|
সাধারণ জ্বর নাকি ডেঙ্গু জ্বর
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() সাধারণ জ্বর নাকি ডেঙ্গু জ্বর এদের চেয়ে গুরুতর রোগী হচ্ছে, যাদের রক্তনালি থেকে প্লাজমা বের হয়ে ‘শক’ হয় বা না হয়। শকের রোগীর নাড়ি দ্রুত দুর্বল হবে, রক্তচাপের দুটি মান (সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিকের পার্থক্য) কাছাকাছি চলে আসবে (২০ এরও কম হতে পারে), হাত-পা ঠান্ডা, স্যাঁতসেঁতে হবে। রোগী অস্থির বা অবচেতন হবে। অনেকের নাড়ি ও রক্তচাপ নাও পাওয়া যেতে পারে। এসব লক্ষণ ছাড়াও চোখের পেছনে ব্যথা, গিঁটে ব্যথা, মাথাব্যথা, লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এক কথায়, চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা এবং রক্ত পরীক্ষা ছাড়া ডেঙ্গুকে সরিয়ে চিন্তা করা অসম্ভব। মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু জ্বরে নাক দিয়ে পানি পরা ও হাঁচি-কাশি হবে। কাশি (সাধারণত শুষ্ক), মাথাব্যথা, পেশি এবং জয়েন্টে ব্যথা, গুরুতর অস্বস্তি (অস্বস্থিবোধ), গলা ব্যাথা হতে পরে। ফ্লু সংক্রমণের ২ থেকে ৪ দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়। তবে অন্য কোনো কারণে জ্বরের কিছু লক্ষণ থাকলে চিকিৎসককে জানান।l শরীরে কোথাও জীবাণুর উৎস আছে কিনা যেমন– কান পাকা, টনসিলে প্রদাহ, নাক, চোখে চুলকানিসহ পানি পড়া, আগে থেকে কাশির ইতিহাস, আগে থেকে প্রস্রাবের সংক্রমণের ইতিহাস থাকলে জানাতে ভুলবেন না। এগুলোও জ্বরের কারণ হতে পারে l শিশুদের নিউমোনিয়া হলে বুকের কাশির সঙ্গে খাঁচা ভাঙা, বয়স অনুযায়ী দ্রুত শ্বাস, রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। তবে সমস্যা হলো, গুরুতর ডেঙ্গুতেও এসব সমস্যা এমনকি ফুসফুসের বাইরে পানি জমতে পারে।l টাইফয়েড হলে বমি, পেট ব্যথার পাশাপাশি জিহ্বা ও নাড়ির মাত্রায় কিছু পরিবর্তন আসে। এ জ্বর প্রায়ই দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক এর প্রকৃত চিকিৎসা। l জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ির অনেক কারণ আছে। ডেঙ্গুতে সাধারণত তৃতীয় কিংবা চতুর্থ দিনে এই ফুসকুড়ি দেখা দেয়। জ্বরের কততম দিনে ফুসকুড়ি এসেছে, শরীরের কোথায় প্রথম এসেছে– এগুলোর বৈশিষ্ট্য জানা চিকিৎসকের জন্য খুবই জরুরি। সম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে বলে সন্দেহ হলে এবং কোনো সতর্কতা লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সতর্কতা লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে– প্রচণ্ড পেট ব্যথা, ক্রমাগত বমি হওয়া, মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত, বমি, মল বা প্রস্রাবে রক্ত, ত্বকের নিচে রক্তপাত, ভারী ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, ক্লান্তি ও অস্থিরতা। ডেঙ্গু থেকে সাধারণ জ্বরকে আলাদা করা যদিও সাধারণ জ্বর এবং ডেঙ্গু একই রকম উপসর্গ প্রদর্শন করতে পারে, কিছু নির্দিষ্ট কারণ ডেঙ্গু শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। জ্বরের সময়কাল: সাধারণ জ্বর সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হয়, যেখানে ডেঙ্গু জ্বর এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে। গুরুতর মাথাব্যথা : ডেঙ্গুতে প্রায়ই তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেয়, বিশেষ করে চোখের পেছনে। জয়েন্ট এবং পেশি ব্যথা: ডেঙ্গু গুরুতর জয়েন্ট এবং পেশি ব্যথা সঙ্গে যুক্ত, প্রায়ই ‘ব্রেকবোন জ্বর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ত্বকে ফুসকুড়ি: সাধারণ জ্বরের চেয়ে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ফুসকুড়ি বেশি দেখা যায়। রক্তপাতের প্রবণতা: কম প্লাটিলেট সংখ্যার কারণে ডেঙ্গু রোগীদের নাক বা মাড়ি থেকে হালকা রক্তপাত পরিলক্ষিত হয়। জ্বরের কারণ যাই হোক, বিশ্রাম, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ তরল খাবার এবং পানি গ্রহণ, গা মুছে দেওয়া এবং ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেলে প্যারাসিটামল গ্রহণ করতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না। জ্বর বা ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ সেবন করবেন না। জ্বরের দিন বুঝে সেই অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করবেন। মশারি ব্যবহার, মোজা, লম্বা হাতা জামা পরবেন এবং চারপাশ মশামুক্ত রাখার চেষ্টা করবেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
