গাজীপুরে বিএনপি সমর্থকদের মেয়র প্রার্থী রনি, কেন্দ্র নেবে ব্যবস্থা
প্রকাশ: Friday, 28 April, 2023, 2:53 PM সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 30 April, 2023, 12:20 PM
গাজীপুরে বিএনপি সমর্থকদের মেয়র প্রার্থী রনি, কেন্দ্র নেবে ব্যবস্থা
আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের মধ্যেও মেয়র ও কাউন্সিলর পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকরা। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হচ্ছেন তাঁরা। মেয়র পদে বড় পদধারী নেতারা নির্বাচনে না গেলেও তাঁদের পরিবারের সদস্য কিংবা পদহীন নেতারা নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সরকার শাহ নূর ইসলাম রনি। তিনি কারান্তরীণ বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে এবং বিগত নির্বাচনে বিএনপিদলীয় মেয়র প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারের ভাতিজা। রনি দলের কোনো পদে নেই। অবশ্য গাজীপুর সিটির ৫৭টির মধ্যে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই বিএনপির পদধারী নেতা ও সাবেক নেতারা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন।
অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ সিটি নির্বাচনে বিএনপি কিছুটা কৌশলী ভূমিকাও নিতে পারে। প্রকাশ্যে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার জাতীয় রাজনীতির নীতিগত সিদ্ধান্ত অটুট থাকছে। আবার মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে দলীয় পদবিহীন বিএনপি নেতার ছেলেকে ‘মৌন সমর্থন’ দিয়ে নির্বাচনী মাঠ দখলের কৌশলও নিয়ে থাকতে পারে। রাজনৈতিক মাঠে এ ধরনের কৌশল হতেই পারে।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির। তাঁরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে দল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যে বলেছেন, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী না থাকলেও ‘ঘোমটা পরে’ ইতোপূর্বে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই তাদের প্রার্থী ছিল। এই ঘোমটা পরা প্রার্থী কিন্তু এবারের সিটি নির্বাচনেও থাকবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে সরকার শাহ নূর ইসলাম বলেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন। ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দলের কোনো চাপ আসছে কিনা– জানতে চাইলে বলেন, চাপ তো পাচ্ছিই না; বরং দল মৌন সমর্থন দিচ্ছে।
একইভাবে বরিশাল সিটির বিএনপি-দলীয় সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন জানান, দল থেকে তাঁকে কোনো চাপ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গাজীপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাশিমপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক তাহাজ উদ্দিন মোল্লাহ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড-বাসন থানা বিএনপির সদস্য সচিব মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী মুসা, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাতা, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সমর্থক তানভীর আহমেদ, ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সমর্থক শহীদুল ইসলাম, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হান্নান মিয়া হান্নু, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেট্রো সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাসান আজমল ভূঁইয়া, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে পুবাইল থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম বিকি, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুলতান উদ্দিন আহমেদ, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফি উদ্দিন সফি, ৪৯ নম্বর মহানগর বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেন মিলন, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল হাশেম ও মহানগর বিএনপির সদস্য জহির উদ্দিন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শওকত হোসেন বলেন, তাঁরা দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন। এ সরকারের অধীনে যাঁরাই নির্বাচনে যাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার নতুন করে সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে মেতেছে। যখন বিএনপি সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে, ঠিক তখনই সিটি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন করছে সরকার। অর্থাৎ সিটি নির্বাচন হবে তথাকথিত নির্বাচন। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলের কেউ নির্বাচনে গেলে তাঁকে বহিষ্কার করা হবে।