ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
ইন্টার্নদেরকে যৌন হয়রানি, চিকিৎসক প্রত্যাহার
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: Friday, 4 February, 2022, 1:42 PM

ইন্টার্নদেরকে যৌন হয়রানি, চিকিৎসক প্রত্যাহার

ইন্টার্নদেরকে যৌন হয়রানি, চিকিৎসক প্রত্যাহার

ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহফুজুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুমিনুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।      

হাসপাতালের  তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুমিনুর রহমান বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. মাহফুজুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে আজ শুক্রবারের মধ্যেই রিলিজ করা হবে।

এ ছাড়া ডা. মাহফুজুর রহমানকে মারধর করায় ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা কাটানোর মাধ্যমেও শাস্তি প্রদান করা হয়ছে।  

এর আগে, বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা থেকে ইন্টার্নদের যৌন হয়রানির অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো ছয় ইন্টার্ন চিকিৎসকের তিন মাসের এক্সটেনশন ও বেতন-ভাতা কেটে রাখায় কর্মবিরতিতে চলে যায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালে কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিলেন না। ফলে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯ শতাধিক রোগী ভোগান্তিতে রয়েছেন।  

ডা. মুমিনুর রহমান বলেন, আজ শুক্রবার থেকে নিয়ম অনুযায়ী তাদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এটি অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এখন পর্যন্ত ডা. মাহফুজুর রহমানকে প্রত্যাহার ও নির্দেশনার ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়কের কোনো নোটিশ পাননি বলে জানান ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মীর ম ম বিল্লাহ তকী। তিনি বলেন, ‘ডা. মাহফুজুর রহমানের গায়ে হাত তোলা হয়নি। বরং আমরা অভিযোগ করায় আমাদের ছয় নারী সহকর্মীর বেতন-ভাতা কাটা হয়েছে। আমাদের দাবি দুটি। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, বেতন-ভাতা কর্তন করতে পারবে না। অপর দাবি হচ্ছে, অনতিবিলম্বে ডা. মাহফুজুর রহমানকে প্রত্যাহার করে আমাদের দেখাতে হবে। অন্যথায় আমাদের এই কর্মবিরতি থাকবে।

এ বিষয়ে ডা. মাহফুজুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. অমিত বলেন, ‘হাসপাতালের প্রত্যেক বিভাগে প্রতিদিন বিকেলে দুইজন ইন্টার্ন ও একজন মেডিক্যাল অফিসার দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু বুধবার রাত ১০টার পর থেকে ইন্টার্নদের অনুপস্থিতিতে ১ জন মেডিক্যাল অফিসার রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। একটি অবশ্য কষ্টকর। এ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ৯ শতাধিক রোগী কষ্ট পাচ্ছে।

টেকনাফের সাবরাং থেকে চিকিৎসা নিতে আসা কুলসুমা বলেন, আমার স্বামীকে গতকাল থেকে হাসপাতালে ভর্তি করালাম; কিন্তু একজন ডাক্তার এসে একবার দেখে গেছেন। তার আর কোনো খবর নেই। আমার স্বামী নিয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ’

রামু জোয়ারিয়ানা থেকে আসা হাফেজ আহমদ বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। বুধবার বিকেলে একজন ইন্টার্ন মহিলা ডাক্তার এসে দেখে গিয়েছিল। এবং রাতে আরেকজন আসবে বলা হলেও এ পর্যন্ত আর কেউ আসেনি। খুব কষ্ট হচ্ছে। ’

ঝিলংজা থেকে শিশুর চিকিৎসা নিতে আসা হুমায়ুন কাদের বলেন, ‘একজন মেডিক্যাল অফিসার এসে আমার বাচ্চাকে দেখে গেলেন, কিন্তু আর দেখা পাইনি তার। ইন্টার্ন ডাক্তাররাও নেই। চিকিৎসাসেবা এই রকম হলে রোগী ও রোগীর স্বজনরা আরো বেশি কষ্ট পাবেন। বর্তমানে হাসপাতালের সময়টা একটা ভেগান্তির মধ্যে যাচ্ছে। ’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status