৭ সন্তান থাকলেও ভরসা নেই, শাক বিক্রি করেই চলছে মনোয়ারার জীবন
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 10 May, 2026, 10:46 AM
৭ সন্তান থাকলেও ভরসা নেই, শাক বিক্রি করেই চলছে মনোয়ারার জীবন
চার ছেলে, তিন মেয়ে—তবু কারও ওপর ভরসা না করে নিজের কাঁধেই সংসারের বোঝা টেনে যাচ্ছেন মনোয়ারা খাতুন। বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলেও থেমে নেই তিনি। কখনো বাজার থেকে, আবার কখনো নদীর ধারের মাঠ থেকে নিজ হাতে শাক তুলে এনে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার শাক বিক্রি করেই চলে তার সংসার।
রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর এফ/জি ব্লকের এভিনিউ রোডের জি ব্লকের শুরুতেই প্রতিদিন ভোরে বসেন মনোয়ারা। বড় ঝুড়িতে নানা ধরনের শাক নিয়ে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা–১০টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় তার দিনের বিক্রি।
রবিবারস(১০ মে) সকালে প্রতিদিনের মতোই সেখানে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। শীতল বাতাসের ভেতরেও তার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ, তবে কাজের প্রতি অদম্য জেদ স্পষ্ট।
কথা হয় মনোয়ারার সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার সংসারে চার ছেলে আর তিন মেয়ে। ছোট ছেলে ছাড়া সবাই বিয়ে করেছে, আলাদা হয়ে গেছে। স্বামী এখনো দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট ছেলেটা কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়েছে, এখন বাসাতেই থাকে। আগে অটো চালাতো।”
কথা বলতে বলতে থেমে যান না তিনি। যেন জীবনের হিসাবটা নিজের মতো করেই গুছিয়ে নিয়েছেন বহু আগেই।
মনোয়ারা বলেন, “কাম করি বলেই তো খাইতে পাই, বেঁচে আছি। কাম না করলে ক্যামনে চলমু। ছেলে-মেয়েরা তো আলাদা, তাদের সংসার আছে। আমরা তো এখনো চলতে পারি, তাই কারও বোঝা হই না।”
তিনি আরও বলেন, “দিনে ৪০০–৫০০ টাকা যা পাই, সেটাই দিয়ে বাসা ভাড়া, খরচ সব চলে যায়। মা-বাবা হিসেবে আমরা তো সন্তানদের বড় করছি, এখন তারা নিজের মতো চলছে।”
১৫ বছর আগে জামালপুরের ইসলামপুর থেকে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় আসেন মনোয়ারা ও তার স্বামী। প্রথমে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। পরে প্রায় পাঁচ বছর ধরে শাক বিক্রিকেই বেছে নিয়েছেন জীবিকা হিসেবে। স্বামী ইউসুফ আলী রিকশা চালালেও এখন তিনিও দিনমজুরের কাজ করেন এবং কখনো কখনো তিনিও শাক বিক্রি করেন।
একটু থেমে মনোয়ারা বলেন, “এখন এই বয়সে আর কী করব… যতদিন পারি, এভাবেই চলব। যখন আর পারব না, তখন হয়তো ঢাকা ছেড়ে চলে যাব।”
তার কণ্ঠে নেই অভিযোগ, নেই আক্ষেপ—শুধু জীবনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক নীরব দৃঢ়তা। তবে কথাগুলো শেষ হতে না হতেই চোখে ভেসে ওঠে দীর্ঘ পথচলার ক্লান্তি, আর হয়তো অজান্তেই ভিজে ওঠে চোখের এক কোণ।