ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৮ জুন ২০২৬ ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
২৫ বছর পর মাকে খুঁজে পেল হারিয়ে যাওয়া সন্তান
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 18 July, 2021, 11:27 AM

২৫ বছর পর মাকে খুঁজে পেল হারিয়ে যাওয়া সন্তান

২৫ বছর পর মাকে খুঁজে পেল হারিয়ে যাওয়া সন্তান

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউপির নোয়াকান্দা গ্রামের হারিছ মিয়ার ছেলে হারিয়ে যাওয়া আলমগীর দীর্ঘ ২৫ বছর পর মাকে খুঁজে পেয়েছেন। মা পেল হারিয়ে যাওয়া সন্তান।

অভাব অনটনের সংসার। নুন আনতে পানতা ফুরায়।তার মধ্যে পরিবারে সদস্য সংখ্যাও ছিল বেশি। ৬ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে ছিলো হারিছ মিয়ার অভাবের সংসার। পরিবারে সদস্য সংখ্যা  বেশি হওয়ায় সংসার চালানো তার পক্ষে ছিল খুবই কষ্টকর। একারণেই দীর্ঘ ২৫ বছর মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত থাকে হত-দরিদ্র পরিবারের আলমগীর।

নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে ২৫ আগে চট্টগ্রামে একটি বাসায় কাজের জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই সে কাজ করতো। তখন তার বয়স হয়েছিল ৮ বছর।এক বৎসর যেতে না যেতেই একদিন কাজের সুবাধে বাসার বাইরে গেলে আর বাসায় ফেরা হয়নি। বন্ধ হয়ে যায় বাড়ি ফেরার পথ। তখন ছোট্ট শিশু হারিয়ে যাওয়া আলমগীরকে আদর স্নেহ দিয়ে লালন পালন করেন নোয়াখালীর লিটনের মা।

মাইকিং করে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পড়েও হারানো বাড়িটির কাউকেই পাওয়া যায়নি সেই সময়ে। পড়ে লিটনের মায়ের কাছেই বড় হতে লাগলেন ছোট্ট শিশু আলমগীর। লিটনকে সে মামা বলে ডাকতেন আর লিটনের মাকে নানি। লিটনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার নধনা বাজারের দক্ষিণ সাততলা গ্রামে। লিটন চট্টগ্রামের একটি কারখানায় কাজ করতেন। একদিন লিটন কাজ শেষ করে বাড়ি যাওয়ার পথে রাজিবপুর ভোড়বাজার নামক স্থানে রাস্তার ধারে কাঁদতে দেখে এই শিশুটিকে। জিজ্ঞেস করলে ঠিকানা বলতে পারেনি। পরে লিটন শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যায়। তারপর কেটে গেলো দীর্ঘদিন, দীর্ঘ মাস, দীর্ঘ বছর। মায়ের চিরচেনা মুখ, পরিবার, সব সময়ের পরিক্রমায়  অচেনা হয়ে যায়। যুবক বয়সে পদার্পণ করলেন আলমগীর, বিয়ে করলেন এবং দু সন্তানের জনকও হলেন।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ছোটবেলায়ই শিশু সন্তান দুটি। বর্তমানে তার স্ত্রীকে নিয়ে নোয়াখালীর সেই মামার বাড়িতেই থাকেন। তার সংসার চলে রিকশা চালিয়ে।

তবে মনে আছে হারানো কিছু স্মৃতি। হ্দয়ের গভীরে আকুতি মাকে ফিরে পাবার। তাই মায়ের মুখ দেখার আকুতি নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় আর জে কিবরিয়ার স্টুডিও অব ক্রিয়েটিভ আর্টস এর অনুষ্ঠান ‘আপন ঠিকানায়’।তুলে ধরেন নিজের পরিচয়। আবেদন ছিলো মা বাবার পরিচয় পাওয়ার ও মায়ের মায়াবী মুখ দেখার। গত ১১ জুলাই রোববার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করার পর সেটি ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়া সাক্ষাৎকারটি তার বড়ো ভাই দেখে এবং সে আলমগীরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তারপর যোগাযোগ করে ফিরে পায় স্নেহের ছোট ভাই আলমগীরকে। মা ফিরে পায় তার আদরের সন্তানকে।

ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে মা তার সন্তানকে পেয়ে, মা-ছেলে দুজনেরই ঝরছিল অজোরে দীর্ঘদিন জমে থাকা চোখের অশ্রু। মা ফিরে পেলো হারানো সন্তান, ছেলে পেলো মমতাময়ী মা।

আলমগীর তার মা ও পরিবারকে দীর্ঘদিন না পাওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে একটু পর পরই কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status