প্রকাশ: Sunday, 16 April, 2023, 9:57 AM সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 16 April, 2023, 10:31 AM
‘ঈদের আগে আমার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে’
‘শুক্রবার ছুটির দিন ছিল। ঈদের আগে বেচাকেনা ভালোই হয়েছে। রাত ২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাই। সকালে এসে দেখি, আমার সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’ রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় মনিরুল ইসলাম এভাবেই বলছিলেন। দুপুরে তার সঙ্গে কথা বলার সময়ও মার্কেটের তৃতীয় তলায় আগুন জ্বলছিল। এ দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, ‘আগুনে আমার দোকান পুড়ে গেছে। আমার স্বপ্ন শেষ। এই আগুনে আমার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি পথের ফকির হয়ে গেছি।’ তার দাবি, দুই দিন আগে তিনি ৫ লাখ টাকার মালামাল তুলেছেন, কিন্তু আগুনে তার দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কেবল মনিরুল নন, তার মতো অনেকের দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। আগুনে চারটি দোকান পুড়েছে আবু সাঈদের। শুক্রবার রাত আড়াইটার সময় হাবিব ফ্যাশন দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরে যান। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন লাগার খবর পেয়ে চলে আসেন দোকানে। দেখতে পান, তাদের চারটি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের চারটি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। সব মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। এখন আমরা কী করব?’
শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরেন লিংকিং পার্ক দোকানের মালিক রবিন। তিনি বলেন, দোকান বন্ধ করে বাসায় যাওয়ার পর আগুন লেগেছে। তিনি ক্যাশে ৬ লাখ টাকা রেখে বাসায় যান। ঈদ উপলক্ষ্যে দোকানে মাল তুলেছিলেন অন্তত ১০ লাখ টাকার। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, রাতে তুতীয় তলা লাগোয়া একটি ফুটওভারব্রিজ ভাঙার কাজ চলছিল। ভোরে তারা আগুন লাগার খবর পান। এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা খুঁজছেন তারা।
নিউ সুপার মার্কেটের ৩২০ নম্বর দোকান ‘আলিজাজ কালেকশন’-এর মালিক রাকিব হোসেন (৪০)। শুক্রবার রাতে ঈদের বেচাবিক্রি শেষে নগদ ১ লাখ টাকা রেখে যান ক্যাশে, সকালে আরো লাখ দুয়েক টাকার মাল কেনার কথা। কিন্তু ভোরে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় রাকিবের দোকান। কোনো মালামালই বের করা সম্ভব হয়নি। রাকিব বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমি তো ভিখারি হয়ে গেলাম! ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিস্তির ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করব কীভাবে? মহাজনের টাকা দিমু ক্যামনে?’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাকিব হোসেন বলেন, ‘আমার ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছেগা ভাই। একটা মালও বের করতে পারিনি। ভোর ৫টায় আগুন লাগার খবর পেয়ে এসেছি। কিন্তু এত বেশি আগুন ছিল, ভেতরে ঢুকতে পারিনি। এখন আমি কিস্তির ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করব কীভাবে? তিনি বলেন, নোয়াখালী থেকে এসে প্রথমে নিউ সুপার মার্কেটে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। পরে নিজের জমানো টাকা, সমিতি থেকে কিস্তি ও আত্মীয়স্বজন থেকে ধারদেনা করে দোকান নিয়েছিলাম। এখন আর আমার কিছুই নেই।’