ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
দুই ঘণ্টা জেসমিন কোথায় ছিলেন, কেউ বলছেনা
প্রকাশ: Thursday, 6 April, 2023, 10:40 AM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 6 April, 2023, 11:18 AM

দুই ঘণ্টা জেসমিন কোথায় ছিলেন, কেউ বলছেনা

দুই ঘণ্টা জেসমিন কোথায় ছিলেন, কেউ বলছেনা

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, নওগাঁর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী সুলতানা জেসমিনকে ২২ মার্চ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আটক করা হয়েছিল। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আটকের সময়টা হচ্ছে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে। আটক নিয়ে যে দুই রকম ভাষ্য পাওয়া গেল, তাতে সময়ের ব্যবধান দুই ঘণ্টা। এই দুই ঘণ্টা জেসমিন কোথায় ছিলেন, সেটা জানতে চান তাঁর স্বজনেরা।

আটকের পরদিন জেসমিনের বিরুদ্ধে রাজশাহীর কমিশনার কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব এনামুল হক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। সেই মামলায় বলা হয়, বাদীর তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের টহল দল রাস্তা থেকে জেসমিনকে আটক করেছে।

তবে জেসমিনের স্বজনদের দাবি, পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েই র‍্যাব অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করেছে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ওই দিন বেলা সোয়া একটায় নওগাঁর হাসপাতালে ভর্তি করার আগপর্যন্ত জেসমিনের অবস্থান সম্পর্কে তাঁর পরিবার কোনো তথ্য পায়নি। হাসপাতালে নেওয়ার আগপর্যন্ত জেসমিনকে কোথায় রাখা হয়েছিল, এখন সেটা জানতে চান তাঁর স্বজনেরা।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, জেসমিনকে আটকের পর থানায় নেওয়ার পথে অসুস্থবোধ করলে তাঁকে নওগাঁ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরদিন তিনি মারা যান।

জেসমিনকে আটকের সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন আবু হায়াত, যাঁকে অভিযানের সময় জব্দতালিকার সাক্ষী করেছে র‌্যাব। এর পরদিন (২৩ মার্চ) প্রতারণার অভিযোগে জেসমিনের বিরুদ্ধে যুগ্ম সচিব এনামুল হক রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় যে মামলা করেন, তাতেও আবু হায়াতকে সাক্ষী করা হয়েছে।

আবু হায়াত নওগাঁ শহরের কল্পনা হার্ডওয়্যার নামের একটি দোকানের কর্মী। তিনি বলেন, (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের জনকল্যাণ মোড়ের দিক থেকে মুক্তির মোড়ে তাঁর দোকানের সামনের রাস্তায় এক ব্যক্তি একটি রিকশা থামান। ওই রিকশার আরোহী একজন নারী, তিনি মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। রিকশাটা থামানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে র‍্যাবের একটি মাইক্রোবাস সেখানে পৌঁছায় এবং তাঁরা ওই নারীকে (জেসমিন) গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পুরো ঘটনা ঘটেছে ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে। তখন র‍্যাবের একজন সদস্য একটি কাগজে আবু হায়াতকে স্বাক্ষর করতে বলেন। স্বাক্ষর করার পর র‌্যাব সদস্যরা ওই নারীকে নিয়ে চলে যান।

কল্পনা হার্ডওয়্যারের ব্যবস্থাপক আবুল বাশারও একই রকম বর্ণনা দিয়েছেন। মুক্তির মোড়ে অবস্থিত মেসার্স রেহেনা মেডিকেল স্টোরের মালিক শফিকুল ইসলামও ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি জেসমিনকে আগে থেকে চিনতেন। তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর মামা নাজমুল হককে দ্রুত মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন শফিকুল। গত মঙ্গলবার শফিকুল বলেন, জেসমিন র‌্যাব সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। তাঁরা জেসমিনকে পরিচয়পত্র দেখিয়েছিলেন।

জেসমিনকে যে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আটক করে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে গেছে, তা এই তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীই নিশ্চিত করেছেন।
দুই ঘণ্টা হেফাজতে রাখার কথা অস্বীকার

মামলায় যুগ্ম সচিব এনামুল হক দাবি করেন, তিনি রাজশাহী থেকে দাপ্তরিক কাজের উদ্দেশ্যে ২২ মার্চ নওগাঁয় যান। ওই দিন বেলা ১১টা ১০ মিনিটে নওগাঁ বাসস্ট্যান্ডে র‍্যাবের টহল দলকে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে র‍্যাবের ওই দল জেসমিনকে আটক করতে মুক্তির মোড়ে আসে। ১১টা ৫০ মিনিটে জেসমিনকে র‌্যাব আটক করে। সাক্ষীদের সামনে জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জব্দতালিকা করে র‍্যাব। পরে আবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় জেসমিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে নওগাঁর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

র‍্যাব ঘটনার দিন যে জব্দতালিকা করেছে, সেখানেও তালিকার সময় উল্লেখ করা হয়েছে দুপুর সাড়ে ১২টা। তবে জব্দতালিকার সাক্ষী আবু হায়াত প্রথম আলোকে বলেছেন, জেসমিনকে আটকের পর নিয়ম রক্ষার কথা বলে র‌্যাব সকাল পৌনে ১০টার দিকে একটি কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নিয়েছে।

কিন্তু সকাল পৌনে ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা জেসমিন র‌্যাবের হেফাজতে ছিলেন, সেটা র‍্যাব স্বীকার করছে না।

জেসমিনকে তুলে নেওয়ার সময় অভিযানে থাকা সদস্যরা র‌্যাব-৫–এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের। বিষয়টি জানতে গত দুই দিন র‌্যাব-৫–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি সম্ভব হয়নি। পরে গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহীতে র‌্যাব-৫–এর অধিনায়কের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি।

এরপর র‌্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, সুলতানা জেসমিনকে আটকের সময় সাক্ষী ছিল। সাক্ষীর সামনেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর কম্পিউটারের দোকানে নথি প্রিন্ট করা এবং অন্যান্য কার্যক্রম শেষে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় জেসমিন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

র‌্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, এজাহারে আটকের বিষয়ে যে সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সবই আনুমানিক সময়। এজাহারের সময় অনুযায়ী সাক্ষীর সামনে থেকেই জেসমিনকে আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে উল্লেখ করে কথা বলতে রাজি হননি।

জেসমিনের মামা নওগাঁ সদর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাজমুল হকের সঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ আদালত চত্বরে কথা হয়। তিনি বলেন, জেসমিন সাধারণত ৯টার পর অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। ওই দিনও জেসমিন একই সময়ে বের হয়েছিলেন। সাড়ে ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে তাঁকে র‌্যাব তুলে নিয়ে যায়।

নাজমুল হক বলেন, ‘জেসমিনকে আটকের যে সময়ের কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার আগের দুই ঘণ্টা জেসমিন কোথায় ছিলেন, ওই সময়ে তাঁর সঙ্গে কী হয়েছে, সেটা জানতে চাই।’ -প্রথম আলো

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status