ব্লাকমেইল করে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Friday, 21 May, 2021, 10:49 PM
ব্লাকমেইল করে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
ভার্চুয়াল জগতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে চালু হওয়া ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর ফেইসবুকে পেজে অভিযোগ করে প্রতিকার পেলেন ঢাকার দোহার উপজেলার এক গৃহবধূ। ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাইফুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার (২১ মে) তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানায় পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। সে দোহার উপজেলার নারিশা পশ্চিমচর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ জানান, তিন বছর আগে স্কুলে পড়াশোনা করা অবস্থায় দোহারের কবি নজরুল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তেন। ওই সময় ওই শিক্ষকের ছোট ভাই পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের সাথে তার পরিচয়। পরিচয়ের সুযোগে মোবাইল থেকে সাইফুল তার বেশ কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও খোলামেলা অবস্থার ভিডিও নিয়ে নেয়।
গৃহবধূ আরও জানান, সেই সময় ওই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করতে বাধ্য করে সাইফুল। এরপর সম্পর্কের একপর্যায়ে যোগাযোগের অ্যাপস ইমোতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় আমার অজান্তে আমার আপত্তিকর ভিডিও সে ধারণ করে রাখে। সেগুলো দেখিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করে সাইফুল।
তিনি বলেন, আমি আমার বান্ধবীদের মাধ্যমে জানতে পারি সাইফুল এভাবে একাধিক মেয়ের সাথে প্রতারণা করেছে। বিষয়টি আমি বুঝতে পেরে কৌশলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিই। প্রায় এক বছর আমার সাথে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ থাকে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সাইফুল। তারপর সে আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ফেসবুক আইডি খুলে সেখান থেকে আমার বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও এডিট করে আমার স্বামীর মোবাইলে পাঠাতে থাকে। এভাবে নামে-বেনামে কয়েকটি আইডি থেকে সে আমাকে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় করতে থাকে।
তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে মানসিকভাবে সহযোগিতার করার কারণে আমি তার মাধ্যমে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ এর কথা জানতে পারি। তার পরামর্শে আমি তাদের ফেইসবুক পেজের মেসেঞ্জারে বিষয়টি জানাই। পরে আমার সাথে ফোনে কথা বলেন ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর টিম। তারা প্রথমে দোহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি পরবর্তীতে মামলা করার পরামর্শ দেন এবং দোহার থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন মামলা গ্রহণের। এরপর গত ১৯ মে আমি বাদী হয়ে পুলিশ কনস্টেবল সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করি। ওই মামলার পর দোহার থানা-পুলিশ ফরিদপুর থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেন।
ওই গৃহবধূ বলেন, কখনো ভাবিনি পুলিশ এত সহজে একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিবে। আমি চাই এমন ঘটনায় ভুক্তভোগী অনেক নারী রয়েছেন তারা নির্দ্বিধায় ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর সহযোগিতা গ্রহণ করবেন। পুলিশের এমন উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটি ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’-এর ফেইসবুক পেজে বিষয়টি জানালে সেখান থেকে আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই গৃহবধূর মামলার ভিত্তিতে ফরিদপুর থেকে বৃহস্পতিবার সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে দোহার থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে শুক্রবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।