সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুরে যমুনা নদীতে অবাধে চলছে ইলিশ শিকার। এসব ইলিশ বিক্রিও করা হচ্ছে প্রকাশ্যে। প্রশাসন অভিযান চালালে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকে। অভিযান শেষে আবারো শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিশ্চিন্তপুর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীই ইলিশ শিকারীদের মূল জায়গা। আশপাশের গ্রামের অর্ধশতাধিক জেলে ১০-১৫টি নৌকা নিয়ে এ গ্রামে এসে নিশ্চিন্তে ইলিশ শিকার করছে। আবার এসব ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রিও করছে নদীর পাড়েই।
হালিম ব্যাপারী নামে এক জেলে বলেন, সরকার ইলিশ ধরা বন্ধ করলেও আমাদের কোনো উপায় নাই। পেট চালাতে হলে নদীতে নামতেই হবে।
আরেক জেলে আবুল কাশেম বলেন, নিষেধাজ্ঞা মানলে তো পেটে ভাত জুটবে না। পেটের দায়ে নদীতে নামতেই হয়। প্রশাসন অভিযান চালালে নদী থেকে চলে আসি। অভিযান শেষে আবার ইলিশ শিকারে যাই।
নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা তারিন মসরুর বলেন, নিশ্চিন্তপুরে ইলিশ শিকারের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, টাঙ্গাইলে ১৮ হাজার জেলের মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার জেলে ইলিশ শিকার করে। সরকারের বিশেষ ত্রাণ তহবিল থেকে পাঁচটি উপজেলায় ৩৭ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলে পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। চাল পাওয়ার পরও বেশি দামের লোভে অনেক জেলেই ইলিশ শিকার করছে।
তিনি আরো বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত ৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৩৮ কেজি ইলিশ উদ্ধার করে সরকারি শিশু পরিবার ও বিভিন্ন মাদরাসায় বিতরণ করা হয়েছে। ৮ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়েছে। ৬৬ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।