ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
‘নিষিদ্ধ’ অ্যাপে জুয়া খেলে হাজার কোটি টাকা পাচার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 20 May, 2021, 11:10 AM

‘নিষিদ্ধ’ অ্যাপে জুয়া খেলে হাজার কোটি টাকা পাচার

‘নিষিদ্ধ’ অ্যাপে জুয়া খেলে হাজার কোটি টাকা পাচার

জুয়া খেলার অ্যাপ ‘স্ট্রিমকার’ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও ‘ভিপিএন’র মাধ্যমে ঠিকই ব্যবহৃত হচ্ছে। অ্যাপটি দেশে ব্যবহার-প্রসারে হাতেগোনা কয়েকজন জড়িত থাকলেও জেনে না বুঝে লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহার করছেন।

আর এ জুয়া খেলতে প্রয়োজন ডিজিটাল কারেন্সি বিন্স ও জেমস। দুটি ‘ডিজিটাল মুদ্রা’ কেনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে চক্রের মাধ্যমে শত কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। বছরে যা হাজার কোটিরও বেশি।

এমনই এক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। নোয়াখালীর ‍সুধারামপুর, ঢাকার সাভার এবং রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- কুমিল্লার জমির উদ্দিন, নোয়াখালীর মো. হোসেন রুবেল ও মনজুরুল ইসলাম হৃদয় এবং নাটোরের অনামিকা সরকার।

গ্রেফতাররা স্ট্রিমকার ব্যবহার করে মুদ্রাপাচার করে আসছিল বলে দাবি অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের। স্ট্রিমকার অ্যাপে গ্রুপ চ্যাট, লিপসিং, ড্যান্স, গল্প, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জুয়া খেলার অপশন রয়েছে। বাংলাদেশে এই অ্যাপটিসহ যেকোনো জুয়া, অনলাইন প্রতারণা আইনিভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রতারকরা এর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে বছরে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।

বুধবার রাজধানীর বারিধারায় অ্যান্টি টেররিজিম মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) মোহাম্মদ আসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে এসব প্রতারণা এবং ডিজিটাল মুদ্রাপাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছিল অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। এরই অংশ হিসেবে স্ট্রিমকার-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে যারা মানুষকে প্রতারণা ও ডিজিটাল মাধ্যমে মুদ্রাপাচার করছে তাদের চার মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগের এ অ্যাপে দুই ধরনের আইডি রয়েছে। ইউজার আইডি বা হোস্ট আইডি। ইউজাররা সাধারণত সুন্দরীদের ও সেলিব্রেটিদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার জন্য অ্যাপটি ব্যবহার করে হোস্টদের একটি হোস্ট এজেন্সির মাধ্যমে হোস্টিং করেন। সুন্দরী এবং সেলিব্রেটিরাই সাধারণত এই এজেন্সির মাধ্যমে হোস্ট আইডি খোলেন। এর জন্য বিন্স নামে ভার্চুয়াল মুদ্রা কিনতে হয় তাদের।

সেই মুদ্রা উপহার হিসেবে দিয়ে আড্ডায় যুক্ত হতে পারেন ব্যবহারকারীরা। এই বিন্স হোস্টদের কাছে গেলে তা জেমস নামের ভার্চুয়াল মুদ্রা হয়ে যায়। সঞ্চিত জেমসের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে হোস্টদের আয়। এক লাখ বিন্স কিনতে ব্যবহারকারীদের দিতে হয় এক হাজার ৮০ টাকা। অপরদিকে হোস্টদের এক লাখ জেমসের দাম ধরা হয় ৬০০ টাকা। তবে হোস্টদের মাস শেষে বেতন পাওয়ার জন্য শুধু সঞ্চিত জেমসই যথেষ্ট নয়। তাদের প্রতিদিন ও প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময় লাইভ স্ট্রিমিংয়ে থাকতে হয়।

এসপি আসলাম বলেন, এই বিন্স এবং জেমস নামক ডিজিটাল কারেন্সিই আমেরিকান এই অ্যাপ স্ট্রিমকারের একমাত্র চালিকা শক্তি। দেশীয় বিন্স এজেন্সিগুলো সাব-এজেন্সি নিয়োগসহ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দরীদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে লোভনীয় অফার দিয়ে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে এনে ইউজারদের সঙ্গে প্রতারণাও করে থাকে। দেশে বিন্স এজেন্সি পরিচালনায় যুক্তরা নানা মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে।

এটিইউর সাইবার অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের এসপি মো. মাহিদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্ট্রিমকারের অন্তত ১১টি এজেন্ট রয়েছে। তারাই ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল মুদ্রা কেনাবেচা করে। লক্ষাধিক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী অনলাইন ব্যাংকিং, হুন্ডি, হাওয়ালা, ক্রিপটোকারেন্সি ও বিদেশি একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজিটাল মুদ্রা কিনছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে শত কোটির বেশি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status