|
ওয়াকফর ৮ লক্ষ একর সম্পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি
এম এস দোহা
|
![]() ওয়াকফর ৮ লক্ষ একর সম্পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি উল্লেখ্য, লাল ফিতার দৌরত্ব, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির যাঁতাকলে পড়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবত আইসিইউতে। প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোন জবাবদিহিতা, কাজের গতিশীলতা, ফলোআপ। সবকিছুতেই 'ধরি মাছ না ছুই পানি 'অবস্থা । কেউ যেন দায়িত্ব নিতে চায় না। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সবার। স্বাধীনতার পর সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অধিদপ্তর, পরিদপ্তরে ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে বাদ পড়ে যায় রাজধানীর ৭ ইস্কাটন রোডস্হ বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন। ধর্ম মন্ত্রীরা এখানে সাধারণত আসেন না। তাই এর জবাবদিহিতা ও সমস্যার অন্ত নেই। ধন্যবাদ নব নিযুক্ত ধর্ম মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদকে। তিনি ওয়াকফ প্রশাসনকে প্রধান মন্ত্রীর নজরে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এখন তিনি যদি অন্তত মাসে একদিন মগবাজারস্হ ওয়াকফ কার্যালয়ে সময় দেন তাহলে এই প্রতিষ্ঠানটির গতিশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। চিহ্নিত করা সহজ হবে ওয়াকফ প্রশাসনের সমস্যা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র । সেই সাথে ডিজিটালাইজাশানের মাধ্যমে হিলফুল ফুজুলের ফ্লেভারে জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের ওয়াকফ এস্টেট গুলোকে সাজানো যাবে। উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআনে ওয়াকফ সম্পর্কিত সরাসরি কোন আয়াত না থাকলেও এর সাদৃশ্য অনেক নির্দেশনা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ১৯ বার সাদকা, ৬৪ স্থানে ইনকাফ বা সাদকায়ে জারিয়ার ও দাতব্যকাজের জন্য নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামী চিন্তাবিদগণ যার ধারাবাহিকতায় ওয়াকফর বৈধতার ব্যাপারে সম্মত হন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা:) ১৭ বছর বয়সে হিলফুল ফুজুল নামক একটি সামাজিক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। যার মাধ্যমে অসহায় মানুষের সাহায্য ,দুস্হ্যদের আশ্রয় ও জানমালের নিরাপত্তা বিধানের মাধ্যমে মক্কা বাসীদের অনেক বিপর্যয়ের কবল থেকে রক্ষা করেন। অবশ্য,বাংলাদেশের ওয়াকফের সবগুলো দলিলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, শর্তও একই। যা হিলফুল ফুজুলের উদ্দেশের সাথে সদৃশ্য। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা:), নবী-রাসূল ও খলিফাগন তাদের কর্মকাণ্ডে সম্পাদনে জনকল্যাণমুখী বহু নজীর স্থাপন করেছেন এর ধারাবাহিকতায়। জনগণের দানকৃত ওয়াকফ সম্পদ গলো হিলফুল ফুজুলের আদলে এখন ইহুদি, খৃষ্টান, এনজিও ও বিভিন্ন ফাউন্ডেশনগুলোর কর্মকান্ড চলমান। অথচ আমার ওয়াকফ সম্পদগুলো গলাটিপে ধ্বংস করে যাচ্ছি। অথচ বাংলাদেশে শুধুমাত্র ওয়াকফ রাহিলিল্লাহ সম্পদগুলো সঠিকভাবে তত্বাবধান করলে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের দারিদ্রতা ও জনকল্যাণে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতো। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, বাংলাদেশে ওয়াকফ প্রশাসনের আওতায় ১৬৭৮২ টি ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮ লক্ষ একর। যা মাত্র ১০২ জন জনবল দিয়ে তদারকি ও তত্ত্বাবধান করা হয়। ইসলামের বিধি বিধান অনুসরণ পূর্বক জনকল্যাণে সাধারণ মানুষ এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ মহান আল্লাহর নামে উৎসর্গ করেছেন। যার গার্ডিয়ান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়াকফ প্রশাসন। দুঃখজনক হলেও সত্য, মহামূল্যবান এই সম্পদ তত্ত্বাবধানে গার্ডিয়ান হিসেবে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এই সুযোগ কাজে