ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
আম্পান, কেড়েছে ঘর মেরেছে মানুষ, মৃত্যু ১০
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 21 May, 2020, 2:29 PM

আম্পান, কেড়েছে ঘর মেরেছে মানুষ, মৃত্যু ১০

আম্পান, কেড়েছে ঘর মেরেছে মানুষ, মৃত্যু ১০

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে প্রাথমিকভাবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১০ জন মারা যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমাজের্ন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম।  তবে এর মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।  হেলথ ইমাজের্ন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।  নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় জানা গেছে তাদের মধ্যে পটুয়াখালীর কলপাড়ায় সৈয়দ শাহ আলম (৫৪) নামে এক স্বেচ্ছাসেবী নৌকাডুবে মারা যান। গাছচাপা পড়ে মারা গেছে একই জেলার গলাচিপার পানপট্টি এলাকার রাশেদ (৫) ও ভোলার চরফ্যাশনের মো.সিদ্দিক ফকির (৭২)। ট্রলারডুবে মারা গেছেন ভোলার বোরহানউদ্দিনের রফিকুল ইসলাম (৩৫)। এ ছাড়া দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার শাহজাহান মোল্লা (৫৫)। আর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সালাউদ্দীন (১৬) নামে একজন মারা গেছেন।  এ ছাড়া যশোরের চৌগাছায় দুজন, সাতক্ষীরায় একজন ও ঝিনাইদহে একজন মারা গেছেন।  ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া আমফান এক পর্যায়ে শক্তি বাড়িয়ে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছিল৷ বঙ্গোপসাগরের এ শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোন ছিল এটি৷ কিন্তু উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে আসতে কিছুটা শক্তি হারিয়ে তা আবার অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়৷

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় এ বছর ২১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ৪ হাজার ৮০০ আম চাষির প্রায় ৭ হাজার বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৫ মেট্রিক টন। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ৮৫ হাজার আম ঝরে পড়েছে। ভরা মৌসুমে আমের দাম ৪০ টাকা কেজি ধরলে এর দাম প্রায় ১০০ কোটি টাকা।  জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৬০ ভাগেরও বেশি আম উৎপাদন হয় পোরশা ও সাপাহার উপজেলায়।  সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি সাইফুর রহমান বলেন, ৪০ বিঘা জমির ওপর তার চারটি বাগান রয়েছে। ঝড়ে বাগানের তিন হাজার গাছের অর্ধেক আম পড়ে গেছে। বেশ কিছু গাছ ঝড়ে পড়ে গেছে। ঝরে পড়া আম ৩-৪ টাকা কেজির বেশি বিক্রি হবে না। যেসব আম ফেটে গেছে, সেসব কেউ কিনবে না।
সাপাহার উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, সাপাহারে এবার ৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে।  এমনিতেই এবার বাগানগুলোতে আম কম ধরেছিল। তারওপর এই ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো নিরূপণ করা যায়নি, তবে কিছু বাগান পরিদর্শন করে ধারণা হচ্ছে, আম গাছের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ আম পড়ে গেছে।

আমফান বাংলাদেশে আঘাত হানার আগেই উপকূলের বিপদজনক এলাকা থেকে প্রায় ২৪ লাখ মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়৷ কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপকূলীয় এলাকার স্কুল-কলেজ ভবনও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে৷ পাঁচ লাখের বেশি গাবাদীপশুকেও নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে৷ ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খুলনা বিভাগের উপকূলীয় এলাকার।  বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে লক্ষাধিকের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  সিডর ও আইলায় বিধ্বস্ত হওয়া এলাকায় ফের  আম্ফান আঘাত হেনেছে।  গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রবল গতিতে খুলনাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে আম্ফান।  রাতভর চলে ঝড়ের তাণ্ডব। শক্তিশালী এ ঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় গোটা এলাকা। ঝড়ের তাণ্ডবে সন্ধ্যা থেকে খুলনায় বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে প্রায় সব এলাকা।  ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শহরসহ গোটা উপকূলজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। পুরো ভূতুড়ে পরিবেশে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান তাণ্ডব চালায়। ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বেড়ে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ও ফসলি জমি। এছাড়া হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে গোটা উপকূলীয় অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতক্ষীরা জেলা।  ঝড়ের আঘাতে সাতক্ষীরা সদর থানার কামালনগরে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচা ঘর-বাড়ির। ভেঙেছে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি।  বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া যশোরের চৌগাছা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে গাছ পড়ে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- চৌগাছার চাঁদপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী খ্যান্ত বেগম ও তার কিশোরী মেয়ে রাবেয়া খাতুন।  ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপকূলীয় এলাকায় ঢুকে পড়েছে।  এখন উপকূল অতিক্রম করছে।' 'উপকূলীয় এলাকার এক লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দাকে আমরা নিরাপদ আশ্রয়ে সড়িয়ে নিয়েছি।  এদিকে, খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের অগ্রভাগ সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আঘাত হেনেছে। ওই এলাকায় বর্তমানে বাতাসের গতিবেগ ৬০-৭০ কিলোমিটার।  খুলনার উপকূলীয় এলাকার ২ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তবে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাননি তিনি।

