মুক্তি পেয়েছেন আফগানিস্তানে নিখোঁজ চার নারী অধিকারকর্মী
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 14 February, 2022, 7:52 PM
মুক্তি পেয়েছেন আফগানিস্তানে নিখোঁজ চার নারী অধিকারকর্মী
কয়েক সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তানে নিখোঁজ ছিলেন চার নারী অধিকারকর্মী। তাদেরকে মুক্তি দিয়েছে দেশটির ডি ফ্যাক্টো কর্তৃপক্ষ। খবর এএফপির।
রোববার আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) টুইটার পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়। এর মধ্যে তামানা জারিয়াবি পারইয়ানির মুক্তির খবর গতকালই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
তিনি ছাড়া আর যারা মুক্তি পেলেন তারা হলেন- পরওয়ানা ইব্রাহিমখেল, জাহরা মোহাম্মাদি এবং মুরসাল আয়ার।
আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে কাবুলে বিক্ষোভ করার কয়েক দিন পর গত ১৯ জানুয়ারি নিখোঁজ হন তামানা জারিয়াবি পারইয়ানি ও পরওয়ানা ইব্রাহিমখেল। এর কিছুদিন পর জাহরা ও মুরসালও নিখোঁজ হন। এ চার নারী অধিকারকর্মীর কয়েকজন স্বজনেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
তবে তালেবান সরকার শুরু থেকেই তাদের আটকের কথা অস্বীকার করে আসছে।
(ইউএনএএমএ-এর টুইটার পোস্টে বলা হয়েছে, নিখোঁজ চার আফগান নারী অধিকারকর্মী ও তাদের স্বজনেরা কোথায় আছেন, নিরাপদে আছেন কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা ছিল। অবশেষে তাদের সবাইকে মুক্তি দিয়েছে তালেবান সরকার।
নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তামানা পারিয়ানি।
ভিডিওকে তামানাকে বলতে শোনা যায়, ‘দয়া করে সাহায্য করুন। তালেবান সদস্যরা পারওয়ান টু এলাকায় আমাদের বাড়িতে এসেছে। আমার বোনেরাও বাড়িতে আছে।’
বন্ধ দরজার ওপারে থাকা মানুষদের তিনি বলছিলেন, ‘আপনারা কথা বলতে চাইলে আমরা কাল কথা বলব। এ মেয়েগুলোকে নিয়ে রাতের বেলা আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পারব না আমি।’
গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পর পরই অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে তালেবান সরকার। এছাড়াও আফগানিস্তানে নারীদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দেয়া হয়। অনেক কর্মক্ষেত্রে নারীদের কাজ করার অনুমতি বাতিল করা হয়। কাছের পুরুষ আত্মীয়ের সঙ্গ ছাড়া নারীদের এক শহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে তালেবান নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এবার ক্ষমতা দখলের পর বিধিনিষেধগুলো নমনীয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। তবে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ এখনো নারীদের ওপর বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা আরোপ করে রেখেছে। কীভাবে তারা জীবন যাপন করবে, তা নিয়ে নিয়মিত নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে।