কুমিল্লার মুরাদনগরে রোববার রাতে একজন পাগলকে জবাই করে হত্যা এবং দুইজনের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে জবাই করার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত মানসিক ভারসাম্যহীন নাছির মিয়া পাশের উপজেলার ভিংলাবাড়ী গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে। গুরুতর আহত তিশা গাড়ি চালক জসিম উদ্দিন মুরাদনগর উপজেলার নগর পাড় গ্রামের মৃত খোরশেদ ড্রাইভারের ছেলে। অপরজন গকুলনগর গ্রামের জয়দল হোসেনের ছেলে সেন্টু মিয়া।
আহতদের উদ্ধার করে মুরাদনগর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা টাওয়ারে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা আব্দুল আউয়াল বলেন, লোক মারফত জানতে পেরেছি আমার ছেলেকে বাখরনগর অনিক ব্রিকসের উত্তরে একটি সাঁটারবিহীন দোকান ঘরে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা স্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
আহত সেন্টু মিয়া বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি আসার সময় হক মিয়ার বাড়ির সামনে কাশেম ‘স’ মিলের কাছে আসার পর একজন লোক হাত বাড়ায় যাত্রী মনে করে গাড়ি থামানোর সঙ্গে সঙ্গে গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করি ততক্ষণে হাতসহ গলায় ধারালো ছুরি ঢুকে যায়। তারপর তিনি ‘স’ মিলের দিকে চলে যায়। আমার গাড়িটি নেয়নি। তাকে দেখলে চেনা যাবে।
জানা যায়, ‘স’ মিলের পশ্চিম পাশ- নবীনগর রোড হয়ে বাড়ি আসার পথে পেছন থেকে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে টান দেয়। এতে জসিমের গলা ও হাতের রগ কেটে যায়।
১৪ নম্বর নবীপুর পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান ও মুরাদনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল খায়ের বলেন, আচমকা এমন ঘটনায় বিস্মিত। জসিম আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পর তার ছোট ভাই ওয়াসিম আমাকে খবর দেয়। তখন রাত প্রায় ১১ টা হবে। জসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় আমার গাড়ি দিয়ে মুরাদনগর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা নিয়ে যাই। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মুরাদনগর থানার ওসি সাদেকুর রহমান বলেন, একজন পাগলকে হত্যা করার ঘটনায় অজ্ঞাত নামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপর দুইজন ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।