাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রার্থীদের কাগজ পত্র গুলো ডিজিতে পাঠানো হয়েছে তারপর যাচাই বাছাই করে নিয়োগ বোর্ড করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টাকার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ নাজমুল হকের নিয়োগ বাতিল ও তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয় অনেকে জোড় দাবি জানিয়েছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status