ভূমিদস্যুরা ভুয়া দলিল ও ক্রুটিপূর্ণ খতিয়ান সৃজনের মাধ্যমে ওয়াকফের অধিকাংশ সম্পদ গ্রাস করে চলছে। এই অসাধু কর্মের সাথে মোতাওয়াল্লী, ভূমি অফিসের একটি চক্র ও ওয়াকফ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও জড়িত। মূলত এই চক্রের কারসাজিতে রাহে লিল্লাহের অধিকাংশ সম্পদ এখন অনিরাপদ ও অভিভাবকহীন। প্রশ্নজাগে, বর্তমানে এই ১৬৭৮২টি ওয়াকফ এস্টেটের ৮ লক্ষ একর সম্পদের মধ্যে কতটুকু দখলে আছে? কি পরিমাণ বেহাত হয়েছে? কোন সম্পদগুলো নিয়ে মামলা চলমান? অপ্রিয় হলেও সত্য, এ সম্পর্কিত কোন ডাটা বা পরিসংখ্যান ওয়াকফ প্রশাসনে নেই। তাছাড়া প্রতিটি ওয়াকফ এস্টেট থেকে প্রতি বছর ২৫ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে প্রায় ৪২ কোটি টাকা আদায় করা হয়। এটাকার ব্যবহার নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক অফিসগুলোর কর্মকাণ্ড নেতিবাচক। তাদের কোন দায় দায়িত্ব ও ক্ষমতা নাই ওয়াকফ সম্পদ সংরক্ষণ বা তদারকিতে। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ছাড়া তারা নড়াচড়া করতেও অপারগ।শাখা অফিসগুলোর জন্য নেই যথাযথ পরিবহন ও টিএ ডিএ সুবিধা। হেড অফিস থেকে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের মধ্যেই তাদের দায়িত্বের ইতি। হেড অফিসে এসব তদন্ত প্রতিবেদন পৌঁছার পর তা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার মতো জনবল ও কর্মকতার অভাব। নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখানে আসেন শাস্তিমুলক পোস্টিং হিসেবে। অধিকাংশ সময় তাদের মন, মেজাজ, মুড খারাপ থাকে। ফলে তৃণমূলের বহু তদন্ত প্রতিবেদন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে বছরের পর বছর। প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্বরত প্রশাসক,পরিচালক,সহকারী পরিচালক কখন যোগদান করেন, আবার কখন অন্যত্র বদলী হন তা বুঝা মশকিল। ভালো জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য তারা উদগ্রীব ও উৎকন্ঠায় সময় অতিবাহিত করেন। বছর না ঘুরতে ওয়াকফ প্রশাসকের চেয়ার নতুন নতুন কর্মকর্তার পালাবদলই সেই কথা স্মরণ করে দেয়। মুলত: নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলীজনিত আসা যাওয়ার প্রতিযোগিতা কারনেই ওয়াকফ প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ফাইল পর্যালোচনার ধীরগতি। বিভিন্ন ওয়াকফ এস্টেটের বেদখলীয় সম্পদগুলা উদ্ধারে নিজস্ব জনবল ও ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও তাদের কাজে লাগানো যায়না মন্ত্রনায়ের একটি প্রজ্ঞাপনের করানে। তাই কর্তাব্যক্তিরা নিজেরা দায়-দায়িত্ব পুরোপুরি এড়িয়ে যান। একান্তই নিরুপায় হলে বেদখলকৃত সম্পদ উদ্ধারের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়। ব্যাস, আর কোন খোঁজ খবর নেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ওয়াকফ এস্টেট সম্পর্কে দাখিলকৃত অভিযোগ ও সমস্যাগুলো তদারকির অভাবে লাল ফিতায় বন্দী থাকে বছরের পর বছর। একপর্যায়ে এসব অভিযোগের ফাইল তামাদি ও ধামাচাপা পড়ে যায়। ধর্ম মন্ত্রী ও সচিবের সুপারিশকৃত অনেক ফাইল সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় লাল ফিতায় বন্দীর অসংখ্য নজির রয়েছে। এ প্রসংগেে, নারী শিক্ষার অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর ওয়াকফ এস্টেটের কথা উদহারন হিসেবে উল্লেখ করা দরকার। কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁওয়ে উপমহাদেশের একমাত্র মুসলিম মহিলা নবাবের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ীটির অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয় আসে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। গেজেটের মাধ্যমে ৪.৫৪ একর জায়গা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে এটি জাতীয় জাদুঘরের ৯ম শাখা। ২০টাকা দর্শনার্থী ফির মাধ্যমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। এই জাদুঘরের আয়ের শতকরা ৫ ভাগ ওয়াকফ প্রশাসনকে দেওয়া সিদ্ধান্ত এমওইউ মাধ্যমে নিশ্চিত হয় । যা ওয়াকফ সম্পদগুলো সংরক্ষণ ও জনকল্যাণে ব্যবহারে দৃষ্টান্ত। নবাব ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদের পরিমাণ ২৯৭ একর।