দেশে পৌঁছেছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখেন সাবিনারা। তাঁদের বরণ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এছাড়া ছিল বাফুফের একটি প্রতিনিধি দলও।
উপমহাদেশকে তাক লাগিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নারী ফুটবলারদের দেশে ফেরা- এটি খুব সহজ সমীকরণের ছিল না। ছিল ইতিহাস হাতে নিয়ে ফেরা। আর এই ইতিহাসের সাক্ষি হতে বিমানবন্দরে মেয়েকে নিয়ে চলে গিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
বাঁধনকে দেখা যায় বিমানবন্দর এলাকার একটি ফুটওভার ব্রিজের ওভার। ছাদখোলা বাসে মেয়েরা রাজপথ ধরে শিরোপা হাতে নিয়ে যাবে সেটা বাঁধন অবলোকন করবেন। সেখানে সাধারণ কারো দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সুযোগ ছিল। বাঁধনও সেই ব্রিজে ওঠার অনুমতি নিয়ে নেন। সেখান থেকে ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে নিজের উত্তেজনা প্রকাশ করছিলেন।
মেয়েদের শিরোপা জয়ের বিষয়ে বেশ উত্তেজিত ছিলেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে এক্সাইটেড। ওদের সবকিছুই আমি দেখছিলাম, শেয়ার করছিলাম। আমি বিশ্বাস করি এইভাবে বাঁধভাঙার গল্পগুলো যখন সামনে আসবে তবে নারীর মুক্তি হবে। সেই জায়গা থেকে আমার ভীষণ আনন্দের ব্যাপার যে ওরা এরকম একটা অ্যাচিভমেন্ট নিয়ে আসছে। ’
বাঁধন বলেন,‘বিমানবন্দরে আসবো এটা পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু এসে কোথায় দাঁড়াবো বুঝতে পারছিলাম না। আমার মেয়ে উত্তরার একটি স্কুলে পড়ে। ওর ছুটি হলো একটায়, ওকে নিয়ে এসে বিমানবন্দর এলাকার কাউলা ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়ালাম। ’
ছজাদ খোলা বাসে মেয়েদের হাতে শিরোপা- এই মুহূর্তটি দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘আমরা দেড়টা থেকে চারটা পর্যন্ত ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলাম। ওরা যখন ওই ব্রিজ অতিক্রম করছিল তখন আমি আনন্দে চিৎকার করছিলাম, এতো জোরে জোরে চিৎকার করছিলাম যে মেয়ে বলছিল আমার কান ফেটে যাচ্ছে। আমার মেয়েও আনন্দ পেয়েছে। ওদের এই অর্জন অনেক মেয়েকে সাহস যোগাবে, স্বপ্ন দেখাবে- এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। ’
বাঁধন বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স ১১,ওরা আমার মেয়ের চেয়ে মাত্র কয়েক বছরের বড়। এতো ছোট ছোট বাচ্চার এতো বড় অর্জন দেখে, এতো বাধার সম্মুখীন হয়েও এতো বড় অ্যাচিভমেন্ট সেটা আসলে আমাকে ভীষণভাবে আনন্দিত করেছে। আমার আনন্দটা শেয়ার করার জন্য আমি এসেছি, এতো গরমে ধুলোয় এতো লোকের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ’