ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ৬ জুন ২০২৬ ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কেন বাড়ছে গরুর মাংসের দাম?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 18 February, 2024, 1:45 PM

কেন বাড়ছে গরুর মাংসের দাম?

কেন বাড়ছে গরুর মাংসের দাম?

শবে বরাত ও রোজা সামনে রেখে অস্থির হচ্ছে গরুর মাংসের বাজার। এতে ঝোঁপ বুঝে কোপ মারছেন বিক্রেতারা। কোনো দোকানে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ টাকা; তো কোনোটায় ৬৬০ টাকায়। আর এই দুইয়ের মাঝামাঝি অর্থাৎ, প্রায় ৭০০ টাকায় মাংস বিক্রি করছেন আলোচিত ব্যবসায়ী খলিল। এবার অবশ্য দাম বৃদ্ধির প্রশ্নে অন্যদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন তিনি।

রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে দুই মাস আগে ৫৯৫ টাকায় প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি করেছেন রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী খলিল। দৈনিক ক্রেতা চাহিদা মেটাতে ৪০ থেকে ৫০টি গরু প্রয়োজন হতো তার। তবে বর্তমানে বিক্রি নেমেছে অর্ধেকে। লোকসানের যুক্তি দেখিয়ে কেজিতে ১০০ টাকা দামও বাড়িয়েছেন আলোচিত এই ব্যবসায়ী।

 

তিনি বলেন, আমি তো গরু উৎপাদন করি না। আমি গরু কিনে বিক্রি করি। কাজেই আমি যে দামে কিনে আনি, আমি সেই দামেই বিক্রি করি।
 
টিকে থাকতে খলিল যখন ৬৯৫ টাকা দর বেঁধে দিয়েছেন, তখন মালিবাগ কাঁচাবাজারে ৬৬০ টাকায় মাংস বিক্রি করছে তাহের গোস্ত বিতান। এর ব্যবসায়ী জানান, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৬০ টাকায় বিক্রি করছি। মোকাম থেকে যে দামে কিনে আনছি, সেই দামেই বিক্রি করছি।
  
অবশ্য পাশের দোকানেই আবার প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম হাঁকা হচ্ছে ৭৫০ টাকা। এ বিষয়ে দোকানি বলেন, আমি যদি প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকার কমে বিক্রি করি, তাহলে আমার লাভ কিছুই হয় না। যারা কম দামে বিক্রি করছেন, তারা বাটপারি ছাড়া আর কিছু করছেন না।
 
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব বলছে, মাসের ব্যবধানে এক কেজি গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা পর্যন্ত। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসন্ন কোরবানির ঈদের কারণে গরু ছাড়ছেন না খামারিরা। কেউ বা তুলছেন কারসাজির অভিযোগও।
 
এক ব্যবসায়ী বলেন, রোজার পরই তো কোরবানির ঈদ। দুই ঈদের মধ্যে মাত্র দুই থেকে আড়াই মাসের ব্যবধান। এর জন্য খামারগুলো এখন গরু বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে।
 
এক ক্রেতা বলেন, গরুর মাংসের দাম এতই বেশি যে বছরে এক কেজি মাংস কিনে খেতে পারি না। দেশে যে জিনিসের দাম বাড়ে, সেই জিনিসের দাম আর কমে না। এখন যদি সবাই গরুর মাংস কেনা বন্ধ করে দেয়, তাহলেই দাম কমা শুরু করবে।  
 
এদিকে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি বলছে, কোরবানির পশু বেশি দামে বিক্রির জন্য এখনই বাজার থেকে ফার্মে গরু নিয়ে লালন পালন করছেন খামারিরা। এতেই সংকট দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির মহাসচিব রবিউল ইসলাম বলেন, 

গরুর দাম কমে যাওয়ায় বাজার থেকে শতশত হাজার হাজার গরু খামারিরা কোরবানি উপলক্ষে কিনে নিয়ে গেছে। এই যে বাজারে কৃত্রিম পশুর সংকট তৈরি করা হচ্ছে, এর পেছনে মহানায়ক হচ্ছে ফার্মের মালিকরা।
  
তবে সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলছেন, ৭ ডিসেম্বর দাম নির্ধারণের পর রাজধানীর বাইরের ব্যবসায়ীরা এসে কম দামে গরু নিয়ে যায়, যাতে সংকট তৈরি হয়। নতুন খবর হচ্ছে, শবে-ই বরাতের আগে আবারও নতুন দাম নির্ধারণ হবে, যা একযোগে সারাদেশ পালন করবে।
 
তিনি আরও বলেন, এক মাসে পর বসে আমরা আবার গরুর মাংসের দাম সমন্বয় করব। যদি দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ার মতো এমন কোনো ঘটনা ঘটে তা পর্যালোচনা করা হবে। এখন বাজারে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, এর জন্য মাংস ব্যবসায়ীরা আমাদের সঙ্গে বসেননি। তারা নিজস্ব গতিতেই গরুর মাংসের দাম বাড়িয়ে কেজিপ্রতি ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকায় নিয়ে এসেছেন।
 
দাম নির্ধারণ নিয়ে এখনো মুখোমুখি অবস্থানে মাংস ব্যবসায়ী সমিতি ও ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন। কাজেই পূর্বের দরেই মাংস মিলছে না বাজারে, এখন অপেক্ষা নতুন দামের।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status