যা বেদখলের পর এখন ৭ একরে দাঁড়িয়েছে। প্রত্নতত্ত্বের গেজেটভুক্ত বাড়িটির ঐতিহাসিক প্রবেশপথ সম্প্রতি ভূমিদস্যুরা বন্ধ করে দেয়। যা উদ্ধারে ওয়াকফ প্রশাসনের সাথে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক ঠেলাঠেলি চলছে প্রায় দুবছর। তৎকালীন ধর্ম উপদেষ্টা এব্যারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশে ওয়াকফ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে একটি চিঠির প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এনিয়ে জেলা প্রশাসনের মাথা ব্যাথা নেই। ওয়াকফর কাজ ওরা করবে কোনো? সম্পদ উদ্ধার করতে ওয়াকফ প্রশাসনের ম্যাজেস্ট্রিসি ক্ষমতা প্রয়োগে আইন আছে। কিন্তু এই আইন প্রয়োগে মন্ত্রনালয়ে একটি প্রজ্ঞাপন না থাকায় তা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। রহস্যজনক করনে ১২ বছর যাবত মন্ত্রনালয়ে লাল ফিতায় বন্দী এই প্রজ্ঞাপন জারি। তাই ওয়াকফর ম্যাজিস্ট্যাটরা উচ্ছেদ অভিযান যেতে পারেননা। অপ্রিয় হলেও সত্য, ওয়াকফ প্রশাসনের প্রধান কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল খতিয়ান সংরক্ষিত হচ্ছে অযত্ন অবহেলা ও চরম উদাসীনতায়। এনালগ পদ্ধতিতে ওয়াকফ সম্পদের বিবরণ, নথিপত্র সংরক্ষিত হচ্ছে। দলিলের সাথে আরএস ও বিএস খতিয়ানের সমন্বিত হিসাব নিকাশের বিষয়টি উপেক্ষিত। যা ডিজিটালাইজাশনের মাধ্যমে সংরক্ষণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কোন মন্ত্রী আজ পর্যন্ত উদ্যোগ নেননি। উপজেলা পর্যায়ে ভুমি অফিসে এসম্পর্কিত সঠিক তথ্য উপাত্ত নেই। সমন্বয় নেই ওয়াকফ প্রশাসনের সাথে ভূমিমন্ত্রনায়ের ডাটা। এই সমন্বয়হীনতার সুযোগে কাজে লাগিয়ে ভূমিদস্যুতারা দেশের অধিকাংশ ওয়াকফ সম্পদ ব্যাক্তিগত নমে বিএস রেকর্ড ও জবর দখলে নিয়েছে। যা উদ্ধার ও সংরক্ষণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রীর কাছে জনগনের প্রত্যাশা অনেক। উল্লেখ্য, আরবী ভাষায় ওয়াকফা থেকে ওয়াকফ শব্দটির উৎপত্তি। যার অর্থ বিরতি। পবিত্র কোরআনে তেলাওয়াতের সময় বিরতি চিহ্ন গুলোকে আওস্কাতে কোরআন বলা হয়। অপরদিকে কোন ব্যক্তি স্থাবর অস্হাবর সম্পদ মহান আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার বিষয়টিও ওয়াকফ। আল্লাহর নামে রাহেলিল্লাহ উক্ত সম্পদ জনকল্যাণে ব্যবহার করাই ওয়াকফের মর্মকথা। ওয়াকফ সম্পদ রাস্ট্রের প্রয়োজনে বাজেয়াপ্তের বিধান শুরুতেই ছিলোনা। বিধায় ব্রিটিশ সরকারও এ বিষয়টি বলবৎ রেখে ১৯১৩ সালের ৭ জুন মুসলিম ভেলিডোটিং অ্যাক্ট প্রণয়ন করেন।পরবর্তীতে ১৯২৯, ১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৬২ ও সর্বশেষ ২০১৩ সালে ওয়াকফ বিষয়ক বিধি-বিধান ও আইন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়। ১৮৮৯ -১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের পরবর্তীতে রিভিশলান সার্ভের (আরএস) সময় ওয়াকফ সম্পদগুলো সঠিকভাবে রেকর্ড ভুক্ত হয়নি। যা পরবর্তীতে বিএস করার সময়ও ওয়াকফ প্রশাসন সঠিক নজরদারির ক্ষেত্রে উদাসিনতার পরিচয় দিয়েছে। অসাধু মোতাওয়াল্লী ও ভুমিদস্যুরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নামে- বেনামে ওয়াকফ সম্পদ ব্যাক্তি মালিকানায় ক্রটিপূর্ণ বিএস খতিয়ানের মাধ্যমে দখল করে। যা এখন বাংলাদেশ অধিকাংশ ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদগুলোর জন্য গলার কাঁটা। ওয়াকফ প্রশাসন কাছে জায়গার তথ্য ও ডাটা চাইলে তারা স্হানীয় ভূমি অফিসকে দেখিয়ে দেয়। ভূমি অফিস বলে এসব ওয়াকফ প্রশাসনের ব্যপার। মোতাওয়াল্লী বলে আমি কিছু জানিনা। এই ঠেলাঠেলি কবলে পড়ে ওয়াকফর সম্পদগুলো এখন অবিভাবকহীন। হিলফুল ফুজুলের আদলে ৮ লক্ষ একর ওয়াকফ সম্পদ জনকল্যাণে কাজে লাগানোর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হোক প্রধানমন্ত্রী সাথে ওয়াকফ প্রশাসনের এই বৈঠকের মধ্যমে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
