বউ সাজা হবে না, করোনায় মরবেন; পরিবার থেকে বিদায় নিলেন তরুণী চিকিৎসক!
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 2 April, 2020, 5:11 PM
বউ সাজা হবে না, করোনায় মরবেন; পরিবার থেকে বিদায় নিলেন তরুণী চিকিৎসক!
করোনার মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হাসপাতালের বেড খালি নেই। এক ভেন্টিলেটরে শ্বাস নিচ্ছে দুটি প্রাণ। ডাক্তার, নার্সরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে চলেছেন সবাইকে বাঁচাতে। অনেককেই আবার বাঁচাতে না পেরে ভেঙে পড়ছেন তারা। সব মিলিয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সেখানে। প্রতিক্ষণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। চোখের পলকে মৃতের সংখ্যাটা পরিবর্তিত হচ্ছে। চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন ডাক্তার-নার্সরা।
একজন তরুণী মার্কিন ডাক্তার তো পরিবাররের কাছ থেকে চূড়ান্ত বিদায় নিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গেছেন। তিনি শেষ বার্তায় বলেছেন, হয়তো ব্রিটিশ বাগদত্তাকে বিয়ে করার আগে তার জীবন করোনায় শেষ করে দেবে।
৩০ বছর বয়সী মেডিসিনের ডাক্তার ডিনা এলকাফ্রাভি, নিউইয়র্ক সিটিতে তার বাড়ি। সেখানকার ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব দেখে এতটাই আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন যে তিনি মারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
ডিনা ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেট্রোকে বলেছিলেন যে, এই অক্টোবরেই যুক্তরাজ্যে ৩৫ বছর বয়সী ব্রিট রিচার্ড বেইলিকে বিয়ে করবেন তিনি। তবে তিনি উদ্বিগ্ন যে এতদিন তিনি বেঁচে থাকতে পারবেন কি-না। তার আশঙ্কা করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তার মৃত্যু ঘটবে। এজন্য তিনি প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন।
বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি বিশ্বব্যাপী কোভিড -১৯ মহামারির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে। সেখানে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ২১৯। আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৯০১। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি বিশ্বের আর কোন একক শহরে হয়নি।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডীনা নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের লিংকন মেডিকেল সেন্টারে মাতৃত্বকালীন যত্নে সিনিয়র রেজিস্ট্রার হিসাবে কাজ করেন।
নিউইয়র্কে করোনার ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাবে তাকে হাসপাতালের কোভিড -১৯ ওয়ার্ডে টানা ১২ ঘণ্টা কাজ করতেএ হচ্ছে। চোখের সামনে শত শত মানুষের মৃত্যু দেখে ডিনার উপলব্ধি যে, চিকিৎসকরা এই রক্তহীন যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন।
আমি ভীত হয়ে পড়েছি, আমার আশঙ্কা কাজ করতে গিয়ে এটা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি কেবল প্রার্থনা করতে পারি, কিন্তু অদৃশ্য এই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি না। আমি আমার পরিবারকে জীবনের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছি এবং আমি জানি না যে আমি আর কখনও আমার পরিবারের সদস্যদের দেখতে পাবো কি-না।