এর আগে, বুধবার সকাল ৬টায় মোংলা ও পায়রাসমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়।  খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর,বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় রয়েছে। বুধবার সারা রাত ধরে আম্পান সুন্দরবন উপকূল অতিক্রম করবে।বরিশালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এবার ব্যাপক কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও বেশকিছু কাঁচা ঘর-বাড়ির সঙ্গে ফসল, বিদ্যুৎ ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন।  জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বরিশালের একাধিক জায়গায় বিদ্যুতের পোস্ট ভেঙে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। তবে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৭টা থেকে এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।  ৯৫ ভাগ জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।  এদিকে বরিশালের জেলা প্রশাসক জানান, বিদ্যুৎ, কাঁচা ঘর-বাড়ি, বেড়িবাঁধ, মৎস্য ও কৃষি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।  এদিকে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।  এর মধ্যে গাছচাপা পরে দুজন, নৌকা ডুবিতে দুজন এবং দেয়ালচাপা পড়ে একজন মারা গেছেন। বিভাগে মোট ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৩ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন।  এছাড়া ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৪টি গবাদি পশু আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল।  ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষায় ঊপকূলের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নেওয়া ১৪ লাখের বেশি মানুষের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে স্বাস্থ্যকর্মীদের এক হাজার ৯৩৩টি দল কাজ করছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।  মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য দেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রামে এক হাজার ২১২টি, খুলনায় ৩০৩টি ও বরিশালে ৪১৮টি স্বাস্থ্য টিম রয়েছে।  এই টিমগুলো আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ১৪ থেকে ২০ লাখ মানুষের ওষুধ সরবরাহসহ জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করবে।  স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) হাবিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে   সমসাময়িক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সর্বাধিক আলোচিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন।


বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া ভয়াবহ ৫ ঘূর্ণিঝড়
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬০ সাল থেকে ২০০৭ সালে সিডরের পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়গুলোকে 'সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম' বা প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  ২০০৭ সালে প্রথম স্পষ্ট নামকরণ করা হয়। ২২৩ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা এবং ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসে নিয়ে আসা সেই ঘূর্ণিঝড় ছিল সিডর যাকে সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম উইথ কোর অব হারিকেন উইন্ডস (সিডর) নাম দেয়া হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করা হয় ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়কে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক শাহ আলম বলেন, সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ছিল ১৯৭০ এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়। এরপরে তিনি সাইক্লোন সিডরের কথা উল্লেখ করেন।
১৯৭০ এর ঘূর্ণিঝড়: ১৯৭০ সালের ১২ই নভেম্বর সবোর্চ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।
যে হিসেব পাওয়া যায় তাতে ১৯৭০ এর সালের প্রবলতম ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়। সেসময় ১০-৩৩ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল এবং অসংখ্য গবাদি পশু এবং ঘরবাড়ি ডুবে যায়।  সাবেক পরিচালক শাহ আলম বলেন, অনেকে মনে করেন মৃতের সংখ্যা আসলে ৫ লাখেরও বেশি ছিল।  তিনি বলেন, "৭০ এর সাইক্লোন থেকেই মূলত মোটামুটিভাবে মনিটর করা শুরু হয়। সেই ঘূর্ণিঝড়টা সরাসরি বরিশালের মাঝখান দিয়ে উঠে আসে। ভোলাসহ অনেক এলাকা পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।" ১৯৮৫ সালের ঘূর্ণিঝড়: উরিরচরের ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত এই সাইক্লোনটি যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৫৪ কিলোমিটার। আলম বলেন, "এটা অল্প জায়গায় হয়েছে ফলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি ছিল না"। ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়: নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ১২-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২২৫ কিলোমিটার।  ১৯৯১ সালের ২৯-৩০ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেয়া হয় 'শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়' হিসেবে যাতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানা যায়। যদিও বেসরকারি সংগঠনের দাবি অনেক মাছধরার ট্রলার সাগরে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন আরও অনেকে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক কোটি মানুষ।
আবহাওয়া বিভাগের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, "এই সাইক্লোনে অনেক পানি হয়েছিল। অনেক মানুষ মারাও গিয়েছে। যদিও পূর্বাভাস ভালো ছিল, ২৭ ঘণ্টা আগে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ৬ ঘণ্টা ধরে স্থলভাগে আসে এবং তাণ্ডব চালায় এই সাইক্লোনটি।" তিনি বলেন, "সাধারণত ২/৩ ঘণ্টার বেশি সাইক্লোন থাকে না। কিন্তু এটি ছয়-ঘণ্টার বেশি সময় বাতাস বইতে থাকে"।  শাহ আলম জানান, ২২৪ কিলোমিটার বেগে আসা এই ঘূর্ণিঝড়ে তেলের ট্যাংকার পর্যন্ত ওপরে উঠে গিয়েছিল।
ঘূর্ণিঝড় সিডর: ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার।





পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status