ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬ ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
দেশের টানে
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 28 April, 2020, 11:26 AM

দেশের টানে

দেশের টানে

নিজেকে ‘থার্ড কালচার কিড’ বলতে ভালোবাসেন মাবুদা জামেউন নেসা। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও পিতার কর্মসূত্রে শৈশব কেটেছে নরওয়েতে। এরপর মা-বাবার হাত ধরে মালয়েশিয়ায় চলে যাওয়া। দেশকে জানতে মালয়েশিয়ায় পড়ালেখা করা এই শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ করতে এসেছেন বাংলাদেশে। তাঁর কথা জানাচ্ছেন মোবারক আজাদ

ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার (আইআইইউএম) ব্যবসা প্রশাসনের এই ছাত্রীর অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ। পৃথিবীর নানা দেশে বসবাস, ঘোরাঘুরি ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুবর্ণ সুযোগ তিনি পেয়েছেন। তাই নিজেকে একক কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে ভাবতে চান না। তবু একটি দেশের প্রতি এক অদ্ভুত মায়া জন্ম নিয়েছে তাঁর মনে। বাংলাদেশ। পরিবারের কাছে দেশের কথা জেনেছেন তিনি। দেশকে ভালোভাবে জানতে, দেশের মানুষকে চিনতে, সংস্কৃতি বুঝতে তিনি ঠিক করলেন, কিছু দিনের জন্য হলেও ফিরবেন। চাইলে মালয়েশিয়ায় কিংবা অন্য কোনো দেশে যেতে পারতেন আন্ডার গ্র্যাজুয়েটের ইন্টার্নশিপ করতে। তিনি বরং চলে এলেন এই ভূখণ্ডে। বেছে নিলেন চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিকে (ইডিইউ)।

মাবুদা বললেন, ‘স্ক্যান্ডিনেভীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আর বঙ্গীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে আমার সাংস্কৃতিক পরিচয়। বিশ্বায়নের এ যুগে বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জোয়ার যখন তুঙ্গে, তখন এই সংমিশ্রণ আমাকে নানাভাবে উপকৃত করে, আলাদা করে তোলে অন্যদের তুলনায়। তার পরও নিজের পরিবারের বাইরে বাঙালি সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকায় আগ্রহের পাশাপাশি কাজ করছিল উত্কণ্ঠাও। খাপ খাইয়ে নিতে পারার চ্যালেঞ্জ আমি সব সময় উপভোগ করলেও সামাজিক রীতি-নীতি ও ভাষাগত জ্ঞানের অপারদর্শিতার বিষয়ে আগে থেকেই সচেতন ছিলাম।’

তিন মাসের ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বললেন, ‘চট্টগ্রামে পড়তে আসা আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ক্যাম্পাসের সবার কাছ থেকে নিঃশর্ত সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। আর তা আমাকে করে তুলেছে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী। বাংলা আমি বলতে পারি না; ঠিকমতো বুঝিও না। তাই বলে ক্যাম্পাসে কেউ আমাকে নিয়ে কখনো হাসাহাসি করেনি। বরং সবাই যতটা সম্ভব ইংরেজিতে কথা বলেছে। আবার সহপাঠীদের কেউ কেউ বাংলা বুঝিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে এখানে পড়তে এসে মনটা ভরে গেছে আমার। কেননা আমি বুঝতে পেরেছি, এ দেশের মানুষ কত আন্তরিক এবং বন্ধুপরায়ণ।’

এদিকে মাবুদার উপস্থিতি সম্পর্কে ইডিইউর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান বললেন, ‘বর্তমান সময়ে পৃথিবী অনেক বেশি সুসংবদ্ধ ও সংযুক্ত। তাই বহুমাত্রিক যোগাযোগে সক্ষমতা অর্জন করতে হয়। কসমোপলিটন দেশগুলোর বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক আবহ এ ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ খুব একটা পায় না। তাই ইডিইউর শিক্ষার্থীদের আমরা ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট এক্সপেরিয়েন্স দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমাদের দেশে আসাটাও প্রয়োজন। তাই মাবুদা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসায় আমাদের শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হয়েছে।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status