ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
র‌্যাব সদর দপ্তরে শাহেদ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 15 July, 2020, 1:05 PM

র‌্যাব সদর দপ্তরে শাহেদ

র‌্যাব সদর দপ্তরে শাহেদ

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদ করিম ওরফে মো. শাহেদকে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাকে নিয়ে সদর দপ্তরে পৌঁছায় র‌্যাবের বহর।

তার আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও পুরাতন বিমাবন্দর থেকে গাড়িতে করে তাকে নিয়ে রওয়ানা দেয় র‌্যাব।

এর আগে সকাল ৯টায় বিশেষ হেলিকপ্টারে করে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় আনা হয় শাহেদকে।

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদ করিম ওরফে মো. শাহেদকে ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর ব্রিজের পাশে থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শাহেদ সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি জিন্সের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের বোরকা পরে ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর সকাল ৮টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম থেকে শাহেদকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় র‍্যাবের হেলিকপ্টার।

এদিকে শাহেদ গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন বলে জানান র‌্যাবের এডিজি (অপারেশন) কর্নেল তোফায়েল অহমেদ। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, তিনি গোফ কেটে ফেলেছিলেন, সাদা চুল কালো করেছিলেন। এছাড়া পালানোর সময় তিনি বোরকা পরে ছিলেন।

ভারতে পালিয়ে গিয়ে শাহেদের মাথা ন্যাড়া করার পরিকল্পনা ছিল বলেও তিনি জানান।

তোফায়েল অহমেদ বলেন, নৌকায় শাহেদ একা ভারতে পালাতে চেয়েছিলেন। তবে শাহেদকে গ্রেপ্তারের সময় নৌকার মাঝি সাতার কেটে পালিয়ে যান। শাহেদকে ভারতে পালাতে সাহায্য করছিলেন- বাপ্পী দালাল।

গ্রেপ্তারের সময় সাহেদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

প্রসঙ্গত, করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা এবং বাড়িতে থাকা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে সম্প্রতি র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের প্রথমে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৮ জনকে আটকের পর র‍্যাবের দলটি মিরপুরে রিজেন্টের অন্য শাখায় অভিযান পরিচালনা করে।

সেসময় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা এবং বাড়িতে থাকা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করত রিজেন্ট হাসপাতাল। এছাড়াও সরকার থেকে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টেস্ট করার অনুমতি নিয়ে রিপোর্টপ্রতি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকার করে আদায় করত তারা। এভাবে জনগণের সাথে প্রতারণা করে মোট তিন কোটি টাকার হাতিয়েছে রিজেন্ট। এই সমস্ত অপরাধ ও টাকার নিয়ন্ত্রণ রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ নিজে করতেন অফিসে বসে।

সারোয়ার আলম আরেও বলেন, রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকেই এই অপকর্মগুলো হতো বিধায় এটি সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের স্থানান্তর করে হাসপাতাল দুটিও সিলগালা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় আটককৃত ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শাহেদসহ ৯ জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন- রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ (৪৩), ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজ (৪০), অ্যাডমিন আহসান হাবীব (৪৫), এক্সরে টেকনিশিয়ান হাসান (৪৯), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হাকিম আলী (২৫), রিসিপশনিস্ট কামরুল ইসলাম (৩৫), রিজেন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট অ্যাডমিন রাকিবুল ইসলাম (৩৯), রিজেন্ট গ্রুপের এইচআর অ্যাডমিন অমিত অনিক (৩৩), গাড়িচালক আব্দুস সালাম (২৫), নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ খান জুয়েল (২৮), হাসপাতালের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম (৩৩), স্টাফ আব্দুর রশিদ খান (২৯), স্টাফ শিমুল পারভেজ (২৫), কর্মচারী দীপায়ন বসু (৩২) এবং মাহবুব (৩৮)। দু`জনের নাম জানা যায়নি।


সম্পাদনা: তাহের রাব্বী

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status