হ্যাঁ পাঠক আপনি শিরোনাম ঠিকই পড়েছেন। এক কাপ কফি বানাতে দরকার প্রায় ১৪০ লিটারের মতো পানি! কিন্তু আমরা তো জানি এক কাপ কফির জন্য খালি এক কাপ পানি হলেই হয়, তাহলে ১৪০ লিটার পানি কোথা থেকে আসলো? চলুন তাহলে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক-
পৃথিবীতে যে পরিমান পানি আছে তার মধ্যে মাত্র এক ভাগ রয়েছে মিঠা পানি। আর এই একভাগ পানি মধ্যে ৭০ শতাংশ খরচ হয় কৃষিকাজে। কৃষির উপখাত বিবেচনা করলে সবচেয়ে বেশি পানি খরচ হয় মাংস, পোল্ট্রি ও বাদাম উৎপাদনে। এক কেজি গরুর মাংস উৎপাদনে গড়ে ১৫ হাজার ৪১৫ লিটার পানি খরচ হয়। এর বড় অংশই ব্যবহার হয় পশুখাদ্য উৎপাদনে। তুলনামূলক কম পানি লাগে ফল উৎপাদনে। একটি আপেল পেতে ব্যয় হয় ৭০ লিটার পানি। তবে আপেলটিকে এক গ্লাস জুসে পরিণত করতে দরকার হয় ১৯০ লিটার পানি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় জানা গেছে- হন্ডুরাস, কলম্বিয়া, গুয়েতেমালা, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম এবং ইথিওপিয়ার মতো উচ্চমাত্রায় কফি উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের কফির বীজ রোপন থেকে শুরু করে কাপে আসা পর্যন্ত ১৪০ লিটার পানি খরচ করে। বিশেষভাবে কফি উৎপাদনের জন্য এর পরিমানটাও বেড়ে যায়।
শুধু এখানেই শেষ নয়, এফএও’র তথ্য অনুযায়ী- এক কেজি চিনি উৎপাদনে দরকার হয় ১৯৭ লিটার পানি, সবজি উৎপাদনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২২ লিটারে। বিভিন্ন ধরনের কেজি পরিমাণ ফল উৎপাদনে পানি ব্যবহার হয় ৯৬২ লিটার, ডাল উৎপাদনে লাগে ৪ হাজার ৫৫ লিটার। প্রতি কেজি বাদাম উৎপাদনে ৯ হাজার ৬৩ লিটার, দুধ উৎপাদনে ১ হাজার ২০ লিটার, ডিম উৎপাদনে ব্যয় হয় ৩ হাজার ২৬৫ লিটার পানি। এ ছাড়া এক কেজি ঘিয়ের পেছনে পানি খরচ হয় ৫ হাজার ৫৫৩ লিটার।
ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে পানি যেহেতু অসীম নয়, তাই কৃষি, শিল্প ও ভোক্তার পানির চাহিদা মেটানোও টেকসই নয়। আবার বিশ্বে জনসংখ্যাও বাড়ছে। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯৮০ কোটি। তখন বিদ্যমান পানি ও অন্যান্য সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।
চিন্তা করুনতো যদি আপনার বাড়িতে একদিন পানি না থাকে তাহলে কী হবে? পানি কতোটা মুল্যবান তা উপলদ্ধি করতে হবে। তাই আসুন সময় শেষ হওয়ার আগেই আমরা পানি ব্যবহারে সচেতন হই।