ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১২ জুলাই ২০২৬ ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
ভ্যাট ৩৩ লাখ, দেখালো ৩৩ হাজার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 29 December, 2020, 7:44 PM

ভ্যাট ৩৩ লাখ, দেখালো ৩৩ হাজার

ভ্যাট ৩৩ লাখ, দেখালো ৩৩ হাজার

রাজধানীতে ফার্নিচারের একজন ব্যবসায়ী ভ্যাট কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসে বিক্রয় দেখিয়েছেন ৩৩ হাজার টাকা; অথচ ঐ মাসে তার প্রকৃত বিক্রি হয়েছিল ৩৩ লক্ষ টাকা! মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযানে এমন তথ্য মিলেছে মর্মে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

ঐ মাসে করোনার অজুহাতে দোকানে বিক্রয় নেই বলে ভ্যাট সার্কেলকে জানায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী। ‘ডাবল অ্যাকাউন্টিং’ এর পার্থক্যের এই চিত্র দেখে গোয়েন্দারাও বিস্মিত হন।

একজন কাস্টমারের দায়ের করা অভিযোগে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল ২৮ ডিসেম্বর পশ্চিম কাফরুলের জৈনপুর ফার্নিচারে এই অভিযান করে। সংস্থার সহকারী পরিচালক মাহিদুল ইসলাম এতে নেতৃত্ব দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিযোগ দায়েরকারী বলেন, তিনি ঐ দোকান থেকে ফার্নিচার কিনেছেন; কিন্তু তাকে ভুয়া ভ্যাট চালান দেয়া হয়। পরে তার সন্দেহ হলে তিনি ভ্যাট গোয়েন্দার নিকট অভিযোগ করেন।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখতে পায়, মিরপুরের রোকেয়া স্মরণীতে প্রায় এক বিঘা জায়গার উপর গড়ে ওঠা সুদৃশ্য এই ফার্নিচারের দোকান বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। ঐ দোকানের ভাড়া ৪.৫ লক্ষ টাকা; শোরুমে ফার্নিচার অতি উন্নতমানের ও দামি ব্রান্ডের।

অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট নিবন্ধিত হলেও ভুয়া ও ডুপ্লিকেট চালান ব্যবহার করে ফার্নিচার বিক্রয় করছে; ভ্যাটের জন্য তারা ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্টস সংরক্ষণ করছে। এতে স্থানীয় ভ্যাট সার্কেলে প্রকৃত বিক্রয় গোপন রেখে নামমাত্র বিক্রির তথ্য ঘোষণা করছে। ফলে কাস্টমার থেকে সংগৃহীত ভ্যাট সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে না।

অভিযানকালে ফার্নিচারের দোকান থেকে ব্যবসায়ীর বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করে গোয়েন্দারা। এতে দেখা যায়, কেবল মার্চ ২০২০ এ তাদের প্রকৃত বিক্রয় ছিল ৩৩ লক্ষ টাকা। কিন্তু তারা মিরপুর সার্কেলে রিটার্নে দেখিয়েছে মাত্র ৩৩ হাজার টাকা। অপ্রদর্শিত বিক্রয় ৩২.৬৭ লক্ষ টাকা।

এই বিক্রয় হিসাব গোপন করার কারণে এক মাসেই ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। ভ্যাট আইন অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানের উপর ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য।গোয়েন্দারা অন্যান্য মাসের অনুরূপ তথ্যও উদঘাটন করেছেন।

অনুসন্ধান করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, জৈনপুর ফার্নিচার মার্চ ২০২০ এ করোনার কারণ দেখিয়ে বিক্রয় কম প্রদর্শন করেছে। অথচ ঐ মাসে তাদের প্রকৃত বিক্রয়ের প্রায় ৯৯ শতাংশ গোপন করেছে। ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যেই এই তথ্য গোপন করা হয়েছে মর্মে গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা দলটি একই এলাকার অন্য একটি ফার্নিচার দোকানেও আকস্মিক পরিদর্শন ও অভিযান করে। হোমউড ফার্নিচার নামের ওই প্রতিষ্ঠানেও হিসাব গোপনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই অভিযানে হোমউড ফার্নিচার থেকে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২০ মাসের প্রকৃত বিক্রির তথ্য উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত তথ্যে দেখা যায় যে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ভ্যাট অফিসে বিক্রয় দেখানো হয়েছে যথাক্রমে ২৫ ও ৬৪ হাজার টাকা। কিন্তু ঐ দুই মাসে প্রকৃত বিক্রি হয়েছে ৪ লক্ষ ও ১৯.২৯ লক্ষ টাকা।

‘ডাবল অ্যাকাউন্টিং’ এর মাধ্যমে এই দুটো ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকির সাথে জড়িত হওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। গোয়েন্দা দল জব্দকৃত দলিল আরো যাচাই করছে। একইসাথে তাদের উভয়ের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে।আরো তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ভ্যাট গোয়েন্দা।
     
সম্পাদনায়: তাহের রাব্বী

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status