পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি বাড়ি ফিরছিল রেললাইনের ওপর দিয়ে। খুলনা থেকে বেনাপোলগামী বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি তখন শিশুটির খুব কাছেই। এক মুহূর্তও সময় নিলেন না তিনি। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রেললাইনের ওপর উঠে পড়েন। টেনে নিয়ে রেললাইনের বাইরে নিয়ে আসতে সক্ষমও হলেন শিশুটিকে। কিন্তু নিজের ভারসাম্যটুকু রাখতে পারলেন না তিনি। পড়ে গেলেন পা পিছলে। চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় মাথা রক্তাক্ত হয় তার। স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে আনেন। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যশোর শহরের মুজিব সড়কের রেলগেটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মারা যাওয়া ব্যবসায়ীর নাম আবদুল হাকিম (৫৫)। তিনি যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ার আবদুর রশিদের ছেলে।
নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আবদুল হাকিমের ঘড়ির দোকান আছে। যশোরের হাঁটার সাথী নামে একটি সংগঠনের সদস্য তিনি। প্রতিদিনের মতো ভোরে সংগঠনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি হাঁটতে বের হন। হাঁটা শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি শহরের রেলেগেট পার হচ্ছিলেন। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেন ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক এ সময় হঠাৎ একটি শিশু রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। শিশুটিকে বাঁচাতে আবদুল হাকিম রেললাইনের ওপর উঠে পড়েন। শিশুটিকে টেনে রেললাইনের বাইরে নিয়ে আসতে পারলেও তিনি পা পিছলে পড়ে যান। এতে তার মাথায় চলন্ত ট্রেনের ধাক্কা লাগে।
যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।