ভ্রুণ হত্যা করে কৌটায় ভরে প্রতিবেশীর ফ্রিজে রেখে দেন মা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 20 May, 2021, 7:10 PM
ভ্রুণ হত্যা করে কৌটায় ভরে প্রতিবেশীর ফ্রিজে রেখে দেন মা
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বেলুহার গ্রামের আব্দুর রশিদ ভূইয়া নামে এক ব্যক্তির ঘরের ব্যবহৃত ফ্রিজ থেকে পাঁচ মাস বয়সী মানবভ্রুণ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এর আগে বুধবার (১৯ মে) বিকেলে স্থানীয় কোনো এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশের এক এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বেলুহার গ্রামের আব্দুর রশিদ ভূইয়ার মেয়ে নিলু জানান, প্রতিবেশী সিরাজ ভূইয়া ও মাহমুদা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২৩) রোজার মাঝামাঝি সময়ে একটি প্লাস্টিকের কৌটা তাদের ফ্রিজে রেখে আসেন। বুধবার বিকেলে ফ্রিজ পরিষ্কার করতে গিয়ে ওই প্লাস্টিকের কৌটাটি সুমাইয়াকে নিয়ে যেতে বলেন। সুমাইয়ার আসতে দেরি দেখে কৌতূহলবশত নিলু ওই কৌটা খুলে তার মধ্যে মানবভ্রুণ দেখতে পান। বিষয়টি নিলু বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে সুমাইয়াকে খবর দেন। সুমাইয়া আসলে ভ্রুণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। সুমাইয়া প্রথমে এটি ‘বিড়ালের বাচ্চার ভ্রুণ’ বলে জানান। পরে স্থানীয় লোকজন এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে সুমাইয়া নিজের গর্ভের ভ্রুণের কথা স্বীকার করেন।
সুমাইয়া জানান, কয়েক মাস আগে তিনি গর্ভবতী হন। গর্ভধারণের পাঁচ মাস পরে নিজেই গর্ভের ভ্রুণ নষ্ট করেন এবং রোজার মাঝামাঝি সময়ে ওই ভ্রণ প্রসব করেন। প্রসবের পরেই ভ্রুণটি একটি প্লাস্টিকের কৌটায় করে সুমাইয়া নিজেই রশিদ ভূইয়ার ফ্রিজে রেখে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, তিন বছর আগে সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার বিল্বগ্রাম এলাকার সত্তার ঘরামীর ছেলে জামাল ঘরামীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর জামাল ও সুমাইয়ার ঘরে সন্তান জন্ম নেয়। তবে জন্মের কিছুদিন পর তাদের সন্তান মারা যায়। এরপর তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়।
পারিবারিক কলহের কারণে এক বছর আগে স্বামী জামালের সংসার ছেড়ে সুমাইয়া বাবার বাড়ি চলে আসেন। সেই থেকে সুমাইয়ার সঙ্গে জামালের কোনো সম্পর্ক নেই। এরপর থেকে বাবা-মার সঙ্গে গত এক বছর বসবাস করে আসছেন সুমাইয়া আক্তার। এসময় সুমাইয়ার বাবার বাড়িতে জামালকে আসতে এলাকার কেউ দেখেননি। তাহলে সুমাইয়া কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হলেন তা নিয়ে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সুমাইয়া আক্তার জানান, ছয় মাস আগে জামালের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক হয়। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আর স্বামীও ভরণপোষণ দিতেন না। ভরণপোষণ না পেয়ে স্বামীর ওপর রাগ করে তিনি গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন। এরপর ভ্রুণটি প্রয়োজনে আদালতে দেখানোর জন্য তিনি পাশের বাড়ির ফ্রিজে রেখেছিলেন।
আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, স্বামী মেলামেশা করলেও তাকে ভরণপোষণ দেন না আদালতে তা প্রমাণের জন্য মৃত ভ্রুণটি তিনি পাশের বাড়ির ফ্রিজে রেখেছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে ঘটনা জানাজানি হলে সুমাইয়া ভ্রুণটি মাটি চাপা দিয়ে দেয়ার কথা বলেন। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ না দেয়ায় পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে।