ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
শিক্ষা কর্মকর্তার গৃহহীন মেয়ের ঘরের ব্যবস্থা করলেন ইউএনও
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 30 November, 2020, 6:10 PM

শিক্ষা কর্মকর্তার গৃহহীন মেয়ের ঘরের ব্যবস্থা করলেন ইউএনও

শিক্ষা কর্মকর্তার গৃহহীন মেয়ের ঘরের ব্যবস্থা করলেন ইউএনও

সুখের সংসার ছিল শিল্পী বেগমের। বাবা এক সময়ে ছিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা। মাত্র সাত বছর বয়সে মাকে হারান শিল্পী বেগম। বাবার মৃত্যুর পর সৎমায়ের অত্যাচারে ঘর থেকে বের হয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় আব্দুল কাদের নামের এক স্কুল শিক্ষক তাকে বাধা দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর অনেক কষ্টে দিন কাটে শিল্পী বেগমের।

৪০ বছর ধরে বাস করছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার চওরাটারী গ্রামে একটি কুঁড়েঘরে। তার নিজ বাড়ি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলায়। তিনি সাবেক সহকারি থানা শিক্ষা অফিসার (এটিইও) মৃত হাবিবুর রহমানের মেয়ে।

এক সময়ে শিল্পী বেগম বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে গান গেয়ে শিশুদের আনন্দ দিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন। এভাবে ৩০টি বছর কেটে গেছে তার। এখন আর তার সেই বয়স নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যান। বর্তমানে তার দিন কাটছে অবহেলায়-অযত্নে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫০ ছুঁই ছুঁই শিল্পী বেগম সারাদিন পায়ে হেঁটে অন্যের বাড়িতে গিয়ে যেটুকু চাল-ডাল পান, তাই দিয়ে চলে তার অন্নভোগ। লাঠি ভর করে চলতে হয়। অসুস্থতা আর বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে একটি সরকারি পাকা ঘরে ঠাঁই পেয়েছেন শিল্পী বেগম। বর্তমানে পাকা ঘরে বসবাস করছেন তিনি।

শিল্পী বেগমের অসহায় অবস্থা দেখে লালমনিরহাটের আদিতমারীর সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস এলাকার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সাইয়েদা বেগম শিল্পী বেগমের নামে দুই শতক জমি দান করেন। এরপর সারপুকুর প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা (অটিস্টিক) বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুখশানারা সুলতানা মুক্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি পাকাঘর নির্মাণ করে দেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনছুর উদ্দিন।

জানতে চাইলে বৃদ্ধা শিল্পী বেগম (৫০) শুরু করলেন নিজের দুঃখ-ভারাক্রান্ত জীবনের সাতকাহন। এ সময় শিল্পী বেগমের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। দুই হাতে চোখের পানি মুছতে থাকেন আর বলেন সীমাহীন কষ্টের কথা। শিল্পী বেগম বলেন, কখনো একদিন খেয়ে চারদিন না খেয়ে ছিলাম। কষ্টে দিন কেটেছে। সাত বছরে বয়সে মা মারা যান। বাবা আবার বিয়ে করেন। এরপর নবম শ্রেণি শেষ করতে না করতে বাবা এক স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে আমার বিয়ে দেন।

বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামী অন্য এক ছাত্রীকে বিয়ে করে শিল্পী বেগমের বাড়িতে ডিভোর্স লেটার পাঠান। এ খবর শুনেই বাবার হার্ড অ্যাটাকে মৃত্যু হয়। কিছুদিন না যেতেই শুরু হয় সৎমায়ের নির্মম নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে অজানার উদ্দেশে পারি জমান শিল্পী বেগম। লালমনিরহাটের আদিতমারীর রউচব্যাগ এলাকায় ট্রেনে আত্মহত্যা করতে গেলে সেখানে থাকা এক স্কুল শিক্ষক (নাম আব্দুল কাদের) তাকে বাধা দিয়ে মেয়ে বানিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর পরিচয় মেলে শিল্পী বেগম বগুড়া কাহালু উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মৃত হাবিবুর রহমানের মেয়ে।


সারপুকুর প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুখশানারা সুলতানা মুক্তার বলেন, ‘তার এই অসহায় অবস্থা দেখে আমার মা দুইশত জমি তার নামে দান করেন। পরে আমি আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি একটি পাকাঘর বরাদ্দের জন্য আবেদন করি। পরে ইউএনও স্যারের মাধ্যমে তার জন্য একটি পাকাঘর নির্মিত হয়।’

তিনি আরও জানান, শিল্পী বেগমের বাবা যে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোঁজ নিয়ে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া তার সেই সৎমায়ের চার ছেলে ও এক মেয়ের সন্ধানও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনছুর উদ্দিন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই নারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।



সম্পাদনায়: খালেদ সুজন

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status