বন্যায় বিপর্যস্ত চীনের হেনান প্রদেশ। এরই মধ্যে সেখানে ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ঘরছাড়া হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। এই মৃত্যুর মিছিলে নাম লিখিয়েছেন এক মা–ও। তবে সন্তানেরও একই পরিণতি হবে, তা মানতে পারেননি তিনি। মাটির নিচে নিজে চাপা পড়া অবস্থায় কোলের সন্তানকে বাঁচাতে তাকে একটি নিরাপদ স্থানের দিকে ছুড়ে দেন।
উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ভারী বৃষ্টিপাতে হেনান প্রদেশের ওয়াংজংডিয়ান গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। চাপা পড়ে বাড়িঘর। এমন ভূমিধসের কবলে পড়ে এই মা-মেয়ের বাড়িটিও। এতে চাপা পড়ে দুজন। সেখানে তারা আটকা পড়ে থাকেন অনেকটা সময়। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে সন্তানকে উঁচুতে কিছুটা নিরাপদ স্থানে ছুড়ে দেন মা। উদ্ধারকারীরা শিশুটির খোঁজ পান। আর পরদিন সন্ধান মেলে মায়ের।
শিশুটিকে উদ্ধারের একটি ভিডিও চীনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে বের করা হচ্ছে। তার বয়স তিন থেকে চার মাসের মতো। উদ্ধারের পর শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, সে সুস্থ আছে। সংবাদমাধ্যম বেইজিং ইয়ুথ ডেইলিকে উদ্ধারকারীরা জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের এক দিন পর বৃহস্পতিবার ওই মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেটি জমাট বেঁধে নিথর অবস্থায় ছিল। মরদেহের হাত দুটো এমন ভঙ্গিতে ছিল, দেখে মনে হচ্ছিল মৃত্যুর আগে শেষ মুহূর্তে তিনি ওপরের দিকে কিছু তুলে ধরে ছিলেন।
নিজের জীবনীশক্তির একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ওই মা তাঁর সন্তানকে ওপরে তুলে ধরেন। এ কারণেই শিশুটির শেষ রক্ষা হয় বলে জানান ইয়াং নামের একজন উদ্ধারকারী।
ঝাও নামের এক উদ্ধারকারী জানান, ওয়াংজংডিয়ান গ্রামে অনেক বাড়ি ধসে পড়েছে। এখনো অনেক বৃদ্ধ ও শিশু আটকা পড়ে আছে। তাদের উদ্ধার করা কঠিন। কারণ, গ্রামটিতে যাওয়ার প্রধান সেতুটি পানিতে ভেসে গেছে।
রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা ও ধসে তছনছ হয়ে গেছে হেনান প্রদেশ। এর জের ধরে সেখানে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৩ জনের। উপদ্রুত এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দুই লাখের বেশি মানুষ। ৯ কোটি লোকের বাস প্রদেশটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী।
চীনে বর্ষাকালে প্রায় প্রতিবছরই বন্যার দেখা দেয়। দেশটিতে নদীর তীরে ব্যাপক হারে বাঁধ নির্মাণ এর জন্য বহুলাংশে দায়ী বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।