|
এই শান্ত বড্ড ক্লান্ত
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() এই শান্ত বড্ড ক্লান্ত তেইশের সেই শান্তর ব্যাট চব্বিশে এমন শান্ত হয়ে গেছে, একটিও পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস নেই। ১০ ম্যাচে ব্যাটিং পারফরম্যান্সের যোগফল ১২৪ রান। শান্তকে এতটা খারাপ সময় কেন পার করতে হচ্ছে– জানতে চাওয়া হলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের কোচ রাজীন সালেহ নির্দিষ্ট করে কোনো সমস্যার কথা বলতে পারেননি। জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়কের কাছে মনে হয়েছে, শারীরিক ক্লান্তি ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে ক্লান্ত করেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়ে আবার তিনি রানে ফিরবেন বলে বিশ্বাস সিলেট কোচের। ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হয়েছিলেন শান্ত। লর্ড শান্ত বলে টিপ্পনী করা হয়েছে। এই তিরস্কার মুখবুজে সহ্য করে গিয়েছিলেন টি২০ বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেন। দেশে ফিরে ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজে ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। ২০২৩ সালটা শুরু হয়েছিল স্বপ্নের মতো। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দুই মঞ্চেই ভালো রান পেয়েছেন। বিপিএলে চার ফিফটিতে ৫১৬ রান ১৫ ম্যাচ খেলে। ফাইনালেও খেলেন পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস। জাতীয় দলেও পারফরম্যান্সের ছাপ রাখেন। বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। বিশ্বকাপে ছিলেন সাকিব আল হাসানের ডেপুটি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, নিউজিল্যান্ডে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ও টি২০ জয় পাকাপাকি অধিনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তাঁকে। সেই শান্তই নতুন বছরে চরম ফ্লপ। যদিও কোচ রাজীন সালেহ বিষয়টিকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন, “মাঝেমধ্যে ব্যাটাররা ‘স্লিপ মুডে’ চলে যায়। অর্থাৎ খারাপ সময় পার করে। এবার বিপিএলটা তার ভালো যাচ্ছে না। আমরা সব দিক থেকে, পজিশন পরিবর্তন করে খেলিয়ে ব্যাডপ্যাচ থেকে বের করার চেষ্টা করেও সফল হইনি। আমি চাইব, শেষ দুই ম্যাচে রান করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাক। পরের ম্যাচ খেলে তিন দিনের বিরতি। এ সময় কোনো অনুশীলন রাখা হবে না। সবাই মিলে ঘুরে বেড়াব, আনন্দ করে হালকা হবো। কারণ শান্তর একটা বিরতি দরকার।” টানা ক্রিকেট খেলে ক্লান্ত ছিলেন শান্ত। যদিও বিপিএল শুরুর আগে যথেষ্ট বিশ্রাম পেয়েছেন। টুর্নামেন্টের শুরুটা মন্দ ছিল না তাঁর। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৩৬ রান করেছিলেন। আশা করা হচ্ছিল পরের ম্যাচে আরও ব্যাটিং করবেন। অথচ হলো উল্টো, পরের ছয় ম্যাচে তাঁর রান ছিল– ১৪, ৫, ৫, ৯, ৩, ১। শেষ তিন ম্যাচে ৩৩, ১৮, ০। এ নিয়ে শান্তর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গলাব্যথা থাকায় কথা বলতে পারছেন না তিনি। ২০২৩-এর বিপিএলে ৪০ গড় আর ১১৬.৭ স্ট্রাইক রেটে খেলা শান্ত জাতীয় দলে ফিরলেই হৃত আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন বলে বিশ্বাস রাজীনের, শান্তর স্কিলে কোনো সমস্যা নেই। মানসিক সমস্যাও দেখছি না। আমার বিশ্বাস ও জাতীয় দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। সিলেটে ভালো খেলবে।’ বিপিএলের লিগ পর্ব থেকে ঢাকার পর সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিদায় নিশ্চিত। ২৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচ খেলবে তারা। এর পর শান্তদের ছুটি জাতীয় দলের সিরিজ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত। এই ছোট্ট বিরতি শান্তকে ক্লান্তিমুক্ত করবে বলে মনে করেন কোচ রাজীন সালেহ।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
